শেরপুর-৩ ও বগুড়া-৬ আসনের নির্বাচন
শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচন ও বগুড়া-৬ আসনের উপনির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীদের অভিযোগ খতিয়ে দেখে এই দুই আসনের রিটার্নিং কর্মকর্তাদের প্রতিবেদন পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আজ বৃহস্পতিবার বিকেল পৌনে ৫টার দিকে আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এই তথ্য জানান ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ।
এ সময় আখতার আহমেদ বলেন, ‘আমরা খতিয়ে দেখা শুরু করেছি। আমি এরই মধ্য কর্মকর্তাদের প্রতিবেদন পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছি। দ্যাটস অল।’
শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর ভোট বর্জনের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি আরও বলেন, ‘জামায়াত বর্জন করেছে, কেন করেছে, সেটা তাদের জিজ্ঞেস করেন। আমরা নির্বাচন আয়োজন করেছি, আমরা তো বলিনি, নির্বাচন বর্জন করেন।’
ইসি সচিব বলেন, ‘আমি শুনেছি, পৌনে ৪টায় জাল ভোটের কারণে জামায়াত বয়কট করেছে। সারা দিন ধরে ভোট গেল, এখন শেষ হওয়ার ২০ মিনিট আগে জাল ভোট। আচ্ছা ঠিক আছে। এটা তাদের রাজনৈতিক ব্যাপার। এটা নিয়ে কোনো মন্তব্য নেই। তবে আমি আমার (ইসি) কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেছি। তাঁদের বলেছি, আপনারা একটা প্রতিবেদন দেন। আর ফলাফলটা যেন দেরিতে না হয়। কারণ, ফলাফলটা তো দিতে হবে।’
এর আগে বেলা ১টার দিকে রাজধানীর মগবাজারে এক সংবাদ সম্মেলনে বগুড়া-৬ আসনে উপনির্বাচন ও শেরপুর-৩ আসনের সাধারণ নির্বাচনে ভোট গ্রহণ চলাকালে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ এনেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করে বলেন, সকাল থেকেই বিভিন্ন কেন্দ্রে অনিয়মের তথ্য পাচ্ছেন তাঁরা। নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করে কিছু কেন্দ্রে ভোট শুরুর আগেই প্রিসাইডিং কর্মকর্তারা এজেন্টদের কাছ থেকে ফলাফলের শিটে স্বাক্ষর নিয়েছেন।
এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) হস্তক্ষেপও কামনা করেছেন মিয়া গোলাম পরওয়ার।
এদিকে আজ বেলা ৩টায় শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনের নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ তুলে ভোট বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মাসুদুর রহমান। তাঁর দাবি, সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়।
দলটির অভিযোগ, দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থীর এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি জাল ভোট এবং প্রকাশ্যে সিল মারার ঘটনাও ঘটেছে। এসব বিষয়ে প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অভিযোগ দেওয়া হলেও প্রতিকার পাওয়া যায়নি বলে দাবি করা হয়।