হোম > রাজনীতি

এনসিটি ইজারা চুক্তি বাতিল না হলে ‘কঠোর’ কর্মসূচির হুঁশিয়ারি

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎

জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে বামপন্থী দলের মোর্চা সাম্রাজ্যবাদ ও যুদ্ধবিরোধী জোট। ছবি: আজকের পত্রিকা

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ডিপি ওয়ার্ল্ডের কাছে ইজারা দেওয়ার চুক্তি বাতিলের দাবি জানিয়েছে ১৩টি বামপন্থী দলের মোর্চা সাম্রাজ্যবাদ ও যুদ্ধবিরোধী জোট। চুক্তি বাতিল না হলে ‘কঠোর’ কর্মসূচি ঘোষণার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জোটের নেতারা। একই সঙ্গে রাজধানীর ইনভেস্ট বাংলাদেশ ভবনের সামনে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে পুলিশের লাঠিপেটার ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা।

আজ রোববার বিকেল সাড়ে চারটায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল থেকে এসব দাবি জানানো হয়। এনসিটি ইজারা চুক্তি বাতিল এবং বিডা ঘেরাওয়ের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে পুলিশি হামলার প্রতিবাদে কেন্দ্রঘোষিত দেশব্যাপী বিক্ষোভ কর্মসূচির অংশ হিসেবে এ আয়োজন করা হয়।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সাম্রাজ্যবাদ ও যুদ্ধবিরোধী জোটের সমন্বয়ক ও বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ।

সভাপতির বক্তব্যে বজলুর রশীদ ফিরোজ বলেন, জনগণের মতামত ও বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর আপত্তি উপেক্ষা করে সরকার এনসিটি ইজারা চুক্তি করেছে। নিজস্ব অর্থায়নে নির্মিত লাভজনক একটি টার্মিনাল বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে তুলে দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

বজলুর রশীদ বলেন, টার্মিনালের ভৌগোলিক অবস্থান ও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে সেখানে বড় জাহাজ প্রবেশ এবং টার্মিনালের পরিসর বাড়ানোর সুযোগ সীমিত। এ অবস্থায় বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্ব দিলে কীভাবে সক্ষমতা ও মুনাফা বাড়বে, তা সরকারকে ব্যাখ্যা করতে হবে।

ফিরোজ আরও বলেন, শেখ হাসিনা সরকারের আমলে পতেঙ্গা টার্মিনাল বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে দেওয়া হয়েছিল এবং এনসিটি ইজারা দেওয়ার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে লালদিয়া চর ও পানগাঁও টার্মিনাল নিয়ে চুক্তি হয়েছে। কিন্তু এসব চুক্তির শর্ত জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়নি। তিনি চুক্তির স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিতের আহ্বান জানান। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের বাণিজ্য চুক্তির শর্ত নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

সমাবেশে অন্য নেতারা বলেন, সরকার ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগান দিলেও সরকারের কর্মকাণ্ডে বাংলাদেশের স্বার্থ বিদেশিদের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে। ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর চুক্তি থাকার কারণে এনসিটি ইজারা দেওয়ার বিষয়টি দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করতে পারে।

সমাবেশে নেতারা গণতান্ত্রিক আন্দোলনে ‘পুলিশি বাধা’ ও ‘হামলা’ আইন করে নিষিদ্ধ করার দাবিও জানান নেতারা। শান্তিপূর্ণ সমাবেশে বিনা উসকানিতে লাঠিপেটার ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন তাঁরা।

সমাবেশে বাংলাদেশ জাসদের স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. মুশতাক হোসেন, বাসদ (মার্কসবাদী) কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক মাসুদ রানা, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মঞ্জুর মঈন, বাসদ (মাহবুব) সাধারণ সম্পাদক হারুনার রশীদ ভূঁইয়া, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশু প্রমুখ বক্তব্য দেন।

সমাবেশ থেকে চট্টগ্রামের বন্দর শ্রমিক, চট্টগ্রাম স্কপ এবং সাম্রাজ্যবাদ ও যুদ্ধবিরোধী জোটের আহ্বানে সোমবার (১২ অক্টোবর) আয়োজিত অনশন কর্মসূচির প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানান নেতারা।

ইজারা দেওয়া চুক্তি বাতিলের দাবিতে আগামীকাল সোমবার (১২ অক্টোবর) চট্টগ্রাম বন্দরের ওয়ানস্টপ ভবনের সামনে সকাল সন্ধ্যা অনশন কর্মসূচি পালন করবে সরকারদলীয় চট্টগ্রাম বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল ও চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ।

চুক্তি সইয়ের দিনেই এর প্রতিবাদে চট্টগ্রাম বন্দরে বিক্ষোভ করেন শ্রমিক নেতারা। রোববারের মধ্যেই দাবি মানার আলটিমেটাম দিয়েছিলেন তারা। তবে সেই দাবি না মানায় আগামী সোমবার বন্দরের ওয়ানস্টপ ভবনের সামনে অনশন কর্মসূচি চলবে জানিয়েছেন বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের অন্যতম সমন্বয়ক হুমায়ুন কবীর। বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক ইব্রাহিম খোকন জানান, সকাল থেকেই অনশন কর্মসূচি পালিত হবে এবং এখান থেকেই পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

এ ছাড়া আগামী ৩০ অক্টোবর ঢাকায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সাম্রাজ্যবাদ ও যুদ্ধবিরোধী জোট একই দাবিতে সমাবেশের ঘোষণা দিয়ে রেখেছে।