হোম > জাতীয়

আমাদের একমাত্র পরিচয় বাংলাদেশি, এই দেশ আপনার–আমার–সবার: প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: পিএমও

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘এই দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আজ আমি আপনাদের এখানে উপস্থিত হয়েছি এতটুকু বলার জন্য যে, এই দেশ আপনার। এই দেশ আমার, এই দেশ আমাদের সকলের। আমরা মুসলমান হই, আমরা হিন্দু হই, বৌদ্ধ যেই হই না কেন, ধর্ম আমাদের নিজস্ব বিষয়। কিন্তু আমরা প্রত্যেকটি মানুষ বাংলাদেশি।’

আজ মঙ্গলবার রাতে চট্টগ্রামের রহমতগঞ্জে জেএমসেন হল পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ধর্ম নির্বিশেষে দেশের সব মানুষের একমাত্র পরিচয় বাংলাদেশি। নতুন বাংলাদেশ গড়তে হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধসহ সব নাগরিকের সহযোগিতা প্রয়োজন।

তারেক রহমান বলেন, ‘এই দেশে আমরা জন্মেছি, এই দেশে বড় হয়েছি। আমরা এই দেশের নাগরিক। আমাদের একমাত্র পরিচয় আমরা বাংলাদেশি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি একজন মুসলমান। আমাকে রাজনৈতিক কারণে বাধ্য হয়ে সতেরোটি বছর বিদেশে থাকতে হয়েছিল। মুসলমান হিসেবে যদি সংখ্যালঘু বা সংখ্যাগুরু এই শব্দটি দিয়ে কাউকে যাচাই-বাছাই করতে হয়, তাহলে আমি হয়তো এখানে সংখ্যাগুরু। কিন্তু আমি যখন লন্ডনে ছিলাম, তখন কি সংখ্যাগুরু ছিলাম? সেখানে তো অন্য ধর্মের মানুষ বেশি, আমিতো সেখানে সংখ্যালঘু।’

তারেক রহমান বলেন, ‘কাজেই সংখ্যাগুরু-সংখ্যালঘু কোনো বিষয় না। বিষয়টি হচ্ছে একটিই, আপনি বাংলাদেশি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের আইন তাঁর জন্য যা প্রযোজ্য, অন্য সবার জন্যও তা প্রযোজ্য। দেশের ওপর একজন নাগরিকের যে অধিকার, অন্য নাগরিকেরও সেই অধিকার রয়েছে। রাষ্ট্র একজনকে যা দেবে, অন্যকেও তা দেবে।

তারেক রহমান বলেন, মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে গণ-অভ্যুত্থান পর্যন্ত একটিই লক্ষ্য ছিল—নতুন বাংলাদেশ গড়া, যেখানে সবাই মিলেমিশে থাকবেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আসুন আমরা সকলে মিলে সেই কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশটি গড়ে তুলি। যে বাংলাদেশটির জন্য বিভিন্ন সময় দল-মত-বর্ণনির্বিশেষে আমরা বুকের রক্ত ঢেলে দিয়েছি।’

তারেক রহমান বলেন, নতুন বাংলাদেশ গড়তে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি সবার সহযোগিতা চান। হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ—সব ধর্মের মানুষের সহযোগিতা ছাড়া নতুন বাংলাদেশ গড়া সম্ভব নয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে বলেন, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মানুষ জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ করেছিলেন এবং যুদ্ধের মাধ্যমে প্রিয় মাতৃভূমিকে ছিনিয়ে এনেছিলেন। যুদ্ধের মাঠে শত হাজারো ও লাখো মানুষ অংশ নিয়েছিলেন। কয়েক লাখ মানুষ শহীদ হয়েছেন।

তারেক রহমান বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় কেউ দেখেননি কে হিন্দু, কে বৌদ্ধ বা কে খ্রিষ্টান। সবাই দেখেছিলেন, তাঁরা মুক্তিযুদ্ধ করেছেন এবং দেশ স্বাধীন করেছেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার পর বিভিন্ন সময় গণতন্ত্র হুমকির মুখে পড়েছে। গণতন্ত্র রক্ষা ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় তখন ছাত্র-জনতাসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা-কর্মী রাজপথে নেমে এসেছিলেন। তাঁদের ধর্মীয় পরিচয় কেউ দেখেননি বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তারেক রহমান বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে দেশের ছাত্র-জনতা স্বৈরাচারকে বিদায় করেছে। সারা বাংলাদেশে লাখ লাখ মানুষ রাজপথে নেমে এসেছিলেন। মা-বোন, বিভিন্ন বয়সী মানুষ এবং শিশু-তরুণেরাও এতে অংশ নেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তখন কেউ কিন্তু আমরা জিজ্ঞেস করিনি গুলি খাওয়া মানুষটি কি মুসলমান, নাকি হিন্দু, নাকি বৌদ্ধ, নাকি খ্রিষ্টান।’

