হোম > বিজ্ঞান

‘প্লাগ-ইন সোলার’—বিদ্যুতের সহজ সমাধান, নাকি নতুন ঝুঁকি

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

ছবি: নিওসায়েন্টিস্ট

বিশ্বজুড়ে সৌরশক্তির বিস্তার এখন এক অভূতপূর্ব গতিতে এগোচ্ছে। গত ১৫ বছরে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের খরচ প্রায় ৯০ শতাংশ কমে এসেছে এবং বর্তমানে বিশ্বের নতুন বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতার ৮০ শতাংশেরও বেশি সৌরশক্তি থেকে আসছে। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের কারণে তেল-গ্যাসের দাম বেড়ে যাওয়ায় অনেক দেশ বিকল্প হিসেবে সৌরশক্তির দিকে ঝুঁকেছে। এই প্রেক্ষাপটে নতুন এক ধারণা ‘প্লাগ-ইন সোলার’ বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে।

প্লাগ-ইন সোলার প্যানেল মূলত একটি সহজ ও সস্তা বিকল্প—যেখানে ব্যবহারকারী নিজেই প্যানেল কিনে বাড়ির বারান্দা, ছাদ বা বাগানে বসিয়ে সরাসরি বিদ্যুতের সকেটে সংযোগ দিতে পারেন। এতে পেশাদার ইনস্টলেশনের প্রয়োজন নেই, ফলে খরচও অনেক কম। যুক্তরাজ্যে যেখানে একটি ৪ কিলোওয়াটের প্রচলিত সৌর সিস্টেম বসাতে প্রায় ৭ হাজার পাউন্ড খরচ হয়, সেখানে একটি ৮০০ ওয়াটের প্লাগ-ইন সিস্টেম মাত্র ৪০০ পাউন্ডেই পাওয়া যেতে পারে। এটি একটি পরিবারের গড়ে প্রায় ২০ শতাংশ বিদ্যুৎ চাহিদা মেটাতে সক্ষম।

তবে এই প্রযুক্তির সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। প্লাগ-ইন সোলার ব্যবহারে অতিরিক্ত উৎপাদিত বিদ্যুৎ গ্রিডে ফিরে গেলেও ব্যবহারকারী এর জন্য অর্থ পান না। বরং সেই বিদ্যুৎ আশপাশের অন্য বাড়িতে ব্যবহৃত হয়। তবুও, ব্যক্তিগত পর্যায়ে বিদ্যুৎ বিল কমাতে এটি কার্যকর হতে পারে এবং সম্মিলিতভাবে একটি দেশের নবায়নযোগ্য শক্তির সক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করতে পারে।

এ বিষয়ে এক প্রতিবেদনে বিজ্ঞান সাময়িকী ‘নিওসায়েন্টিস্ট’ জানিয়েছে, ইউরোপে ইতিমধ্যে এই প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ছে। জার্মানিতে ২০২৫ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত ১০ লাখেরও বেশি প্লাগ-ইন সোলার সিস্টেম নিবন্ধিত হয়েছে, যার সম্মিলিত ক্ষমতা ১.৬ থেকে ২.৪ গিগাওয়াট। অনুমান করা হচ্ছে, পুরো ইউরোপে প্রায় ৫০ লাখ এমন সিস্টেম ব্যবহার হচ্ছে। গবেষকদের মতে, ছোট ছোট এই সিস্টেমগুলো একত্রে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

তবে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগও কম নয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনেক বাড়ির বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় ব্যবহৃত রেসিডুয়াল কারেন্ট ডিভাইস (আরসিডি) দ্বিমুখী বিদ্যুৎ প্রবাহের জন্য উপযোগী নয়। ফলে এটি ঠিকমতো কাজ নাও করতে পারে এবং বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এ ছাড়া বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সময় যদি একাধিক প্লাগ-ইন সিস্টেম চালু থাকে, তাহলে ‘আইসল্যান্ডিং’ নামে একটি বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে, যেখানে গ্রিড বন্ধ থাকলেও কিছু বাড়িতে বিদ্যুৎ প্রবাহ চালু থাকে। এতে মেরামতকর্মীরা মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়তে পারেন।

এই উদ্বেগের পরিপ্রেক্ষিতে যুক্তরাজ্য সরকার জানিয়েছে, প্লাগ-ইন সোলার পণ্য বাজারে আনার আগে কঠোর নিরাপত্তা মানদণ্ড নিশ্চিত করা হবে এবং ইতিমধ্যে এ বিষয়ে স্বাধীন গবেষণা চালানো হচ্ছে।

অন্যদিকে, নবায়নযোগ্য শক্তির সমর্থকেরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এবং বাড়তি জ্বালানি খরচের কারণে মানুষের জন্য এখনই বিকল্প খুঁজে বের করা জরুরি। তাঁদের মতে, সঠিক নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করে প্লাগ-ইন সোলার প্রযুক্তি ব্যবহার করলে এটি ভবিষ্যতের শক্তি ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

সব মিলিয়ে, প্লাগ-ইন সোলার একদিকে যেমন সহজলভ্য ও সাশ্রয়ী সমাধান, অন্যদিকে এর নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে যথাযথ নীতিমালা ও সচেতনতা অপরিহার্য।

আফগান-সিরীয় শরণার্থীদের বিয়ে করতে চান না জার্মান নারীরা

চাঁদের পথে আর্টেমিস-২: ১০ দিনের মিশনে কী ঘটবে, কবে পৌঁছাবে চাঁদের কাছে

৫৩ বছর পর চাঁদের পথে মানুষ, সফলভাবে শুরু ‘আর্টেমিস-২’ মিশন

সূর্যের মৃত্যু কেমন হতে পারে, আভাস পেলেন বিজ্ঞানীরা

বিশ্বকে আলোকিত করে শূন্য পকেটে নিঃসঙ্গ বিদায়

আফ্রিকার ‘মহাবিভাজন’ নিয়ে বিজ্ঞানীরা কেন এত উত্তেজিত

মশার কামড়ে নিপাহ-জলাতঙ্কের সমাধান খুঁজছেন বিজ্ঞানীরা

ছারপোকা নির্মূলের সহজ সমাধান আবিষ্কার করলেন বিজ্ঞানীরা

৮০০ কোটি আলোকবর্ষ দূরে পৃথিবীর দিকে তাক করা ‘মহাকাশ লেজার’ শনাক্ত

জ্বালানি তেলে জিম্মি বিশ্ব: কবে থেকে ব্যবহার শুরু, শেষ কবে