বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, গণতন্ত্র মানে যা ইচ্ছা তা-ই বলা নয়। রাজনৈতিক বক্তব্যে তীব্র সমালোচনা করা গেলেও সেখানে মার্জিত ভাষা ব্যবহার করা উচিত। বিরোধী দলের কর্মসূচি ও বক্তব্যের অধিকার যেমন রয়েছে, তেমনি রাজনৈতিক সংস্কৃতিতেও শালীনতা বজায় রাখা প্রয়োজন।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) উদ্যোগে বিএফইউজের সাবেক সভাপতি রুহুল আমিন গাজীর দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে তিনি এসব কথা বলেন।
রিজভী বলেন, গণতন্ত্রে বিরোধী দলের কর্মসূচি পালন ও কথা বলার অধিকার রয়েছে। পার্লামেন্টের ভেতরে এবং বাইরে সরকারের সমালোচনা করার অধিকারও তাদের রয়েছে। বিএনপি বিরোধী দলের কর্মসূচিতে বাধা দেওয়ার পক্ষে নয়। সাম্প্রতিক দুটি লংমার্চের ক্ষেত্রেও বিএনপির নেতা কর্মীদের কোনো ধরনের বাধা না দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল বলে জানান তিনি।
তবে রাজনৈতিক বক্তব্যের ধরন নিয়ে আপত্তি জানিয়ে রিজভী বলেন, রাজনৈতিক বক্তব্যে নানা ধরনের রেটরিক থাকতে পারে। কিন্তু বিরোধী দলের নেতাকে ‘তুই’ করে সম্বোধন করা বা অবমাননাকর ভাষা ব্যবহার করা গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক সংস্কৃতির অংশ হতে পারে না। এ ধরনের সংস্কৃতির পুনরাবৃত্তি তিনি চান না।
রুহুল আমিন গাজীর প্রসঙ্গে বিএনপির এই নেতা বলেন, তিনি এমন একজন সাংবাদিক ছিলেন, যাঁকে দিয়ে ফ্যাসিবাদের পক্ষে কোনো বক্তব্য দেওয়ানো সম্ভব হয়নি। অনেক সাংবাদিক ও বুদ্ধিজীবী তৎকালীন সরকারের পক্ষে অবস্থান নিলেও রুহুল আমিন গাজীর মতো মানুষ সব ধরনের নিপীড়ন-নির্যাতন সহ্য করেও নিজের অবস্থানে ছিলেন।
তিনি বলেন, রুহুল আমিন গাজীর মুক্তির দাবিতে জাতীয় প্রেসক্লাবের ভেতরে ও বাইরে বিভিন্ন কর্মসূচিতে তিনি নিজেও উপস্থিত ছিলেন। ফ্যাসিবাদী শাসনের সময় প্রেসক্লাবেও নানা চাপ তৈরি করা হয়েছিল। চারদিকে যখন কথা বলার জায়গা সংকুচিত হয়ে এসেছিল, তখন প্রেসক্লাব কিছুটা হলেও মতপ্রকাশের জায়গা করে দিয়েছিল।
রিজভী বলেন, রুহুল আমিন গাজীর ব্যক্তিগত আদর্শ কী ছিল, সেটি তাঁর কাছে মূল বিষয় নয়।
তিনি দেখেছেন, সাংবাদিকদের ভূমিকা নিয়ে তৎকালীন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া রুহুল আমিন গাজীর সঙ্গে কথা বলতে আগ্রহী ছিলেন। সাংবাদিকদের কর্মসূচি ও পেশাজীবীদের ভূমিকা সম্পর্কে তিনি জানতে চাইতেন। রুহুল আমিন গাজীর ফ্যাসিবাদবিরোধী অবস্থানকে খালেদা জিয়া গুরুত্ব দিতেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
রিজভী আরও বলেন, ফ্যাসিবাদ বা একনায়কতন্ত্র কিছুদিন টিকে থাকলেও শেষ পর্যন্ত টেকে না। রুহুল আমিন গাজীর মতো মানুষেরা নিপীড়ন-নির্যাতন সহ্য করেও মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছিলেন। এ কারণেই তাঁদের অবস্থান মানুষের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে থাকে।
তিনি বলেন, গণতন্ত্র ও রাষ্ট্রের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষায় রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ন্যূনতম ঐক্য ও বোঝাপড়া থাকা প্রয়োজন। ভবিষ্যতে যেন ফ্যাসিবাদী শাসনের পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
রিজভী বলেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ন রাখার পাশাপাশি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হবে। বাংলাদেশ যেন কোনো দেশের ‘পিছনের উঠানে’ পরিণত না হয়, সেদিকেও লক্ষ্য রাখতে হবে।
আলোচনা সভায় বিএফইউজে ও ডিইউজের নেতৃবৃন্দসহ সাংবাদিকদের বিভিন্ন পর্যায়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।