সরকারের প্রতিটি আচরণে মনে হচ্ছে ‘ছেড়ে দে মা, কেঁদে বাঁচি’—এমন মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ।
আজ শুক্রবার রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে বৈঠক করে ১১ দলীয় ঐক্যের লিয়াজোঁ কমিটি। বৈঠক শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন আযাদ।
হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ‘সরকার যদি ক্ষমতায় থাকতে না চায়, তাহলে আমরা তো জোর করে ক্ষমতায় রাখতে পারব না। তাদের প্রতিটি আচরণ মনে হচ্ছে—“ছেড়ে দে মা, কেঁদে বাঁচি। অজুহাত তৈরি করে পালিয়ে যাই।’’’
জামায়াতের এ নেতা অভিযোগ করেন, জুলাই আন্দোলনে হত্যাকাণ্ড, আহত, পঙ্গুত্ববরণসহ নানা ধরনের মানবতাবিরোধী অপরাধের দৃশ্যমান বিচার এখনো হয়নি। কিছু রায় হয়েছে, কার্যকর হয়নি। বর্তমান সরকার ফ্যাসিবাদী সরকারের সঙ্গে আঁতাত করে আবার নতুন পরিস্থিতি সৃষ্টি করার জন্য ষড়যন্ত্র করছে।
আযাদ আরও বলেন, বিএনপির বিভিন্ন নেতা সংসদ নির্বাচনে তাঁদের দলের ভোটের ৩০ শতাংশ আওয়ামী লীগের (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) ভোট বলে দাবি করেছেন। আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে কথা বলা হয়েছে। শেখ হাসিনা ও শামীম ওসমানের ফাঁস হওয়া অডিও কথোপকথনেও এ-সংক্রান্ত তথ্য রয়েছে। থলের বিড়াল বেরিয়ে আসার ভয়ে বিএনপি এসব বক্তব্যের প্রতিবাদ করছে না।
বিরোধী দলের সঙ্গে আওয়ামী লীগের আঁতাতের বিষয়ে সরকারের অভিযোগকে ভুয়া ও অসত্য বলে দাবি করেন জামায়াতের এই নেতা। তিনি বলেন, সরকারের কাছে এ বিষয়ে গোয়েন্দা তথ্য থাকলে তা প্রকাশ করা হোক।
জামায়াতের এ নেতার দাবি, সরকার গোয়েন্দা সংস্থার তৈরি করা রিপোর্টের ভিত্তিতে রাজনৈতিক বক্তব্য দিচ্ছে। তিনি বলেন, ‘এই রিপোর্ট যে আপনারা বানিয়ে দিয়েছেন—এটা বুঝতে আমাদের আর দেরি নাই।’
হামিদুর রহমান আযাদ জানান, ২৯ অক্টোবর উপনির্বাচনে ‘১২ ফেব্রুয়ারির মতো ইঞ্জিনিয়ারিং’ করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে তাঁরা খবর পাচ্ছেন। তিনি হুঁশিয়ারি দেন, ‘যদি এ ধরনের কিছু হয়, তাহলে মাগুরা থেকে শিক্ষা নিতে সরকারকে আহ্বান জানাচ্ছি। মাগুরার নির্বাচন বাংলাদেশের নির্বাচনের ইতিহাসে একটি কালো অধ্যায়। এখান থেকে সরকার পতনের আন্দোলন হয়েছিল, চূড়ান্ত রূপ নিয়েছিল।’
কওমি ঘরানার সাত ইসলামি দলের জোটের বিষয়ে জামায়াতের প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে আযাদ জানান, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও গণভোটের রায় কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের ঐক্য অটুট থাকবে।
১১ দলের পরবর্তী লংমার্চের বিষয়ে জানানো হয়, ৩১ অক্টোবরের ঢাকা-খুলনা-কুষ্টিয়ামুখী লংমার্চের উদ্বোধনী সমাবেশ রাজধানীর বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ ফটকে সকাল ৭টায় অনুষ্ঠিত হবে। এরপর প্রায় এক হাজার গাড়ির বহর নিয়ে লংমার্চ সকাল ৮টায় পদ্মা সেতু হয়ে শরীয়তপুর, মাদারীপুর, ভাঙ্গা (ফরিদপুর), গোপালগঞ্জ, ফকিরহাট (বাগেরহাট), রূপসা ব্রিজ হয়ে খুলনা যাবে। সেখান থেকে যশোর ও ঝিনাইদহ হয়ে কুষ্টিয়া জিলা স্কুল মাঠের সমাপনী সমাবেশে যোগ দেবে লংমার্চের বহর। পথে ছয়টি পথসভা হওয়ার কথাও জানানো হয়েছে ১১ দলের পক্ষ থেকে। সকাল ৯টায় শরীয়তপুরের জাজিরায়, বেলা ১১টায় বাগেরহাটের ফকিরহাটে, খুলনার বাবরী চত্বরে দুপুর সাড়ে ১২টায় ও ফুলতলার বাসস্ট্যান্ডের স্বাধীনতা চত্বর বেলা ২টায় পথসভা হবে। এ ছাড়া যশোরের মুড়লীর মোড়ে বেলা সাড়ে ৩টায় ও বিকেল ৫টায় ঝিনাইদহ বাস টার্মিনালেও পথসভা করা হবে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব আতাউল্লাহ আমীন, জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট মুয়াযযম হোসাইন হেলালসহ জোটের অন্য নেতারা।