দেশে জ্বালানিসংকটের মধ্যে ৪৫০টি গাড়ি নিয়ে ১১ দলীয় জোটের রংপুর অভিমুখী লংমার্চের সমালোচনা করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেছেন, বৈশ্বিক জ্বালানিসংকটের বাস্তবতা বিবেচনায় না নিয়ে শুধু সরকারের ওপর দায় চাপিয়ে রাজনৈতিক কর্মসূচি দেওয়া সমীচীন নয়। বিরোধী দলগুলোকে এ বিষয়ে বাস্তবমুখী চিন্তা করার আহ্বান জানান তিনি।
আজ মঙ্গলবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় সরকার ও বিরোধী দলের ভূমিকা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন রিজভী। জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট এ সভার আয়োজন করে।
যমুনা সেতুর টোল আদায়ের তথ্য উল্লেখ করে রিজভী বলেন, সাশ্রয়ের কথা বলে রাজনীতি করা দলগুলো রংপুরে প্রায় ৪৫০টি গাড়ির বহর নিয়ে গেছে। এতগুলো গাড়িতে যে পরিমাণ জ্বালানি খরচ হয়েছে, তা সাশ্রয় করা গেলে জাতীয় গ্রিডের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ-সংকটে সামান্য হলেও স্বস্তি আনা যেত।
রিজভীর দাবি, লংমার্চে অংশ নেওয়া কিছু গাড়ির টোলও দেওয়া হয়নি।
বৈশ্বিক পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে বিএনপির এই নেতা বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতির প্রভাব বিশ্ববাজারের জ্বালানি সরবরাহ ও দামের ওপর পড়ছে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারের বাস্তবতা বিবেচনা না করে দেশের জ্বালানিসংকটের পুরো দায় সরকারের ওপর চাপানো ঠিক নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
রিজভী বলেন, বিরোধী দলগুলো মুক্ত পরিবেশে তাদের রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করুক, এতে সরকারের আপত্তি নেই। তবে কর্মসূচির নামে বাস-ট্রেনে আগুন দেওয়া, ককটেল বিস্ফোরণসহ নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক দলগুলোকেও সোচ্চার হতে হবে।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের ভাষায়, দেশকে অস্থিতিশীল করার কোনো অপচেষ্টার বিরুদ্ধে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
এদিকে পরিকল্পিত সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের প্রতিবাদে একই দিন রাজধানীতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে অ্যাগ্রিকালচারিস্টস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (অ্যাব)। রিজভীর নেতৃত্বে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে ফার্মগেট পুলিশ বক্সের সামনে গিয়ে শেষ হয়।
এতে অংশ নেন সংগঠনের আহ্বায়ক কৃষিবিদ ড. কামরুজ্জামান, সদস্যসচিব শাহাদাত হোসেন বিপ্লব, বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা মাহবুব ইসলাম এবং স্বেচ্ছাসেবক দলের সহসভাপতি জাহিদুল কবিরসহ কয়েকশ কৃষিবিদ।
মিছিল থেকে দেশকে অস্থিতিশীল করার ‘পরিকল্পিত নৈরাজ্যের’ প্রতিবাদ জানানো হয়। অ্যাবের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারাও এতে অংশ নেন।