হোম > মতামত > সম্পাদকীয়

সরকারের অবস্থান নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে

ব্যারিস্টার তানিম হোসেন শাওন

ব্যারিস্টার তানিম হোসেন শাওন। ছবি: সংগৃহীত

বিএনপির যে রাজনৈতিক অবস্থান ছিল বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, মানবাধিকার লঙ্ঘনের ব্যাপারে মানবাধিকার কমিশনের ভূমিকা—এগুলোর সঙ্গে এই অধ্যাদেশগুলো বাতিলের পদক্ষেপ সামঞ্জস্যপূর্ণ মনে হয় না।

কারণ, যদি এই দুটি অধ্যাদেশের কোনো সুনির্দিষ্ট বিধান নিয়ে তাদের ভিন্নমত থাকত, সে ক্ষেত্রে সেই বিধানগুলো সংশোধন করেই বর্তমান অধিবেশনে এগুলোকে আইন আকারে গ্রহণ করা যেত। বিল আকারে উপস্থাপন করা যেত, পুরোটা বাতিল না করে। কিন্তু তারা বলছে, আপাতত পুরোটা বাতিল করে পরে পর্যালোচনার পর নতুন করে বিল আকারে উপস্থাপন করবে। এর ফলে সংশয় তৈরি হয়েছে, এই সংশয়টা তৈরি করা তো রাজনৈতিক দূরদর্শিতার পরিচয় বহন করে না।

অতীতেও দেখা গেছে বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকার কিছু কিছু সংস্কারমূলক আইন পরে করবে বলে বাদ দিয়েছিল। ২০০৮ সালে বিচারক নিয়োগের একটা আইন হয়েছিল। ১/১১-এর শাসনামলে এবং আওয়ামী লীগ বলেছিল যে তারা আরও উন্নতভাবে আইন আকারে পাস করবে। কিন্তু সেটা তারা করেনি। এখন সাধারণ মানুষের মধ্যে এ রকম সংশয় তৈরি হতে পারে যে বিএনপি একই পথে হাঁটছে কি না। যথার্থ হতো এই অধিবেশনেই আইনগুলো পুরোপুরি বাতিল না করে কিছু সংশোধনী যদি তারা গ্রহণ করত।

দুইটা অধ্যাদেশের একটা সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ, আরেকটা হলো সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়। সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের মূল বিষয়গুলোর একটা ছিল অধস্তন আদালতের যাঁরা বিচারক আছেন, তাঁদের শৃঙ্খলা, জবাবদিহি নিশ্চিত করার যে এখতিয়ার, সেটা সুপ্রিম কোর্টের কাছে আসবে। মাসদার হোসেন মামলার রায় থেকে একটা জনপ্রত্যাশা ছিল যে বিচার বিভাগের কাছেই অধস্তন আদালতের জবাবদিহি থাকবে। আর সুপ্রিম কোর্ট বিচারক নিয়োগের আইন করা হয়েছিল এটা নিশ্চিত করার জন্য, যাতে শুধু দলীয় বিবেচনায় অযোগ্য কাউকে উচ্চ আদালতের বিচারক হিসেবে নিয়োগ না করা হয়।

আওয়ামী লীগ উচ্চতর আদালত এবং নিম্ন আদালত দুই জায়গাতেই দলীয় এবং রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার করতে পেরেছিল দেখেই আওয়ামী লীগ তাদের ফ্যাসিস্ট শাসনটাকে ১৬ বছর দীর্ঘায়িত করতে পেরেছে।

৫ আগস্ট-পরবর্তী জন-আকাঙ্ক্ষা ছিল যে এই পরিস্থিতির গুণগত পরিবর্তন হবে এবং এই কারণেই কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকার এই দুইটা অধ্যাদেশ জারি করেছিল। এই অধ্যাদেশগুলো পুরোপুরি বাতিল করা মানে এই জন-আকাঙ্ক্ষাটাকে প্রত্যাখ্যান করা, যেটা কোনোভাবেই কোনো রাজনৈতিক দলের নীতি হতে পারে না।

আমি আশা করব, আইনমন্ত্রীর আশ্বাস যেটা আছে, সেটা সত্যি আশ্বাস হবে, মিথ্যা আশ্বাস না। উনারা চলতি অধিবেশন কিংবা পরবর্তী অধিবেশনেই নতুন করে বিল উপস্থাপন করবেন এবং সেখানে এই অধ্যাদেশগুলোর মৌলিক বৈশিষ্ট্য প্রতিফলিত হবে।

লেখক: আইনজীবী, সুপ্রিম কোর্ট, সাবেক সদস্য, বিচার বিভাগ সংস্কার কমিশন

টিকার জন্য দায় না দিয়ে পরিস্থিতি সামলে নেওয়া জরুরি: ডা. মুশতাক হোসেন

বৈশাখের অর্থনীতি: আনন্দের আড়ালে সাধারণের জীবন

আদমদীঘির ৫০০ মিটার

‘অধ্যাদেশ রহিত করা সরকারের আত্মঘাতী কাজ’

সব ক্ষেত্রে কেন নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে চান

সুপেয় পানি

পয়লা বৈশাখ এবং শিল্প-সমৃদ্ধ ভাবনা

প্রয়োজন প্রজ্ঞাবান নেতৃত্ব

হায় রে হাঁড়িধোয়া

আওয়ামী লীগ, মুজফ্ফর আহমদ ও কালো আইন