তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে জানিয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় বলেছে, স্থানীয় খুচরা বিক্রেতাদের একটি অংশ বাজারে এলপিজির কৃত্রিম সংকট তৈরি করেছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে জেলা-উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
খুচরা পর্যায়ে এলপিজির বাজার স্বাভাবিকের চেয়ে ঊর্ধ্বমুখী হওয়ায় বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান সংশ্লিষ্ট বিভাগের সচিব ও কর্মকর্তাদের নিয়ে আজ রোববার (৪ জানুয়ারি) জরুরি বৈঠক করেন। ওই বৈঠকে এলপিজি বাজার পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হয়েছে বলে রাতে মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে এলপিজির বাজার স্বাভাবিক করাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে জ্বালানি বিভাগের সচিবের সভাপতিত্বে আজ এলপিজি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন ও এলপিজি অপারেটরদের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। বৈঠকে চলমান এলপিজি সংকট নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বৈঠকের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, দেশে এলপিজি গ্যাসের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। তবে স্থানীয় খুচরা বিক্রেতাদের একটি অংশ বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করেছে। যদিও বিশ্ববাজারে মূল্যবৃদ্ধি, জাহাজসংকট এবং কিছু কার্গোর ওপর নিষেধাজ্ঞার কারণে আমদানিপর্যায়ে সীমিত সমস্যা তৈরি হয়েছে, তবুও তা বাজারে বড় ধরনের সংকটের কারণ নয়।
মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে এলপিজির আমদানি ছিল ১ লাখ ৫ হাজার টন, যা ডিসেম্বর মাসে বেড়ে দাঁড়ায় ১ লাখ ২৭ হাজার টনে। অর্থাৎ আমদানি বৃদ্ধির পরও বাজারে এলপিজি সরবরাহ কমে যাওয়ার কোনো যৌক্তিক কারণ নেই।
বৈঠকে জানানো হয়, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) চলতি মাসে এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বাড়াতে পারে—এমন ধারণা থেকেই খুচরা পর্যায়ে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করা হয়েছে। আজ সন্ধ্যায় বিইআরসি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ২৫৩ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার ৩০৬ টাকা নির্ধারণ করে। এ ছাড়া গ্রিন ফুয়েল হিসেবে এলপিজি ব্যবহারের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এলপিজি অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে উত্থাপিত কিছু দাবির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির বিষয়ে বিবৃতি দেবে। পাশাপাশি পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সহায়তা চাওয়া হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে।
উল্লেখ্য, সংস্থাটি প্রতি মাসেই এলপিজির দাম নির্ধারণ করে। তবে বেশ কয়েক দিন ধরে বাজারে নির্ধারিত দামে এলপিজি বিক্রি হচ্ছে না।