হোম > বিজ্ঞান

পুরুষ পাখিরা ডিম পাড়ছে, ধন্দে পড়েছেন অস্ট্রেলিয়ার বিজ্ঞানীরা

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

এমনকি জেনেটিক বা জিনগতভাবে পুরুষ কুকাবুরাকে ডিম দিতে দেখা গেছে। ছবি: উইকিপিডিয়া

অস্ট্রেলিয়ার বন্য পাখিদের নিয়ে করা এক সাম্প্রতিক গবেষণায় উঠে এসেছে চমকপ্রদ তথ্য। গবেষণায় বলা হয়, এসব পাখিদের লিঙ্গ পরিবর্তনের ঘটনা পূর্বের ধারণার চেয়ে অনেক বেশি ঘটে। এমনকি জেনেটিক বা জিনগতভাবে পুরুষ কুকাবুরাকে ডিম পাড়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে, যা পাখিদের জগতে বিরল এবং এ ধরনের ঘটনার অন্যতম প্রথম প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ডে ইউনিভার্সিটি অব দ্য সানশাইন কোস্টের (UniSC) সহযোগী অধ্যাপক ও আচরণবিজ্ঞানী ড. ডমিনিক পটভিনের একটি গবেষণা প্রতিবেদন সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে। গত ১৩ আগস্ট বায়োলজি লেটারস সাময়িকীতে গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে।

গবেষক দলটি দক্ষিণ-পূর্ব কুইন্সল্যান্ডের পাঁচটি প্রজাতির প্রায় ৫০০টি পাখি পরীক্ষা করেন। এই পাঁচ প্রজাতি হলো অস্ট্রেলিয়ান ম্যাগপাই, লাফিং কুকাবুরা, ক্রেস্টেড পিজন, রেইনবো লরিকেট ও স্ক্যালি-ব্রেস্টেড লরিকেট।

এগুলো সবাই আহত বা অসুস্থ অবস্থায় বন্য প্রাণী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিল এবং মৃত্যুর পর তাদের শারীরিক ও জিনগত বিশ্লেষণ করা হয়।

গবেষণায় দেখা যায়, পরীক্ষিত পাখিদের প্রায় ৬ শতাংশের জেনেটিক লিঙ্গ এবং শারীরিক বৈশিষ্ট্যের মধ্যে অমিল ছিল। কিছু পাখি জেনেটিকভাবে পুরুষ হলেও ছিল স্ত্রী প্রজনন অঙ্গযুক্ত, আবার কিছু জেনেটিক মহিলা ছিল পুরুষ বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন। এমনকি কয়েকটি পাখির শরীরে একসঙ্গে ডিম্বাশয় ও অণ্ডকোষের মতো গঠনও পাওয়া যায়।

ড. ডমিনিক পটভিন বলেন, ‘আমাদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অনুসন্ধান ছিল—যেসব পাখির লিঙ্গ পরিবর্তন হয়েছিল, তাদের ৯২ শতাংশই জেনেটিকভাবে নারী ছিল, কিন্তু তাদের প্রজনন অঙ্গ ছিল পুরুষদের মতো।’

গবেষণায় সবচেয়ে চমকপ্রদ ঘটনা ছিল, একটি জেনেটিকভাবে পুরুষ কুকাবুরার ডিম পাড়ার প্রমাণ। ওই পাখির ওভিডাক্ট (স্ত্রী প্রাণীদের প্রজননতন্ত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ) ফুলে ছিল এবং ডিম্বাণু ধারণকারী ফোলিকল ছিল বড়, যা সাম্প্রতিক ডিম উৎপাদনের ইঙ্গিত দেয়।

পুপলার সায়েন্সকে পটভিন বলেন, ‘এটি ইঙ্গিত করে যে বন্য পাখিদের লিঙ্গ নির্ধারণ ব্যবস্থাটি আমাদের ধারণার চেয়ে বেশি নমনীয় এবং এটি প্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায়ও পরিবর্তিত হতে পারে।’

গবেষকরা সতর্ক করছেন, এই ধরনের লিঙ্গের অমিল পাখি সংরক্ষণ ও জনসংখ্যা গবেষণায় সমস্যা তৈরি করতে পারে। কারণ, ডিএনএ, পালক কিংবা আচরণের ভিত্তিতে পাখির লিঙ্গ নির্ধারণ করলে প্রায় ৬ শতাংশ ক্ষেত্রে ভুল হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

বিশেষ করে যেসব পাখি বিলুপ্তপ্রায়, তাদের ক্ষেত্রে এই ধরনের ভুল লিঙ্গ নির্ধারণ প্রজনন হার এবং জনসংখ্যার ভারসাম্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

যে কারণে লিঙ্গ পরিবর্তন হয়

গবেষণায় পাখিদের লিঙ্গ পরিবর্তনের কারণ পরিষ্কারভাবে নির্ধারণ করা যায়নি। তবে বিজ্ঞানীরা ধারণা করছেন, পরিবেশগত কিছু উপাদান, যেমন স্ট্রেস হরমোন বা হরমোন-বিনষ্টকারী রাসায়নিকের প্রভাব থাকতে পারে।

উল্লেখযোগ্যভাবে, ডিম পাড়া পুরুষ কুকাবুরাটি আধা-নগরায়িত এলাকায় পাওয়া যায়, যেখানের পরিবেশে এসব রাসায়নিক পদার্থের উপস্থিতি বেশি হতে পারে।

মাছ, উভচর ও সরীসৃপ প্রাণীদের মধ্যে এই ধরনের লিঙ্গ পরিবর্তনের ঘটনা ইতিমধ্যে ব্যাপকভাবে প্রমাণিত। তবে পাখিদের ক্ষেত্রে এটি অত্যন্ত বিরল এবং প্রচলিত লিঙ্গ নির্ধারণ পদ্ধতিকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে।

তথ্যসূত্র: এনডিটিভি

তুরস্কের প্রস্তর যুগের জনপদে ১১ হাজার বছর আগের মানুষের গল্প

ইউক্রেনকে সহায়তাকারী মার্কিন স্যাটেলাইটের কাছাকাছি গেল রুশ মহাকাশযান, নতুন সক্ষমতার প্রমাণ দিল রাশিয়া

মঙ্গলের চাঁদে প্রথমবার যাচ্ছে মহাকাশযান, পাঠাচ্ছে জাপান

প্রাণের বিকাশের জন্য পৃথিবী নিখুঁত নয়, মহাবিশ্বে আছে অতি-বাসযোগ্য গ্রহ: গবেষণা

এআই ও পারমাণবিক যুদ্ধে ২১০০ সালের মধ্যে মানবজাতি বিলুপ্তির শঙ্কা, ল্যানসেটের প্রতিবেদন

মঙ্গল গ্রহে ভোরবেলার ছবি তুলল ‘কিউরিওসিটি’

আণবিক প্রতিবিম্ব ধাঁধা মিলিয়ে রসায়নে নোবেল পেলেন অঁরি কাগান ও কেনসো সোয়াই

জ্যোতির্বিজ্ঞানের নতুন ধারার ভিত্তি তৈরি করে পদার্থে নোবেল পেলেন ফ্রান্সিস হালজেন

আলোয় মস্তিষ্ক নিয়ন্ত্রণের কৌশল উদ্ভাবনে চিকিৎসায় নোবেল পেলেন ৩ বিজ্ঞানী

এক দেশেই ২৯৬ প্রজাতির গিরগিটি, নতুন আবিষ্কার আরেকটি