রাজধানী পল্লবীতে আট বছর বয়সী শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যার বহুল আলোচিত মামলার ডেথ রেফারেন্স শুনানি আইনানুগভাবে দ্রুত এগিয়ে নিতে সরকার সুপ্রিম কোর্টের দৃষ্টি আকর্ষণ করবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
আজ রোববার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরাও বিষয়টি মাননীয় সুপ্রিম কোর্টের নজরে আনব এবং অ্যাটর্নি জেনারেল অফিসকে বলব, যাতে ওই শিশুর হত্যা মামলার ডেথ রেফারেন্স শুনানি আইনানুগভাবে কিছুটা এগিয়ে আনা যায়।
এর আগে একই দিন ঢাকার শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন বহুল আলোচিত পল্লবীতে শিশু হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। পাশাপাশি সোহেল রানাকে ৫ লাখ টাকা এবং স্বপ্না আক্তারকে ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। মাত্র ১৭ দিনের বিচারিক কার্যক্রম শেষে মামলার রায় ঘোষণা করা হয়।
রায়ের প্রতিক্রিয়ায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সরকারের নীতি হলো ভালো কাজের জন্য পুলিশকে পুরস্কৃত করা এবং ব্যর্থতার জন্য তিরস্কার করা। তবে এই মামলার তদন্ত ও বিচার সহায়ক কার্যক্রমে পুলিশ বাহিনীর ভূমিকা প্রশংসার দাবিদার।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ‘শিশুকে ধর্ষণ ও হত্যার নৃশংস ঘটনায় সারা দেশে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছিল। জনপ্রত্যাশা অনুযায়ী আমরা অত্যন্ত অল্প সময়ের মধ্যে ডিএনএ পরীক্ষা সম্পন্ন, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন সংগ্রহ এবং চার্জশিট আদালতে দাখিল করতে সক্ষম হয়েছি।’
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বিচার করেছেন আদালত। ঈদের ছুটির মধ্যেও আদালত দায়িত্বশীলতার সঙ্গে বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আদালত তাঁদের ছুটি বাতিল করে কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন। রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকেই তাঁরা এটি করেছেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বিচারপ্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের অবিচার না হয়, সে জন্য রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীর পাশাপাশি আসামিপক্ষের জন্যও আইনজীবী নিয়োগ করা হয়েছিল। এ ছাড়া চিকিৎসক, পুলিশ সদস্যসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা সাক্ষ্য দিয়েছেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এই মামলায় দুই আসামির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি, ডিএনএ পরীক্ষা এবং ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন রয়েছে। সবকিছু মিলিয়ে মামলাটি প্রমাণ করা খুব বেশি কঠিন ছিল না। আমরা অভিযোগ প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছি এবং আদালত ন্যায়বিচার করেছেন।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের বিচারিক ইতিহাস এবং পুলিশের গ্রেপ্তার ও তদন্ত কার্যক্রমের ইতিহাসে এটি একটি মাইলফলক। এভাবেই আমরা জনপ্রত্যাশা অনুযায়ী দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে চাই।’
মৃত্যুদণ্ড কার্যকরে দীর্ঘ সময় লাগার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মৃত্যুদণ্ডের রায় হলে সেটি ডেথ রেফারেন্স হিসেবে হাইকোর্টে শুনানি হতে হয়। সাধারণত পুরোনো মামলার শুনানি আগে এবং নতুন মামলার শুনানি পরে হয়। তবে বিশেষ ক্ষেত্রে ব্যতিক্রমও দেখা গেছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরাও বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টের নজরে আনব এবং অ্যাটর্নি জেনারেল অফিসকে অনুরোধ করব, যাতে শিশু হত্যা মামলার ডেথ রেফারেন্স শুনানিটি আইনানুগভাবে কিছুটা অগ্রাধিকার পায়।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ডেথ রেফারেন্স শুনানির পর যদি মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকে, তাহলে তা কার্যকরের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের বিলম্ব হবে না।