হোম > জাতীয়

শাহজালালে স্লট-সংকট, ফ্লাইদিলের অতিরিক্ত ফ্লাইট আপাতত নয়

বিশেষ প্রতিনিধি, ঢাকা

সচিবালয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রীর কার্যালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত সৌদি রাষ্ট্রদূত আবদুল্লাহ ইবনে দাফের ইবনে উবাইয়ার নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলের বৈঠক। ছবি: সংগৃহীত

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সক্ষমতা ও স্লট ব্যবস্থাপনা সীমিত থাকায় সৌদি এয়ারলাইনস ফ্লাইদিলের অতিরিক্ত ফ্লাইট পরিচালনার অনুরোধ তাৎক্ষণিকভাবে বিবেচনা করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে বিকল্প হিসেবে চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সরাসরি দাম্মাম ফ্লাইট চালুর উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।

আজ বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে মন্ত্রীর কার্যালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত সৌদি রাষ্ট্রদূত আবদুল্লাহ ইবনে দাফের ইবনে উবাইয়ার নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে বাংলাদেশ-সৌদি বিমান যোগাযোগ, হজযাত্রী পরিবহন, এয়ার সার্ভিস অ্যাগ্রিমেন্ট (এএসএ), পর্যটনসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় উঠে আসে।

বৈঠকে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ ও ভ্রাতৃপ্রতিম সম্পর্কের ভিত্তিতে বেসামরিক বিমান চলাচল খাতে সহযোগিতা আরও বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। ইতিমধ্যে দুই দেশের মধ্যে সাপ্তাহিক ফ্লাইটসংখ্যা বাড়াতে সৌদি জেনারেল অথরিটি অব সিভিল অ্যাভিয়েশনের (জিএসিএ) সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হয়েছে।

ফ্লাইদিলের অতিরিক্ত ফ্লাইটের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, শাহজালাল বিমানবন্দরের বর্তমান সক্ষমতা ও স্লট ব্যবস্থাপনা সীমিত। এ কারণে এখনই অতিরিক্ত ফ্লাইট পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সরাসরি দাম্মাম ফ্লাইট চালুর উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে।

বৈঠকে বাংলাদেশি হজযাত্রীদের ওপর আরোপিত কর ও বিভিন্ন চার্জ নিয়েও আলোচনা হয়। গত ১৩ জুলাইয়ের বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছিল উল্লেখ করে মন্ত্রী দ্রুত এর সমাধানে সৌদি কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা কামনা করেন।

২০২৭ সালের হজ ফ্লাইট পরিচালনা নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়। ঢাকা-জেদ্দা-ঢাকা রুটে ২০২৭ সালের ২৮ মার্চ থেকে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত প্রতিদিন তিনটি ফ্লাইট পরিচালনার জন্য বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে স্লট চেয়ে আবেদন করেছে। হজের ফ্লাইটের সূচি চূড়ান্ত করতে দ্রুত স্লট অনুমোদনের জন্য সৌদি রাষ্ট্রদূতের সহযোগিতা চান মন্ত্রী।

এ ছাড়া বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে এয়ার সার্ভিস অ্যাগ্রিমেন্ট (এএসএ) নিয়ে অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়। মন্ত্রী জানান, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (সিএএবি) বর্তমানে চুক্তির খসড়া তৈরির কাজ করছে। খসড়া চূড়ান্ত হওয়ার পর চুক্তি স্বাক্ষরের পরবর্তী প্রক্রিয়া শুরু হবে।

হজ মৌসুম সামনে রেখে বাংলাদেশের বিমানবন্দরগুলোর প্রস্তুতি সরেজমিনে পরিদর্শনের বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়। সৌদি জেনারেল অথরিটি অব সিভিল অ্যাভিয়েশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট আলী মোহাম্মদ রাজাবের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদলের ঢাকায় আসার আগ্রহের কথা বৈঠকে জানানো হয়।

বৈঠকে দুই দেশের বিমান যোগাযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি পর্যটন খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়ে উভয় পক্ষ আগ্রহ প্রকাশ করে। মন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত ও ফলপ্রসূ হবে।