হোম > রাজনীতি

স্থায়ী কমিটির বৈঠকে সিদ্ধান্ত

দুর্গাপূজায় প্রহরীর ভূমিকায় থাকবে বিএনপির নেতা-কর্মীরা

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎

রুহুল কবির রিজভী। ফাইল ছবি

আসন্ন দুর্গাপূজা নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ রাখতে ঢাকাসহ সারা দেশের পূজামণ্ডপ ঘিরে সতর্কতামূলক করণীয় নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। এর অংশ হিসেবে দলের নেতা-কর্মীরা প্রত্যেকটি পূজামণ্ডপে প্রহরীর ভূমিকা পালন করবে বলে জানিয়েছেন দলটির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

আজ শনিবার রাতে দলের সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী ফোরাম স্থায়ী কমিটির বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা জানান। এর আগে গুলশানে দলের চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে ওই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়, যাতে সভাপতিত্ব করেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বৈঠকের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘সনাতন ধর্মাবলম্বীদের জন্য দুর্গাপূজা কীভাবে নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ করা যায়, এই নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়। স্থানীয় পূজামণ্ডপের কমিটির সঙ্গে সমন্বয় করে স্বেচ্ছাসেবীর ভূমিকা পালন করবেন দলের নেতা–কর্মীরা-এ বিষয়ে আলোচনা হয়।’

রিজভী বলেন, ‘নানাভাবে দেশের বিরুদ্ধে, গণতান্ত্রিক সরকারের বিরুদ্ধে নানা ধরনের নীল নকশা কেউ কেউ করছেন। সমস্ত ধরনের অপপ্রচার-অপকীর্তি এবং ষড়যন্ত্রকে সরকার তার দক্ষ পরিচালনার মাধ্যমে প্রতিহত করতে সক্ষম হবে। দলের নেতা–কর্মীরা এ বিষয়ে সদা সতর্ক থাকবেন। তারা ঘুমহীন প্রহরীর মতো প্রত্যেকটি পূজামণ্ডপে স্বেচ্ছাসেবকের ভূমিকা পালন করবেন। এ বিষয় নিয়ে কী করা যায়, কী করণীয় এবং আমরা কী করেছি-সেসব নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।’

ইতিমধ্যে বিএনপির পক্ষ থেকে দুর্গাপূজা পর্যবেক্ষণ কমিটি করা হয়েছে জানিয়ে রিজভী বলেন, আমরা এ বিষয়ে অত্যন্ত সজাগ রয়েছি। সাংগঠনিক বিষয় নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। পরবর্তীতে সাংগঠনিক দক্ষতা বৃদ্ধিতে আমরা কী করব-সে নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

এর আগে আজ শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় বৈঠক শুরু হয়। বৈঠকে অন্যদের মধ্যে স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, ড. আবদুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমেদ, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, সেলিমা রহমান, এজেডএম জাহিদ হোসেন, রুহুল কবির রিজভী, ফরহাদ হালিম ডোনার, ইসমাঈল জবিউল্লাহ ও আমান উল্লাহ আমান অংশ নেন।

বৈঠক সূত্র বলছে, এবার দুর্গাপূজায় দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা ও সার্বিক নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। অপশক্তি যেন কোনো ধরনের বিভেদ বা অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি করতে না পারে, সে বিষয়ে সজাগ থাকার তাগিদ দেওয়া হয়। পূজা ছাড়াও বৈঠকে দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, বিশেষ করে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।

বাজার সিন্ডিকেট ভেঙে দিয়ে সাধারণ মানুষের স্বস্তি নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর নজরদারি বাড়ানোর তাগিদ দেওয়া হয়। পাশাপাশি ব্যাংকিং খাত ও রেমিট্যান্স প্রবাহে গতিশীলতা ফেরানোর উপায় নিয়ে আলোচনা হয়।

এ ছাড়াও জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি হিসেবে দেখা দেওয়া ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা জোরদার করা এবং দেশের যুবসমাজকে রক্ষা করতে মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি নিয়ে সরকারকে আরও কঠোর ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান দলের শীর্ষ নেতারা।