হোম > রাজনীতি

রেমিট্যান্স শাটডাউনের হুমকি দেশবিরোধী ও মানবতাবিরোধী: রিজভী

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎

প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স বন্ধের হুমকিকে দেশবিরোধী ও মানবতাবিরোধী কর্মকাণ্ড বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী আহমেদ। তিনি বলেছেন, রেমিট্যান্স দেশের কোটি পরিবারের জীবন-জীবিকা ও জাতীয় অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে রেমিট্যান্স বন্ধের চক্রান্ত দেশের মানুষকে ক্ষুধার্ত রাখার শামিল।

আজ শুক্রবার বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি মিলনায়তনে সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রয়াত জিয়াউর রহমানের কর্মময় জীবন নিয়ে আয়োজিত রচনা প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে রিজভী এসব কথা বলেন। জিয়া স্মৃতি পাঠাগার ও ‘কমল কুঁড়ি’ যৌথভাবে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে।

সম্প্রতি বিমানবন্দরে ঘটে যাওয়া বিশৃঙ্খলার প্রসঙ্গ টেনে বিএনপির এ নেতা বলেন, কোনো অন্যায় বা অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ কিংবা সংবাদ সম্মেলন করা যেতে পারে; কিন্তু দায়িত্ব পালনরত কর্মকর্তা বা অন্য কাউকে আক্রমণ করা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

রিজভী বলেন, এ ধরনের অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের রক্ষা করতে ও রাজনৈতিক সুবিধা নিতে যারা রেমিট্যান্স শাটডাউনের মতো কর্মসূচি দিচ্ছে, তারা জাতীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দিচ্ছে না। ১৯৭১, ১৯৮৬ কিংবা ২০২৪—বিভিন্ন সময়ে তারা জাতীয় স্বার্থের চেয়ে দলীয় স্বার্থকে গুরুত্ব দিয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। অন্যদিকে বিএনপি সব সময় জনগণ ও দেশের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়েছে বলে দাবি করেন এই নেতা।

ছাত্ররাজনীতিতে মেধা ও মননচর্চার গুরুত্ব তুলে ধরে রিজভী বলেন, শুধু মিছিল ও স্লোগান দেওয়াই ছাত্ররাজনীতির কাজ নয়। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রচনা প্রতিযোগিতা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের মতো সহশিক্ষা কার্যক্রম শিক্ষার্থীদের মেধা ও মননের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

সুফিসাধক হাসান বসরির একটি উক্তি স্মরণ করে রিজভী বলেন, অন্তরের যত্ন নিলে বাহ্যিক সত্তাও সুন্দর হয়ে ওঠে।

জার্মান দার্শনিক ফ্রিডরিখ নিৎসের উক্তি উদ্ধৃত করে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে রিজভী বলেন, মহৎ কিছু অর্জন করতে হলে কষ্ট ও পরিশ্রমের মধ্য দিয়ে যেতে হয়। জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলকে মেধা, জ্ঞান ও গণতন্ত্রচর্চার অন্যতম কেন্দ্রে পরিণত হতে হবে।

চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ টেনে বিএনপির এ নেতা বলেন, ২০১০ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বারবার আন্দোলনের ব্যর্থতায় যে হতাশা তৈরি হয়েছিল, ২০২৪ সালের ছাত্র আন্দোলন তা ভুল প্রমাণ করেছে। তরুণদের সাহসিকতা ও অগ্রণী ভূমিকার কারণেই স্বৈরাচারী শাসনের পতন সম্ভব হয়েছে।

জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ও কমল কুঁড়ির আহ্বায়ক আমানউল্লাহ আমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সঞ্চালনা করেন সংগঠনটির সদস্যসচিব ইঞ্জিনিয়ার হাবিবুর রহমান।

উদ্বোধক হিসেবে বক্তব্য দেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান, বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা বেবী নাজনীন, স্বনির্ভরবিষয়ক সহসম্পাদক ও সংসদ সদস্য নিলোফার চৌধুরী মনি, সাংস্কৃতিক সম্পাদক আশরাফউদ্দিন উজ্জ্বল, ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব, রাজনৈতিক বিশ্লেষক রেজাউল করিম রনি ও জিয়া স্মৃতি পাঠাগারের সাধারণ সম্পাদক জহির দীপ্তি।