হোম > জাতীয়

এলপিজিতে কারসাজি: মন্ত্রণালয়ে তিন দফা বৈঠকের ফল ‘শূন্য’

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎

ইকবাল হাসান মাহমুদ। ছবি: সংগৃহীত

কয়েক সপ্তাহ ধরে ১২ কেজি ওজনের এলপি গ্যাসের সিলিন্ডার বাজারে নির্ধারিত দামের চেয়ে সর্বোচ্চ ১ হাজার টাকা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। দফায় দফায় বৈঠক করেও সরকার কারসাজিতে হস্তক্ষেপ করতে পারেনি। এই পরিস্থিতিতে অক্টোবর মাসের জন্য আজ রোববার এলপি গ্যাসের নতুন দর ঘোষণা করা হবে।

এদিকে গতকাল শনিবার ছুটির দিনেও নিজ কার্যালয়ে কয়েকটি এলপি গ্যাস কোম্পানির সঙ্গে বৈঠক করেছেন জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। বৈঠকের বিষয়ে জানতে চাইলে জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, ‘বৈঠক থেকে যেসব বিষয় পেয়েছি, তা আরও যাচাই-বাছাই করতে হবে।’

বৈঠকে ওমেরা এলপিজির চেয়ারম্যান আজম জে চৌধুরী, একই কোম্পানির তানজিম চৌধুরী, মেঘনা গ্রুপের চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল, যমুনা এলপিজির বেলায়েত হোসেন, আইগ্যাসের সিএফও হারুণ, বিএম এনার্জির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান, এসএইচভির সিইও মার্কো এন্টোনিওকে আমন্ত্রণ জানান হয়েছিল।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার এলপিজি নিয়ে সব জেলার ডিসিদের সঙ্গে জুম বৈঠক করেন মন্ত্রী। সেখানে বাজার কারসাজি খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেন তিনি।

এরও আগে গত সোমবার এলপিজি অপারেটরদের সঙ্গে আরেকটি বৈঠক করেছিলেন জ্বালানিমন্ত্রী। সেই বৈঠকের কোনো ফলাফল এখনো আসেনি।

গত সেপ্টেম্বরের শুরুতে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) এলপিজির যে দাম নির্ধারণ করে, তাতে ১২ কেজি গ্যাসের সিলিন্ডারের দাম দাঁড়ায় ১ হাজার ৫৮৫ টাকা। আর বর্তমানে বাজারে এই গ্যাস বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৩০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকায়। অর্থাৎ ১২ কেজি সিলিন্ডারে প্রায় ১ হাজার টাকা বেশি খরচ করছেন ভোক্তা। সরকার প্রতি কেজি এলপি গ্যাসের দাম ১৩২ টাকা ১২ পয়সা নির্ধারণ করলেও ভোক্তাকে গুনতে হচ্ছে ২০৮ টাকা করে।

খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, এলপিজি প্ল্যান্ট থেকে কোম্পানিগুলো খুবই কম পরিমাণে পণ্য বাজারে ছাড়ছে। ফলে ডিলার ও পরিবেশক পর্যায়ে পণ্য সংকটের কথা বলে বেশি দাম রাখা হচ্ছে। এলপিজি প্ল্যান্টগুলোতে গাড়িগুলো প্রায় ছয়-সাত দিন অপেক্ষায় থাকছে। এসব কারণে দাম বেড়ে গেছে।

তবে এলপিজি অপারেটর বা কোম্পানিগুলো সরকারের কাছে এসব অভিযোগ অস্বীকার করছেন। গ্যাসের পর্যাপ্ত মজুত ও সরবরাহ রয়েছে বলে দাবি করছেন তাঁরা।

দেশে এলপি গ্যাসের বার্ষিক চাহিদা প্রায় ১৮ লাখ টন হিসাব করা হয়। সেই হিসাবে প্রতি মাসে চাহিদা ১ লাখ ৫০ হাজার টন। গত আগস্টে দেশে ১ লাখ ৫৮ হাজার টন এলপি গ্যাস আমদানি হয়েছে। সেপ্টেম্বর মাসেও প্রায় সমান পরিমাণ গ্যাস আমদানি হয়েছে বলে জানা গেছে।

বিষয়টি নিয়ে যোগাযোগ করা হলে এলপিজি অপারেটরস অব বাংলাদেশ লোয়াবের সভাপতি মো. আমিরুল হক আজকের পত্রিকাকে বলেন, এলপি গ্যাসের পর্যাপ্ত আমদানি হয়েছে এটাও সত্য, আবার বাজারে বেশি দাম নেওয়া হচ্ছে সেটাও সত্য। এখন সরকার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ অন্যান্য সংস্থার দায়িত্ব হচ্ছে প্রকৃত কারণ খুঁজে বের করা।