হোম > রাজনীতি

রাড্ডা ক্লিনিক যারা দখল করেছিল, তারাই এসে পরিষ্কার করছে: আসিফ মাহমুদ

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎

রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্র পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। আজ সোমবার বিকেলে। ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া

রাজধানীর মিরপুরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে যারা হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট করেছিল, তারাই এসে পরিষ্কার করছে বলে দাবি করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়রপ্রার্থী আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।

আজ সোমবার বিকেলে রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্র পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।

আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘গতকালকে আমরা বেলা ১১টার দিকে এখানে এসেছিলাম এবং যেই দখলদারদের সাইনবোর্ড ছিল, সেটা উৎখাত করেছি। আমরা দেখেছি যে পরবর্তীতে সরকারের বিভিন্ন অংশের টনক নড়েছে।’

এনসিপির এই নেতা বলেন, ‘প্রথমে সর্প হয়ে দংশন করো, পরে ওঝা হয়ে ঝাড়ো এমন কার্যক্রম আমরা প্রত্যক্ষ করলাম। এখানে যারা দখল করেছিল, তারাই এসে এখন পরিষ্কার করছে।’

রাড্ডা স্বাস্থ্যসেবাকেন্দ্রে সরকারি দলের পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনার সমালোচনা করে আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘আমরা সাধুবাদ জানাতে পারছি না। কারণ দখল শুধু রাড্ডায় হয়নি, হাজার জায়গায় হয়েছে। মোহাম্মদপুরেও হয়েছে। সবগুলো যদি আল্লাহর ওয়াস্তে ছেড়ে দেন, তাহলে আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রেস ব্রিফিং করে আপনাদের ধন্যবাদ জানাব।’

ভবিষ্যতে রাড্ডা স্বাস্থ্যসেবাকেন্দ্র যাতে আবার কোনোভাবে দখল না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে আসিফ বলেন, ‘একটা হচ্ছে লাঠিসোঁটা, হেলমেট নিয়ে দখল, আরেকটা হচ্ছে হোয়াইট কলার দখল-কলমের খোঁচায় দখল। এই জায়গাটা যাতে আবার কলমের খোঁচায় দখল না হয়, সেদিকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘আমরা প্রত্যাশা করব, এখানে যদি ১০ তলা ভবনও হয়, পুরোটাই রাড্ডা ক্লিনিককে দিতে হবে। এখানে দুই ফ্লোর দিয়ে বাকিটা মার্কেট নিয়ে ভাগ-বাঁটোয়ারা চলবে না।’

রাড্ডা ক্লিনিককে জনগণের প্রতিরোধের প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করে আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘এই জায়গাটা জনগণ উদ্ধার করেছে। গণমাধ্যমের ভূমিকা ও সাধারণ মানুষের প্রতিবাদের কারণে উদ্ধার হয়েছে। এই একটা জায়গা রেজিস্ট্যান্সের প্রতীক হিসেবে থাকল।’ তিনি আরও বলেন, রাড্ডা ক্লিনিকের ক্ষয়ক্ষতির যথাযথ মূল্যায়ন করে সরকারি উদ্যোগে সংস্কার ও পুনর্নির্মাণ করতে হবে। চুরি হয়ে যাওয়া চিকিৎসা সরঞ্জাম ও টিকার যথাযথ ক্ষতিপূরণ দেওয়ার পাশাপাশি হামলার সঙ্গে জড়িত প্রত্যেককে আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

জড়িত প্রত্যেককে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়ে আসিফ মাহমুদ বলেন, ২০০ জনের মতো লোক এসে তিন ঘণ্টা ধরে প্রকাশ্যে হামলা করেছ। প্রত্যেককে শাস্তির আওতায় আনতে হবে। দুই-তিনজনকে অ্যারেস্ট করলে হবে না। তিনি আরও বলেন, রাড্ডা ক্লিনিকের ঘটনা দেশের অন্যান্য স্থানে দখলের শিকার মানুষদেরও প্রতিবাদে উৎসাহিত করবে। জাতীয় নাগরিক পার্টি দখলের শিকার মানুষের পাশে থাকবে এবং জনস্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজ করবে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ও ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদিব, জাতীয় যুবশক্তির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ সোহেল ও সাংগঠনিক সম্পাদক রিফাত রশিদ।