ঈদের ছুটি শেষে ফের শুরু হবে দেশের ফুটবল নিয়ে উন্মাদনা। নারী অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপ, ছেলেদের অনূর্ধ্ব-২০ সাফ, জাতীয় দল—বাংলাদেশের সব ফুটবল দলই মাঠে নামছে। যার মধ্যে জাতীয় দলের দুটি ম্যাচ রয়েছে ভিয়েতনাম ও সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে। শমিত শোম এখন এই দুই ম্যাচকে ‘পাখির চোখ’ করেছেন।
২৬ মার্চ প্রীতি ম্যাচে ভিয়েতনামের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। এই ম্যাচ শেষ হওয়ার এক সপ্তাহের মধ্যে হামজা চৌধুরী-শমিতরা খেলবেন সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে। বাংলাদেশ-সিঙ্গাপুর ম্যাচটি এএফসি এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বের অন্তর্ভুক্ত। ভিয়েতনাম-সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে দুটি ম্যাচই বাংলাদেশের জন্য অ্যাওয়ে ম্যাচ। এই দুই দলের বিপক্ষে বাংলাদেশ কখনোই জিততে পারেনি। আজ কিংস অ্যারেনায় সাংবাদিকদের শমিত বলেন, ‘প্রথম ফোকাস হলো ভিয়েতনাম, তারপর নেক্সট ফোকাস হলো সিঙ্গাপুর। এরপর জুন উইন্ডো তারপরে সব সাফ লিডিং করতে। তবে এখন আমরা নিজেদের গর্বের জায়গা থেকে খেলছি। আমরা যদি দ্বিতীয় হতে পারি, সিঙ্গাপুরকে হারাতে পারি, ভিয়েতনামকেও হারাইতে পারি, তারা এশিয়ান কাপে যাচ্ছে। তাই আমরা যদি তাদের হারাতে পারি, সেটা একটা গুড স্টেটমেন্ট বাংলাদেশ ফুটবলের জন্য।’
র্যাঙ্কিংয়েও বাংলাদেশের চেয়ে তারা অনেক এগিয়ে সিঙ্গাপুর-ভিয়েতনাম। ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশ অবস্থান করছে ১৮০ নম্বরে। ভিয়েতনাম ও সিঙ্গাপুরের অবস্থান ১০৮ ও ১৪৮। শমিতের মতে তাদের (ভিয়েতনাম-সিঙ্গাপুর) বিপক্ষে জয় পেলে এশিয়ান ফুটবলে বাংলাদেশ সমীহ জাগানিয়া দল হয়ে উঠবে। সাংবাদিকদের আজ তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ হ্যাঁ অবশ্যই। সেটা হলো একটা সমীহর ব্যাপার। আমরা যে ভিয়েতনামের সঙ্গে খেলছি, বাফুফে একটা ভালো কাজ করেছে। কারণ, ভিয়েতনাম ভালো অবস্থানে আছে। আমাদের জন্য একটা খুব ভালো পরীক্ষা হবে। আসল ব্যাপার হলো এশিয়া ফুটবলে একটু সমীহ আদায় করে নিতে পারব। আমরা যদি তাদের সঙ্গে জিততে পারি, সিঙ্গাপুরকেও যদি হারাতে পারি তাহলে আমাদের নামটা আরেকটু বড় হবে এশিয়ান ফুটবলে।’
শেষ মুহূর্তে গোল হজম করে বাংলাদেশের হারের ঘটনা ঘটেছে অনেকবার। গত বছরের অক্টোবরে হংকংয়ের বিপক্ষে জাতীয় স্টেডিয়ামে নিশ্চিত ড্র হওয়া ম্যাচ হেরে গেছে বাংলাদেশ। রেফারির শেষ বাঁশি বাজার অল্প কিছুক্ষণ আগেই গোল হজম করেছে স্বাগতিকেরা। কিছুক্ষণ আগেও যেখানে জাতীয় স্টেডিয়ামে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ, শেষ মুহূর্তে সেখানের পরিবেশ নিস্তব্ধ হয়ে ওঠে। সেই ম্যাচে শমিত এক গোলও করেছিলেন।
শমিতের মতে জিততে হলে দলের সব অংশই শক্তিশালী থাকতে হয়। ২৮ বছর বয়সী বাংলাদেশের এই সেন্ট্রাল মিডফিল্ডার বলেন, ‘সব দিক থেকেই আমরা তো উন্নতি করতে পারি, তাই না? পুরো খেলা তো শুধু এক পক্ষ জেতাতে পারে না। শুধু রক্ষণের দিক থেকে, শুধু আক্রমণের দিক থেকে... সবকিছু এক সঙ্গে ম্যাচে থাকতে হয়। তবে জানি যে সাফ আসছে। সেরা প্রস্তুতি নিতে হবে ম্যাচ বাই ম্যাচ খেলে।’
১১ পয়েন্ট নিয়ে এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বে ‘সি’ গ্রুপের শীর্ষে সিঙ্গাপুর। দুই, তিন ও চারে থাকা হংকং, বাংলাদেশ ও ভারতের পয়েন্ট ৮, ৪ ও ৫। প্রত্যেকেই পাঁচটি করে ম্যাচ খেলেছে। যেখানে গত বছরের নভেম্বরে জাতীয় স্টেডিয়ামে ভারতকে ১-০ গোলে হারিয়েছিল বাংলাদেশ।
২৪ ও ২৮ মার্চ অনূর্ধ্ব-২০ সাফে পাকিস্তান ও ভারতের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। মেয়েদের অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপে বাংলাদেশের অভিযান শুরু হবে এপ্রিলে। ১, ৪ ও ৭ এপ্রিল থাইল্যান্ড, চীন ও ভিয়েতনামের বিপক্ষে খেলবে বাংলাদেশ।