হোম > জাতীয়

ঢাকেশ্বরী মন্দিরে ট্রান্সজেন্ডার বিয়ে: আইনগত ব্যবস্থা নিতে হাইকোর্টের রুল

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎

ফাইল ছবি

ঢাকেশ্বরী মন্দিরে ট্রান্সজেন্ডার বিয়ে করতে জাতীয় পরিচয়পত্রে জালিয়াতি ও মিথ্যা পরিচয় ব্যবহারের ঘটনায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে কর্তৃপক্ষের নিষ্ক্রিয়তা কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করছেন হাইকোর্ট।

একই সঙ্গে অভিযোগ তদন্ত করে আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা-ও জানতে চাওয়া হয়েছে রুলে।

এই সংক্রান্ত রিটের পরিপ্রেক্ষিতে আজ মঙ্গলবার বিচারপতি কে এম কামরুল কাদের ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের বেঞ্চ এই রুল জারি করেন।

এর আগে ঢাকেশ্বরী মন্দিরে ট্রান্সজেন্ডার বিয়ের ঘটনায় গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। পরে ওই প্রতিবেদন যুক্ত করে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোহাম্মদ মেসবাহ উদ্দিন চৌধুরী গত ৩০ আগস্ট রিট করেন।

রিটে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব, ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, আইনসচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক, ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার, লালবাগ বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনারসহ সংশ্লিষ্টদের বিবাদী করা হয়।

রিটে বলা হয়, গত ১০ জুলাই ঢাকেশ্বরী মন্দিরে পাত্র লিটন চন্দ্র বিশ্বাসের সঙ্গে তাসনুভা আনান ওরফে শিশিরকে কনে হিসেবে উপস্থাপন করে বিয়ের অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়। পরে বিভিন্ন গণমাধ্যমে ঘটনাটিকে বাংলাদেশে প্রথম ট্রান্সজেন্ডার বিয়ে হিসেবে প্রচার করা হয়। বিয়ের সময় শিশির বিশ্বাস নামে যে জাতীয় পরিচয়পত্র মন্দির কর্তৃপক্ষকে দেওয়া হয়েছিল, তাতে যে নম্বর ব্যবহার করা হয়েছে, তার প্রকৃত মালিক মো. জাহিদুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি। জাহিদুল ইসলামের জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর ব্যবহার করে নাম, ছবি, পিতা-মাতার নাম ও জন্মতারিখ পরিবর্তন করে শিশির বিশ্বাস নামে ভুয়া পরিচয়পত্র তৈরি করা হয়েছিল।

রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মোহাম্মদ আহসান। সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী ইশরাত হাসান। আইনজীবী ইশরাত হাসান বলেন, শুধু ট্রান্সজেন্ডার বিয়ে নয়, এখানে অন্য ব্যক্তির জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর ব্যবহার করে ভুয়া পরিচয়পত্র তৈরির অভিযোগ উঠেছে। সেই সঙ্গে এমন একটি সম্পর্ককে উপস্থাপন করা হয়েছে, যার কোনো স্বীকৃতি বাংলাদেশের প্রচলিত আইনে নেই। এ জন্যই আমরা রিট করেছি।