মানব পাচার ও অনিয়মিত অভিবাসন প্রতিরোধে দেশের ইমাম, আলেম ও ওলামারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন বলে মন্তব্য করেছেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক (সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ) মো. আবদুস ছালাম খান। তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন মসজিদের খুতবায় নিরাপদ অভিবাসন বিষয়ে আলোচনা বাড়ানো গেলে মানুষ সচেতন হবে এবং অনেকে পাচারের শিকার হওয়া থেকে রক্ষা পাবে।
আজ বুধবার সকালে রাজধানীতে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কার্যালয়ে ইমামদের নিয়ে আয়োজিত এক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত এই কর্মশালায় মানব পাচার ও অনিয়মিত অভিবাসন প্রতিরোধে ধর্মীয় নেতাদের সম্পৃক্ততার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
মহাপরিচালক বলেন, বাংলাদেশের জন্য নিরাপদ অভিবাসন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনেক মানুষ উন্নত জীবনের আশায় বিদেশে যাওয়ার চেষ্টা করে প্রতারণা ও পাচারের শিকার হচ্ছেন। দেশে প্রায় ৫ লাখ মসজিদ রয়েছে। এসব মসজিদের ইমাম ও আলেমরা যদি নিয়মিত খুতবায় নিরাপদ অভিবাসন নিয়ে আলোচনা করেন, তাহলে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়বে।
নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে আবদুস সালাম খান জানান, তাঁর বাড়ি মাদারীপুরে এবং সেখানে অনেক মানুষ ইতালি যাওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু অনেকে বৈধ পথের বদলে অনিয়মিত পথে বিদেশে যাওয়ার চেষ্টা করে বিপদের মুখে পড়ছেন। এ বিষয়ে জনসচেতনতা তৈরি করা জরুরি বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সভায় ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন মসজিদের ইমাম, খতিব ও মাওলানারা উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা মানব পাচার ও মানব চোরাচালান প্রতিরোধে এবং নিরাপদ উপায়ে বিদেশে যাওয়ার বিষয়ে মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরিতে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
অস্ট্রেলিয়া সরকারের অর্থায়নে ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম আয়োজিত ‘ম্যাস ক্যাম্পেইন টু কমব্যাট হিউম্যান ট্রাফিকিং অ্যান্ড পিপল স্মাগলিং’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় এই কর্মশালার আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ব্র্যাকের সহযোগী পরিচালক শরিফুল হাসান। তিনি বলেন, বাংলাদেশ থেকে প্রতিবছর ১০ লাখেরও বেশি মানুষ বৈধভাবে বিদেশে কর্মসংস্থানের জন্য যাচ্ছেন। তবে এখনো অনেকে দালালদের প্রলোভনে পড়ে সাগরপথে বা অনিয়মিত উপায়ে বিদেশে যাওয়ার চেষ্টা করছেন, যা অনেক ক্ষেত্রে প্রাণহানি ও নিপীড়নের কারণ হচ্ছে। এই প্রবণতা বন্ধ করতে ব্যাপক সচেতনতা জরুরি এবং এ ক্ষেত্রে ইমাম ও আলেমরা বড় ভূমিকা রাখতে পারেন।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ব্র্যাকের সিনিয়র ম্যানেজার সাজ্জাদ হোসেন। এ ছাড়াও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সচিব শেখ মুর্শিদুল ইসলাম, সমন্বয় বিভাগের পরিচালক মো. মহিউদ্দিন, অনুবাদ ও সংকলন বিভাগের পরিচালক আনিসুজ্জামান শিকদার এবং দীনি দাওয়াত ও সংস্কৃতি বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ হারুনুর রশিদ।