ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও জুলাই জাতীয় সনদ নিয়ে গণভোট পর্যবেক্ষণে অন্তত ৩৯৪ জন আন্তর্জাতিক নির্বাচন পর্যবেক্ষক এবং ১৯৭ জন বিদেশি সাংবাদিক বাংলাদেশে এসেছেন। আগামীকাল বৃহস্পতিবার একযোগে এই নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে।
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মধ্যে ৮০ জন বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিত্ব করছেন। ২৩৯ জন এসেছেন দ্বিপক্ষীয় দেশগুলো থেকে, এর মধ্যে স্বাধীন ইউরোপীয় পর্যবেক্ষকরাও আছেন। এ ছাড়া বিভিন্ন বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত ৫১ জন ব্যক্তি নিজ নিজ পরিচয়ে পর্যবেক্ষণ করবেন।
আসন্ন এই নির্বাচনে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকের সংখ্যা ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারির বিতর্কিত জাতীয় নির্বাচনের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। তুলনামূলকভাবে ১২তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করেছিলেন ১৫৮ জন, ১১তম নির্বাচনে ১২৫ জন এবং ১০তম নির্বাচনে ছিলেন মাত্র ৪ জন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক।
যেসব গুরুত্বপূর্ণ সংস্থা পর্যবেক্ষক পাঠিয়েছে তাদের মধ্যে রয়েছে—এশিয়ান নেটওয়ার্ক ফর ফ্রি ইলেকশনস (এএনএফরেল), যারা ২৮ জন পর্যবেক্ষক পাঠিয়েছে। কমনওয়েলথ সচিবালয় পাঠিয়েছে ২৭ জন। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইনস্টিটিউট (আইআরআই) পাঠিয়েছে ১৯ জন এবং ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক ইনস্টিটিউট (এনডিআই) পাঠিয়েছে ১ জন।
এ ছাড়া, অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কো-অপারেশন (ওআইসি) থেকে ২ জন, ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অব এশিয়ান পলিটিক্যাল পার্টিজ (আইক্যাপ) থেকে ২ জন এবং ইউরোপিয়ান এক্সটার্নাল অ্যাকশন সার্ভিস থেকে ১ জন পর্যবেক্ষক এসেছেন।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি ২১টি দেশ থেকেও পর্যবেক্ষক এসেছেন। এর মধ্যে পাকিস্তান থেকে ৮ জন, ভুটান থেকে ২ জন, শ্রীলঙ্কা থেকে ১১ জন, নেপাল থেকে ১ জন, ইন্দোনেশিয়া থেকে ৩ জন, ফিলিপাইন থেকে ২ জন, মালয়েশিয়া থেকে ৬ জন, জর্ডান থেকে ২ জন, তুরস্ক থেকে ১৩ জন, ইরান থেকে ৩ জন, জর্জিয়া থেকে ২ জন, রাশিয়া থেকে ২ জন, চীন থেকে ৩ জন, জাপান থেকে ৪ জন, দক্ষিণ কোরিয়া থেকে ২ জন, কিরগিজস্তান থেকে ২ জন, উজবেকিস্তান থেকে ২ জন, দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে ২ জন এবং নাইজেরিয়া থেকে ৪ জন এসেছেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ভয়েস ফর জাস্টিস, ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনাল, এসএনএএস আফ্রিকা, সার্ক হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশন এবং পোলিশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্সসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিত্বকারী ৫১ জন পর্যবেক্ষক নিজ নিজ ব্যক্তিগত সক্ষমতায় নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করবেন।
আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের আগমনে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন জ্যেষ্ঠ সচিব ও এসডিজি সমন্বয়ক লামিয়া মোর্শেদ। তিনি আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের সফর সমন্বয়ে সহায়তা করছেন। তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন দেশ ও সংস্থা থেকে নির্বাচন পর্যবেক্ষক পাঠানোর যে সাড়া পাওয়া গেছে, তাতে আমরা অভিভূত। এটি একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি বৈশ্বিক সম্প্রদায়ের আস্থার প্রতিফলন।’ তিনি আরও বলেন, ‘সংখ্যার পাশাপাশি পর্যবেক্ষকদের মানও খুবই উৎসাহব্যঞ্জক। অনেক পর্যবেক্ষকেরই বিশ্বজুড়ে নির্বাচন পর্যবেক্ষণের ব্যাপক অভিজ্ঞতা ও উচ্চ যোগ্যতা রয়েছে। এটি আমাদের জন্য অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক।’
উল্লেখযোগ্য উচ্চপর্যায়ের অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে আছেন ঘানার সাবেক প্রেসিডেন্ট নানা আদো দানকওয়া আকুফো-আদো, ভুটানের প্রধান নির্বাচন কমিশনার ডেকি পেমা, বাংলাদেশে তুরস্কের সাবেক রাষ্ট্রদূত মেহমেত ভাকুর এরকুল, যুক্তরাজ্যের হাউস অব লর্ডসে সরকারের সাবেক ডেপুটি চিফ হুইপ লর্ড রিচার্ড নিউবি, মালয়েশিয়ার নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তা রামলান বির হারুন এবং ইরানের পার্লামেন্ট সদস্য ও পররাষ্ট্রনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তা কমিশনের প্রিসাইডিং বোর্ডের সদস্য বেহনাম সাঈদি।
৫০টির বেশি রাজনৈতিক দল এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীসহ দুই হাজারেরও বেশি প্রার্থী সংসদীয় আসনগুলোতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি জুলাই জাতীয় সনদ নিয়ে গণভোটও একই দিনে অনুষ্ঠিত হবে।