হোম > রাজনীতি

জামায়াতের আখতারুজ্জামান গ্রেপ্তার: কী ঘটেছিল সেদিন বিমানবন্দরে

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎

মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান। ফাইল ছবি

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালককে (ইডি) হুমকি ও নিরাপত্তা সুপারভাইজারকে মারধরের অভিযোগে মামলা হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে জামায়াত নেতা মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান রঞ্জনকে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। আজ শুক্রবার সন্ধ্যায় ঢাকার ক্যান্টনমেন্ট এলাকার বাসা থেকে তাঁকে হেফাজতে নেওয়া হয়।

কী ঘটেছিল সেদিন বিমানবন্দরে

গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে মদিনা থেকে আসা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে ওমরাহযাত্রীদের জমজমের পানি সরবরাহে বিলম্ব নিয়ে আখতারুজ্জামানের উচ্চবাচ্যের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে তাঁকে বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালককে উদ্দেশ করে বলতে শোনা যায়, ‘ঘাড় ধরে বের করে দেব, ঘাড় ধরে বের করে দেব। আপনারা কাজ করেন না, কিছু করেন না। তদবির করে পোস্ট নেন। মাইর খাইতে চান?’

এদিকে মামলার এজাহারে বলা হয়, বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা ৫৫ মিনিটে বিমান বাংলাদেশের বিজি-৩৩৮ ফ্লাইটে জামায়াতের ৩৪ জন প্রতিনিধি সপরিবারে মদিনা থেকে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। সে সময় বিমানবন্দরে আগমনী যাত্রীর বাড়তি চাপ থাকায় ট্রলি সংগ্রহের জন্য দীর্ঘ লাইন তৈরি হয়। কয়েকজন প্রটোকল সহকারী লাইনের নিয়ম ভেঙে ট্রলি সংগ্রহের চেষ্টা করেন।

পরে লাগেজ আসতে বিলম্ব হওয়া এবং জমজমের পানি না আসায় সংশ্লিষ্ট কয়েকজন ‘উত্তেজিত’ হয়ে পড়েন এবং ‘অশোভন আচরণ’ করেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়।

এর মধ্যে বেলা পৌনে ১১টার দিকে ঢাকা-৫ আসনের এমপি মোহাম্মদ কামাল হোসেন বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদকে ঘটনাস্থলে ডেকে পাঠান।

এজাহারে বলা হয়, নির্বাহী পরিচালক সেখানে এসে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলছিলেন। এ সময় তাঁর দিকে আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে এগিয়ে আসেন অবসরপ্রাপ্ত মেজর আখতারুজ্জামান। তিনি তাঁকে ‘অত্যন্ত রূঢ়, অশালীন ও অকথ্য ভাষায়’ গালিগালাজ করতে থাকেন।

তখন বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক ‘অত্যন্ত শান্তভাবে’ অতিরিক্ত যাত্রীর চাপ ও ট্রলি ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে বোঝানোর চেষ্টা করেন। তবে আখতারুজ্জামান আরও উত্তেজিত হয়ে ‘আমি কিন্তু পিটাব ধইরা’, ‘গেট আউট ফ্রম হিয়ার’, ‘ঘাড় ধরে বের করে দেব’, ‘কাজ জানেন না, তদবির করে পোস্টিং-এ আসবেন’, ‘মাইর খাইতে চান?’—এমন সব মন্তব্য করেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

আখতারুজ্জামানের আচরণ ‘অত্যন্ত আক্রমণাত্মক ও মারমুখী’ ছিল দাবি করে এজাহারে বলা হয়, পরিস্থিতি আরও অবনতি হওয়ার আশঙ্কায় ঢাকা-৫ আসনের এমপি কামাল হোসেন নির্বাহী পরিচালককে নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে নেন।

পরে আখতারুজ্জামান আবার উত্তেজিত হয়ে উপস্থিত ব্যক্তিদের উদ্দেশে হুমকি দেন বলে এজাহারে অভিযোগ করা হয়। সেখানে বলা হয়, ‘আপনাদের সবাইকে বিমানবন্দরে বেঁধে পিটানো এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় দেওয়া দরকার, যাতে তারেক রহমান এটি দেখেন, তখন আপনারা সোজা হবেন। আপনাদের ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে দেব।’

এজাহারে বলা হয়, আখতারুজ্জামান বলেন, ‘হি ইজ এ বাস্টার্ড। বিমানবন্দরের জন্য কিছুই করছে না।’

মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ার আশঙ্কায় দায়িত্বরত নিরাপত্তা সুপারভাইজার মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন বিমানবন্দরের কেপিআই এলাকায় ভিডিও ধারণ না করতে সংশ্লিষ্টদের নিষেধ করেন। তখন আখতারুজ্জামান ওয়ারেন্ট অফিসার কামাল উদ্দিনের কাছে গিয়ে তাঁকে ‘অকথ্য ভাষায়’ গালিগালাজ করেন এবং একপর্যায়ে শারীরিকভাবে আঘাত করেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

মারধরের ঘটনাটি সিসিটিভির আওতাভুক্ত ছিল না দাবি করে এজাহারে বলা হয়, ভুক্তভোগী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের মাধ্যমে বিষয়টি প্রমাণ করা সম্ভব। পরে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের এক প্রতিনিধি ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে তাঁর সঙ্গেও আখতারুজ্জামান অশোভন ও মারমুখী আচরণ করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ সময় সাধারণ যাত্রীদের জমজমের পানির বোতল ট্রলি থেকে ছুড়ে ফেলে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।

কিশোরগঞ্জ-২ আসনের দুইবারের সংসদ সদস্য অবসরপ্রাপ্ত মেজর আখতারুজ্জামান ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের আগে জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দেন। এর আগে ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালের জুনে কটিয়াদী আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

এবার ওই আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেন তাঁর ছোট ভাই আনিসুজ্জামান খোকন। তিনি ১৯৭৯ সালে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে ময়মনসিংহ-১৯ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।