দেশের মানুষের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণে সরকারকে কার্যকর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় পার্টির (একাংশ) চেয়ারম্যান আনিসুল ইসলাম মাহমুদ। তিনি বলেছেন, ‘অপরাধী যে রাজনৈতিক পরিচয়েরই হোক না কেন, তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে।’
রাজধানীর গুলশানে জাতীয় পার্টির (একাংশ) চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে আজ মঙ্গলবার দুপুরে অনুষ্ঠিত দলটির প্রেসিডিয়াম সভায় সভাপতির বক্তব্যে আনিসুল ইসলাম মাহমুদ এ কথা বলেন। এ সময় তিনি আরও বলেন, ‘আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ছাড়া দেশে স্থায়ী শান্তি ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। সেই সঙ্গে অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতি প্রতিষ্ঠাও জরুরি।’
আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বলেন, ‘দেশের মানুষ এখন নানা ধরনের সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, চাঁদাবাজি, দখলদারি, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, বেকারত্ব এবং গ্যাস-বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট জনজীবনে চাপ তৈরি করছে। এসব সংকট সমাধানে সরকারের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন।’
সভায় জাতীয় পার্টির মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার বলেন, ‘মানুষ রাজনৈতিক বক্তব্যের পাশাপাশি তাদের দৈনন্দিন জীবনে নিরাপত্তা ও স্বস্তি চায়। সাধারণ মানুষ যেন নির্বিঘ্নে চলাফেরা করতে পারে, ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালনা করতে পারে এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ক্রয় করতে পারে—সরকারকে সেই পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।’
রুহুল আমিন হাওলাদার আরও বলেন, ‘রাজনৈতিক অস্থিরতা ও বিভাজনের কারণে সাধারণ মানুষ যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়ে সব রাজনৈতিক দলের দায়িত্বশীল ভূমিকা থাকা প্রয়োজন। জাতীয় পার্টি জনগণের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে দায়িত্বশীল ও গঠনমূলক রাজনীতিতে বিশ্বাস করে।’
সভায় জাতীয় পার্টির নেতারা দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, আইনশৃঙ্খলা, দ্রব্যমূল্য, অর্থনীতি, সাংগঠনিক কার্যক্রম এবং আগামী দিনের রাজনৈতিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা করেন। তাঁরা বলেন, সাধারণ মানুষের সমস্যা ও প্রত্যাশাকে সামনে রেখে জাতীয় পার্টিকে আরও সক্রিয়ভাবে মাঠে থাকতে হবে। একই সঙ্গে দেশের গণতান্ত্রিক পরিবেশ, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতির পরিবেশ সৃষ্টির ওপর গুরুত্বারোপ করেন জাতীয় পার্টির নেতারা।
সভায় আরও বক্তব্য দেন জাতীয় পার্টির নির্বাহী চেয়ারম্যান মুজিবুল হক চুন্নু, সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান কাজী ফিরোজ রশিদ, কো-চেয়ারম্যান সাহিদুর রহমান টেপা, মোস্তফা আল মাহমুদ, চেয়ারম্যানের বিশেষ সহকারী বেগম নাসরিন জাহান রতনা, প্রেসিডিয়াম সদস্য জসীম উদ্দিন ভূঁইয়া, নুরুল ইসলাম মিলন, সরদার মো. শাজাহান, মোবারক হোসেন আজাদ, ফখরুল আহসান শাহজাদা, জাহাঙ্গীর আহমেদ, জাহাঙ্গীর আলম পাঠান, শেখ মাতলুব হোসেন লিয়ন, নাজনীন সুলতানা, ইয়াহ ইয়া চৌধুরী প্রমুখ।