তারেক রহমান বলেন, ক্ষমতায় থাকার জন্য স্বৈরাচার গুলি করেছিল। হাসপাতালে নেওয়ার পথে অনেকে মারা গেছেন এবং অনেকে চিকিৎসা নিয়েছেন। চিকিৎসার সময় কারও ধর্মীয় পরিচয় জানতে চাওয়া হয়নি বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলাদেশ পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক অর্পণ কান্তি ব্যানার্জি। পরে সাংস্কৃতিক নৃত্য পরিবেশনের পর নেতারা বক্তব্য দেন।

বক্তব্য শুরুর আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের সভাপতি অরূপ কান্তি ব্যানার্জি ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নিখিল কুমার নাথের হাতে ২০ লাখ টাকার অনুদানের চেক তুলে দেন। পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের নেতারা প্রধানমন্ত্রীকে স্মারক ও বনসাই উপহার দেন।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন রুহুল কবির রিজভী, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদসহ অন্যান্য নেতারা।

পৌনে ১০টায় জেএমসেন হলের অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান র‍্যাডিসন ব্লুর উদ্দেশে রওনা হন। সেখানে তিনি বিএনপি নেতাদের সঙ্গে সাংগঠনিক বৈঠকে মিলিত হন।

এর আগে সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতারা একটি সামরিক বিমানে চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামেন। বিমানবন্দরে আগে থেকে অবস্থান নেওয়া বিএনপির একাধিক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, সংসদ সদস্য, চসিক মেয়র, পুলিশ ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তিনি করমর্দন করেন।

সড়কপথে রাত ৮টা ১৫ মিনিটে প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহর জেএমসেন পূজামণ্ডপে পৌঁছায়। পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের নেতারা ফুল দিয়ে তাঁকে বরণ করেন।

প্রধানমন্ত্রীর আগমনের কয়েক ঘণ্টা আগে থেকে রহমতগঞ্জের জেএমসেন পূজামণ্ডপের আশপাশে বিএনপির নেতা-কর্মীসহ সহস্রাধিক উৎসুক মানুষ ভিড় করেন। তাঁরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেন।

নিরাপত্তার অংশ হিসেবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জেএমসেন হলের প্রবেশ সড়কের দুই পাশে ডাইভারশন দিয়ে যানবাহন ও লোকজনের চলাচল বন্ধ রাখে। পুলিশি নিরাপত্তাবেষ্টনীর মধ্য দিয়ে পুণ্যার্থী ও দর্শনার্থীদের যাতায়াত করতে দেওয়া হয়।

১৯৯৩ সালে জন্মাষ্টমীর অনুষ্ঠানে যোগ দিতে চট্টগ্রামে এসেছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। প্রায় তিন দশক পর মায়ের পদাঙ্ক অনুসরণ করে মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) চট্টগ্রামের জেএমসেন হলের পূজামণ্ডপে আসেন তারেক রহমান।

বাংলাদেশে শিশুদের জন্য জরুরি বিনিয়োগের আহ্বান ইউনিসেফের নির্বাহী পরিচালকের

বাংলাদেশে বসবাসকারী সব ধর্মের মানুষের একমাত্র ও প্রধান পরিচয় বাংলাদেশি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

মাদকের সেই স্পটে এবার পুলিশের অভিযান, গাঁজাসহ আটক ৩

সৌদি বিমানবন্দরে হামলা: শাহেদের মরদেহ দেশে আসছে শুক্রবার

৪০ লাখ কৃষকের কাছে কার্ড পৌঁছে দেব এ বছরেই: প্রধানমন্ত্রী

ডিজে পার্টি-কাণ্ডে অতিরিক্ত ডিআইজি আবদুল্লাহ আল জহির প্রত্যাহার

স্বৈরাচার পয়সা দিচ্ছে, আরেক পক্ষ অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে: প্রধানমন্ত্রী

ইশরাক কাজটা ভালোই করেছেন, তবে অস্ত্র হাতে নেওয়া ঠিক হয়নি: স্পিকার

রাজশাহীর ৩৯ হাজার আখচাষিকে প্রণোদনা দিলেন প্রধানমন্ত্রী

দুর্গাপূজায় ১ হাজার ৮৪১ মণ্ডপে নিরাপত্তা দিচ্ছে এসআরবি