ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের পোস্টাল ব্যালট পেপার প্রবাস থেকে আসা শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে রিটার্নিং কর্মকর্তার অফিস তা গ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিচ্ছে। প্রতি আসনে ৪০০ পোস্টাল ব্যালটের জন্য একটি করে বাক্স রাখা হচ্ছে।
এবার ৩০০ আসনে প্রবাসে ও দেশে ১৫ লাখের বেশি ভোটার পোস্টাল ভোটিংয়ে নিবন্ধন করেছেন। ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটের দিন বিকেল সাড়ে ৪টার মধ্যে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে যাঁদের ব্যালট পেপার পৌঁছাবে, তাঁদের ব্যালট গণনা করা হবে। এর পরে পৌঁছালে বাতিল বলে গণ্য হবে।
সম্প্রতি নির্বাচন কমিশনের (ইসি) জারি করা বিশেষ পরিপত্রে এসব তথ্য জানানো হয়।
এদিকে আজ রোববার নির্বাচনী প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে ঢাকা-১৩ ও ঢাকা-১৫ আসনের রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. ইউনুচ আলী প্রার্থীর প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে পোস্টাল ব্যালটের স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স তালাবদ্ধ করেছেন এবং তা গ্রহণের জন্য কক্ষ নির্ধারণ করেছেন।
পরে ইউনুচ আলী সাংবাদিকদের বলেন, ‘এবার ওসিভি ও আইসিপিভি ভোটের ব্যবস্থা হয়েছে। পোস্টাল ব্যালটে যাঁরা ভোট দেবেন, তাঁদের ব্যালট পেপার রাখার জন্য রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে কক্ষ স্থাপন করা হয়েছে। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের আমন্ত্রণ জানিয়েছি। তাঁদের উপস্থিতিতে বাক্স বন্ধ করাসহ সার্বিক কার্যক্রম করা হয়েছে।’
ইউনুচ আলী জানান, সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। প্রতিটি কক্ষে সার্বক্ষণিক পুলিশি নিরাপত্তা থাকবে। ১২ তারিখ বিকেল সাড়ে ৪টার মধ্যে যেসব ব্যালট আসবে, তা বাক্সে রাখা হবে; এরপর এলে বাক্সে রাখা হবে না। আলাদাভাবে থাকবে।
ইসির বিশেষ পরিপত্রে জানানো হয়, প্রবাসের পোস্টাল ব্যালট পেপারে (ওসিভি) দলীয় ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের প্রতীক থাকবে, তবে নাম থাকবে না। আর দেশে অবস্থানরত ভোটারদের (আইসিপিভি) পোস্টাল ব্যালট পেপারে আসনভিত্তিক প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর নাম ও প্রতীক থাকবে।
পরিপত্রে জানানো হয়, পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার জন্য তৈরি সফটওয়্যারে রিটার্নিং কর্মকর্তা লগইন করার পর সংশ্লিষ্ট সংসদীয় আসনের পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট প্রদানের জন্য নিবন্ধনকৃত ভোটার সংখ্যা ও প্রদত্ত ভোটের সামগ্রিক চিত্র দেখতে ও জানতে পারবেন।
ব্যালট বাক্স বন্ধ
প্রতীক বরাদ্দের দিন বা তার পরদিন পোস্টাল ব্যালট সংরক্ষণের জন্য রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে ব্যালট বাক্স প্রস্তুত রাখতে বলা হয়েছে। পোস্টাল ব্যালট-সংক্রান্ত কার্যক্রমের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য ব্যালট বাক্স বন্ধ (লক) করার আগে প্রার্থী বা তাঁর নির্বাচনী এজেন্টকে উপস্থিত থাকার জন্য দিন ও সময় উল্লেখ করে রিটার্নিং কর্মকর্তা লিখিত অনুরোধ করবেন। নির্ধারিত দিনে সবার উপস্থিতিতে প্রতি আসনের জন্য প্রয়োজনীয়সংখ্যক ব্যালট বাক্সের প্রতিটিতে চারটি করে সিল/লক লাগাবেন। সিল/লক লাগানোর আগে প্রতিটি বাক্স ও সিল/লকের নম্বর উচ্চস্বরে পাঠ করবেন এবং উপস্থিত প্রার্থী বা নির্বাচনী এজেন্টকে তা লিপিবদ্ধ করতে বলবেন। কোনো ব্যালট বাক্স পোস্টাল ব্যালটে পূর্ণ হয়ে গেলে বাক্সের ঢাকনাটি পঞ্চম লক/সিল দিয়ে বন্ধ করে তা নিরাপদ স্থানে সংরক্ষণ করতে হবে।
