অসুস্থ বাবাকে দেখতে বিশ্বকাপের মাঝে তড়িঘড়ি করে বাড়ি ফিরেছিলেন রিংকু সিং। অবশেষে জীবনযুদ্ধে হার মানলেন রিংকুর বাবা খানচাঁদ সিং। ক্যানসারে আক্রান্ত খানচাঁদ মারা গেছেন।
লিভার ক্যানসারের চার নম্বর পর্যায়ে থাকা খানচাঁদ আজ সকালে চলে গেলেন না ফেরার দেশে।গ্রেটার নয়ডার যথর্থ হাসপাতালে রিংকুর বাবার চিকিৎসা চলছিল। ২৪ ফেব্রুয়ারি তিনি বিশ্বকাপের দল ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন তাঁর বাড়ি আলীগড়ে। কিন্তু রিংকুর বাবা খানচাঁদের অবস্থা আগেই অনেক খারাপ ছিল। ভারতীয় বাঁহাতি ব্যাটার বাড়ি পৌঁছানোর তিন দিনের মধ্যেই বাবা হারালেন তিনি।
রিংকুর বাবার মৃত্যুতে শোকবার্তা দিয়েছেন হরভজন সিং। নিজের অফিশিয়াল এক্স হ্যান্ডলে হরভজন লিখেছেন, ‘রিঙ্কু সিংয়ের বাবা শ্রী খানচাঁদ সিংয়ের মৃত্যু সংবাদ শুনে খুবই ব্যথিত। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সময় সে তার দায়িত্ব পালনে ছিল প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। রিঙ্কু ও তার পরিবারের জন্য এটা ভীষণ কঠিন সময়।আমার চিন্তাভাবনা এবং প্রার্থনা তার এবং তার প্রিয়জনদের সঙ্গে রয়েছে। সৃষ্টিকর্তা তাঁর আত্মাকে চির শান্তি দান করুন এবং শোকাহত পরিবারকে শক্তি ও সাহস দিন।’
২০২৩ আইপিএলে গুজরাট টাইটানসের পেসার যশ দয়ালকে পাঁচ ছক্কা মেরে কলকাতা নাইট রাইডার্সকে অকল্পনীয় এক ম্যাচ জিতিয়ে ‘লাইমলাইটে’ আসেন রিংকু। দ্রুতই তিনি জায়গা করে নেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে। ভারতের টি-টোয়েন্টি দলের অপরিহার্য অংশ হয়ে যান তিনি। তবে আজ এই পর্যায়ে আসতে রিংকুকে অনেক চড়াই উতরাই পার হতে হয়েছে। আলীগড়ে এলপিজি সিলিন্ডারের ডেলিভারিম্যান হিসেবে কাজ করতেন রিংকুর বাবা খানচাঁদ। আর্থিক অনটন স্বত্ত্বেও ছেলে রিংকুর ক্রিকেটার হওয়ার জন্য যারপরনাই চেষ্টা করেছিলেন।
মঙ্গলবার আলীগড়ে গিয়ে গতকাল রিংকু যথাসময়ে পৌঁছান চেন্নাইয়ের এমএ চিদাম্বরম স্টেডিয়ামে। তবে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে একাদশে তাঁর সুযোগ মেলেনি। রিংকুর পরিবর্তে খেলেছেন সঞ্জু স্যামসন। টস হেরে আগে ব্যাটিং পাওয়া ভারত নির্ধারিত ২০ ওভারে ৪ উইকেটে ২৫৬ রান করেছে। জিম্বাবুয়েকে ৭২ রানে হারিয়ে সেমির আশা বাঁচিয়ে রাখল ভারত। পরশু সুপার এইটের গ্রুপ ওয়ানের অলিখিত কোয়ার্টার ফাইনালে মুখোমুখি হবে ভারত-ওয়েস্ট ইন্ডিজ। বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিটে কলকাতার ইডেন গার্ডেনসে শুরু হবে এই ম্যাচ।