হোম > জাতীয়

বিমানবন্দরে ভিআইপি-সিআইপিসহ সবার নিরাপত্তা প্রটোকল সমান: বিমানমন্ত্রী

বিশেষ প্রতিনিধি, ঢাকা

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। ছবি: সংগৃহীত

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেছেন, দেশের সব বিমানবন্দরে ভিআইপি-সিআইপিসহ সবার জন্য নিরাপত্তা প্রটোকল সমান। সমানভাবে এসব প্রটোকল অনুসরণ করতে হবে।

আজ সোমবার ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অনুষ্ঠিত ‘এয়ারপোর্ট ফায়ার ইমার্জেন্সি এক্সারসাইজ ২০২৬’ শীর্ষক মহড়া পরিদর্শন শেষে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

মহড়া পরিদর্শন শেষে বিমান নিরাপত্তায় কোনো ধরনের আপস না করার ঘোষণা দেন বিমানমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। তিনি বলেন, ভিআইপি ও সিআইপি—সবার জন্য নিরাপত্তা প্রটোকল সমান। বিমানবন্দরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সবাইকে সমানভাবে এসব প্রটোকল অনুসরণ করতে হবে।

বিমানবন্দর এলাকায় অনুমোদনহীন ড্রোনের উড্ডয়ন ঠেকাতে অ্যান্টি-ড্রোন সিস্টেম স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

বিমানমন্ত্রী জানান, দায়িত্ব নেওয়ার পর বিমানবন্দরের নিরাপত্তা নিশ্চিতে জাতীয় পর্যায়ে ‘ন্যাশনাল সিভিল অ্যাভিয়েশন সিকিউরিটি কমিটি’ গঠন করা হয়েছে। শিগগিরই আইসিএও অডিট অনুষ্ঠিত হবে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, অডিটে যেসব বিষয়ে পর্যবেক্ষণ আসতে পারে, সেগুলোর কমপ্লায়েন্স নিশ্চিত করতে আগেই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

মন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য হতে হবে জিরো কম্প্রোমাইজ অন অ্যাভিয়েশন সেইফটি।’ বিমানবন্দর রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা হওয়ায় এর নিরাপত্তায় প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও স্ক্যানার পর্যাপ্ত পরিমাণে রাখার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

অনুমোদনহীন ড্রোনের বিষয়ে রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, অগ্নিদুর্ঘটনার সময় বিমানবন্দর এলাকায় অনুমোদনহীন ড্রোন উড়তে দেখা গেছে। তিনি বলেন, বিমানবন্দর রাষ্ট্রের কেপিআইভুক্ত এলাকা। তাই বিমানবন্দর এলাকায় অনুমোদনহীন ড্রোনের উড্ডয়ন বন্ধে অ্যান্টি-ড্রোন সিস্টেম স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বিমানমন্ত্রী বলেন, বিমানবন্দরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। গত বছরের অক্টোবরে বিমানবন্দরের আমদানি কার্গো কমপ্লেক্সে বড় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা এবং এতে ক্ষয়ক্ষতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ ধরনের ঘটনা দেশের ভাবমূর্তির ওপরও প্রভাব ফেলে।

মহড়ার গুরুত্ব তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, এ ধরনের মহড়া নিয়মিত করা প্রয়োজন হলেও বাস্তবে যেন এমন দুর্ঘটনা না ঘটে, সেটিই তাঁর প্রত্যাশা। তিনি বলেন, বিমানবন্দরের জরুরি পরিস্থিতিতে প্রথম কয়েক মিনিট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অগ্নিকাণ্ড মোকাবিলায় রেসপন্স টাইম আরও কমিয়ে আনতে হবে।

এর আগে আজ সকালে বিমান দুর্ঘটনা ও অগ্নিকাণ্ডের মতো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুতি ও আন্তসংস্থা সমন্বয় যাচাইয়ে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ‘এয়ারপোর্ট ইমার্জেন্সি এক্সারসাইজ (ফায়ার)-২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়।

মহড়ায় প্রধান অতিথি ছিলেন বিমানমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। বিশেষ অতিথি ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব ফাহমিদা আখতার। সভাপতিত্ব করেন বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক।

মহড়ায় বেবিচক, বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ, বাংলাদেশ বিমানবাহিনী, এপিবিএন, ট্রাফিক উত্তরা বিভাগ, আনসার, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিক এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থার সদস্যরা অংশ নেন।

উড়োজাহাজে অগ্নিকাণ্ডের পর মহড়ায় আগুন নিয়ন্ত্রণ, যাত্রী উদ্ধার ও নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া, আহতদের চিকিৎসা এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বিত জরুরি প্রতিক্রিয়ার অনুশীলন করা হয়।

মহড়ার কাল্পনিক পরিস্থিতিতে ব্যাংকক থেকে ঢাকাগামী ৯৮ যাত্রী ও পাঁচ ক্রুবাহী একটি উড়োজাহাজ অবতরণের আগে এটিসিকে ডান ইঞ্জিনে আগুন ও কারিগরি ত্রুটির কথা জানায়। জরুরি অবতরণের সময় উড়োজাহাজটি রানওয়ে থেকে ছিটকে পড়ে এবং পরে এতে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে বিমানবন্দরের ফায়ার সার্ভিস, উদ্ধারকারী দল, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও চিকিৎসাসেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো ঘটনাস্থলে গিয়ে অগ্নিনির্বাপণ, উদ্ধার ও চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনা করে।

আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার (আইসিএও) নির্দেশনা এবং ন্যাশনাল সিভিল অ্যাভিয়েশন সিকিউরিটি প্রোগ্রামের আওতায় এ ধরনের পূর্ণাঙ্গ জরুরি মহড়া আয়োজন করা হয়। এর মাধ্যমে জরুরি পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর প্রস্তুতি, সক্ষমতা, সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং পারস্পরিক সমন্বয় যাচাই করা হয়।