ডাকযোগে প্রাপ্ত পোস্টাল ব্যালট পেপারসংবলিত ফেরত খাম গ্রহণ ও সংরক্ষণ
ডাক বিভাগ থেকে প্রাপ্ত পোস্টাল ব্যালট গ্রহণ ও সংরক্ষণের জন্য রিটার্নিং কর্মকর্তার একজন কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেবেন। এ ছাড়া ডাক বিভাগ থেকে প্রাপ্ত পোস্টাল ব্যালট স্ক্যানিংসহ অন্যান্য কাজে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে সহযোগিতা করার জন্য প্রয়োজনীয়সংখ্যক সাপোর্টিং স্টাফ নিয়োগ দেবেন। দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ডাকযোগে পোস্টাল ব্যালটের খামগুলো প্রাপ্তির পর খামের ওপর প্রদত্ত কিউআর কোড স্ক্যান করবেন। এরপর আসনভিত্তিক নির্ধারিত ব্যালট বাক্সে খামগুলো নিরাপত্তার সঙ্গে সংরক্ষণ করবেন। কিউআর কোড স্ক্যান করার মাধ্যমে ফরম-১২ আকারে পোস্টাল ব্যালট বিতরণ ও প্রাপ্তির আসনভিত্তিক তালিকা সফটওয়্যার থেকে জেনারেট হবে। দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা প্রতিদিন সফটওয়্যার থেকে জেনারেট করা ফরমটিতে স্বাক্ষর করে তা সংরক্ষণ করবেন।
এ ছাড়া কিউআর কোড স্ক্যান করার সময় সফটওয়্যারে কিউআর কোড ডুপ্লিকেট হিসেবে প্রদর্শিত হলে রিটার্নিং কর্মকর্তা ব্যালটটি বাতিল করবেন। এ ক্ষেত্রে খামটি না খুলেই অন্যত্র সংরক্ষণ করবেন। কিউআর কোড স্ক্যানের জন্য প্রয়োজনীয় স্ক্যানিং সরঞ্জামাদি নির্বাচন কমিশন থেকে সরবরাহ করা হবে।
ভোটার কিউআর কোড স্ক্যান না করা হলে
প্রত্যেক ভোটারকে পাঠানো ভোটদান নির্দেশিকা অনুযায়ী পোস্টাল ব্যালটের খাম প্রাপ্তির পরপরই ভোটার পোস্টাল ভোট বিডি মোবাইল অ্যাপ-এ লগইন করে খামের ওপর প্রদত্ত কিউআর কোডটি স্ক্যান করবেন। এতে ভোটার যে ব্যালট পেপারটি হাতে পেয়েছেন, তা সিস্টেমে শনাক্ত হবে। কিন্তু ভোটার যদি খামের ওপর কিউআর কোড স্ক্যান না করেই ভোট দিয়ে খাম ফেরত পাঠান, তাহলে তা স্ক্যানের সময় সিস্টেমে শনাক্ত হবে না। ফলে ব্যালটটি বাতিল বলে গণ্য হবে। এ ক্ষেত্রে খামটি না খুলেই অন্যত্র সংরক্ষণ করবেন এবং এর হিসাব রাখতে হবে।
গণনা কার্যক্রম
পোস্টাল ব্যালট পেপার গণনার জন্য রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে বা অন্য কোনো সুবিধাজনক স্থানে আসনভিত্তিক গণনাকক্ষ প্রস্তুত করতে হবে। ভোট গ্রহণের দিন অর্থাৎ আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বিকেল সাড়ে ৪টার পরপরই প্রিসাইডিং কর্মকর্তারা স্ব-স্ব আসনের পোস্টাল ব্যালটভর্তি বাক্সগুলো রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছ থেকে বুঝে নেবেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যাতে ব্যালট ফেরত আসে, সে জন্য প্রতীক বরাদ্দের পরপরই দ্রুত ভোট দিয়ে তা ফেরত পাঠাতে ইতিমধ্যে ভোটারদের অনুরোধ জানিয়েছে ইসি।
যেসব কারণে ব্যালট বাতিল হবে
বৈধ ব্যালট পেপার জাতীয় সংসদের ক্ষেত্রে প্রার্থীভিত্তিক এবং গণভোটের ক্ষেত্রে হ্যাঁ/না ভিত্তিক আলাদা করার পর তা গণনা করতে হবে। তবে ইস্যু করা পোস্টাল ব্যালট কিছু ক্ষেত্রে প্রিসাইডিং কর্মকর্তা কোনো প্রার্থীর অনুকূলে গণনা করবেন না। এগুলো হলো—খামের মধ্যে ঘোষণাপত্র না থাকলে, ঘোষণাপত্রে ভোটারের স্বাক্ষর না থাকলে; একাধিক প্রতীকে টিক বা ক্রস চিহ্ন দেওয়া হলে; কোনো প্রতীকে টিক বা ক্রস চিহ্ন দেওয়া না হলে; এমনভাবে টিক বা ক্রস চিহ্ন দেওয়া হয়েছে যে, ভোটটি কোন প্রার্থী বা প্রতীকের পক্ষে দেওয়া হয়েছে, তা যুক্তিসংগতভাবে নিশ্চিত করা যায় না; ওসিভির এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের প্রতীক ছাড়া অন্য প্রতীকে টিক বা ক্রস চিহ্ন দেওয়া হলে; ব্যালট পেপারে টিক বা ক্রস চিহ্ন ছাড়া অন্য কোণে চিহ্ন দেওয়া হলে।
পরিপত্রটি পড়ুন এখানে: