হোম > জাতীয়

গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ করার কোনো মানসিকতা নেই সরকারের: তথ্যমন্ত্রী

বাসস, ঢাকা  

সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলনকক্ষে সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান। ছবি: বাসস।

বর্তমান সরকার কিংবা প্রধানমন্ত্রীর দিক থেকে মিডিয়ার স্বাধীনতা বন্ধ করে দেওয়া বা গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ করার কোনো মানসিকতা নেই বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান।

গণমাধ্যমের স্বাধীনতা প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘গণতন্ত্র বিশ্বাস করাটা একটি মানসিকতার বিষয়। গত ১৭ বছর যে মানসিকতা আমরা দেখেছি, তা ছিল সমালোচনার বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া।’

আজ মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলনকক্ষে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে তথ্যমন্ত্রী সরকারের ছয় মাসের বিশেষ অর্জন বিষয়ে তথ্য অধিদপ্তর প্রকাশিত ‘আই হ্যাভ আ প্ল্যান: গণতান্ত্রিক অভিযাত্রার ৬ মাস’ শীর্ষক বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করেন।

এ ছাড়া সংবাদপত্রের ভুয়া প্রচারসংখ্যা বন্ধের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, কম পত্রিকা ছাপিয়ে লক্ষাধিক সার্কুলেশন দেখানোর অসত্য প্রক্রিয়া বন্ধে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় জোরালোভাবে কাজ শুরু করেছে।

গণমাধ্যমের স্বাধীন ভূমিকার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে ব্রিফিংয়ে তথ্যমন্ত্রী ‘বুদ্ধিবৃত্তিক ফ্যাসিজম’ (ইন্টেলেকচুয়াল ফ্যাসিজম)-এর কঠোর সমালোচনা করেন। বুদ্ধিবৃত্তিক ফ্যাসিজম চর্চাকারীদের সামাজিকভাবে বয়কট করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘যেসব গণমাধ্যম ইন্টেলেকচুয়াল বা বুদ্ধিবৃত্তিক চিন্তাচেতনায় ফ্যাসিজমকে সাপোর্ট করে, প্রমোট করে কিংবা চর্চা করে, তাদের সামাজিকভাবে ধিক্কার ও বয়কট করা ছাড়া আমরা কিছু করতে পারি না।’

তথ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ‘ইন্টেলেকচুয়াল চিন্তাচেতনায় যদি কেউ ফ্যাসিজমকে সাপোর্ট বা প্রমোট করে, সেই জিনিসটাকে সামাজিকভাবে ধিক্কার জানানো ছাড়া আমাদের অন্য কিছু করার থাকে না। যারা মুক্ত বাংলাদেশ এবং নতুন স্বাধীন বাংলাদেশের চেতনায় বিশ্বাস করে না, সামাজিকভাবে বয়কট হওয়াই তাদের জন্য সবচেয়ে বড় বিচার।’

বিগত শাসনামলের প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থার চিত্র তুলে ধরে আন্দালিভ রহমান আরও বলেন, ‘গত ১৭ বছরে দেশের সব সিস্টেম দুর্নীতিগ্রস্ত ছিল। এমন একটি ভঙ্গুর অবস্থার পর দায়িত্ব নিয়ে সরকার দেশের ইতিহাসের অন্যতম কঠিন সময় পার করছে। এই পরিস্থিতিতে আমরা আপনাদের কাছ থেকে বস্তুনিষ্ঠ সমালোচনা আশা করি, যাতে আমরা ভুলত্রুটি শুধরে সঠিক পথে এগিয়ে যেতে পারি।’

শেখ হাসিনার প্রসঙ্গে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী বলেন, তিনি বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী বিষয়টি আদালত বা বিচারিক প্রক্রিয়ার (জুডিশিয়ারি) মাধ্যমে নিষ্পত্তির চেষ্টা চলছে। তবে বাংলাদেশ সরকারের স্পষ্ট দাবি হলো—জুলাই আন্দোলনসহ বিগত সময়ের সব অপরাধের সঠিক বিচারের স্বার্থে যাঁদের নামে মামলা রয়েছে, তাঁদের সবাইকে ফেরত আনা হবে।

ব্রিফিংয়ে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী গণমাধ্যমের স্বাধীনতার কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘অতীতেও বলেছি, সরকারের বিরুদ্ধে বলার স্বাধীনতা সকলেরই আছে। সরকারের বিরুদ্ধে হোক কিংবা পক্ষে, জনগণের কথা তুলে ধরাই গণতন্ত্র। বিটিভি ও সরকারি মাধ্যমে এখন থেকে আনুপাতিক হারে বিরোধী দলগুলোর খবরও প্রচার করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’

প্রতিমন্ত্রী জানান, সাংবাদিকদের কল্যাণে ট্রাস্ট ফান্ডের অনুদান দ্বিগুণ করার জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ে আবেদন করা হয়েছে। অসুস্থ ও অসচ্ছল সাংবাদিকদের জন্য ইতিমধ্যে এক কোটি টাকা হস্তান্তর করা হয়েছে।

ব্রিফিংয়ে তথ্য ও সম্প্রচার সচিব মাহবুবা ফারজানা এবং তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ উপস্থিত ছিলেন।

আগের হামলার পরও সাংবাদিক আলিফের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া উদ্বেগজনক: আসক

আপত্তি ও কাটছাঁটে আটকে আছে নদী কমিশন আইন

জুলাই সনদের ১ বছর: স্বাক্ষরেই থমকে আছে সংস্কার

ধর্মীয় উৎসব পালনে নিরাপত্তা চাওয়ার পরিস্থিতি দুঃখজনক: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ড. ইউনূসকে ‘হিলারি ক্লিনটন অ্যাওয়ার্ড’ প্রদান, দাঁড়িয়ে সম্মান জানালেন ৪০০ অতিথি

ক্ষমতার রাজনীতি ও আমলাতান্ত্রিক চাপে জিম্মি রাষ্ট্র সংস্কার: টিআইবি

প্রতিটি ধর্মই মানুষকে সত্য, ন্যায় ও মানবকল্যাণের শিক্ষা দেয়: রাষ্ট্রপতি

৮-১০ লাখে যুব উন্নয়নের প্রশ্নপত্র ফাঁস, গ্রেপ্তার ৭ জনের ৫ জনই সরকারি কর্মচারী

দুর্গাপূজায় হিন্দু সম্প্রদায়কে প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা

সাইবার সিকিউরিটি আইন প্রয়োজন, তবে সাংবাদিকতা ব্যাহত করা যাবে না: প্রেস সচিব