হোম > জাতীয়

রোহিঙ্গা সংকট ঘনীভূত হচ্ছে, আন্তর্জাতিক উদ্যোগ চান শামা ওবায়েদ

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎

‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন ২০২৬’-এর প্রথম অধিবেশনে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। ছবি: আজকের পত্রিকা

রোহিঙ্গা সংকট দিন দিন আরও জটিল হয়ে উঠছে উল্লেখ করে এর সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমন্বিত উদ্যোগ প্রত্যাশা করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। তিনি বলেছেন, রোহিঙ্গা সংকট বাংলাদেশের তৈরি কোনো সমস্যা নয় এবং এই সংকটের ভার চিরকাল বাংলাদেশের পক্ষে বহন করা সম্ভব নয়।

রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে আজ শনিবার সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন ২০২৬’-এর ‘এ ওয়ার্ল্ড রিরাইটেন—পাওয়ার, টেকনোলজি অ্যান্ড ট্রাস্ট ইন দ্য এজ অব আনসার্টেনটি’ শীর্ষক প্রথম অধিবেশন এসব কথা বলেন শামা ওবায়েদ।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ বহুমুখী ও জটিল পরিস্থিতি মোকাবিলায় দেশটির সরকার, আরাকান আর্মি এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য পক্ষের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা প্রয়োজন। একই সঙ্গে সংকট নিরসনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমন্বিত উদ্যোগও জরুরি।

কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শিবিরের পরিস্থিতি তুলে ধরে শামা ওবায়েদ বলেন, সেখানে বসবাসরত তরুণ রোহিঙ্গাদের শিক্ষা, চিকিৎসা, খাদ্য ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে গুরুতর ঘাটতি রয়েছে। প্রতিবছর প্রায় ৩০ হাজার শিশু জন্ম নেওয়া এবং নতুন করে শরণার্থী আসতে থাকায় মানবিক সংকট আরও ঘনীভূত হচ্ছে। মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ সংঘাতের প্রভাব বাংলাদেশের সীমান্তেও পড়ছে বলে উল্লেখ করেন শামা ওবায়েদ। এর ফলে নতুন ধরনের নিরাপত্তা সংকট তৈরি হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে সাম্প্রতিক কূটনৈতিক উদ্যোগের প্রসঙ্গে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক চীন ও মালয়েশিয়া সফরে বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। মিয়ানমার সরকার ও আরাকান আর্মির ওপর কার্যকর চাপ তৈরিতে চীন কীভাবে ভূমিকা রাখতে পারে, তা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। তিনি বলেন, শুধু প্রতিবেশী দেশগুলোর উদ্যোগে এ সংকটের সমাধান সম্ভব নয়। আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোর পাশাপাশি পশ্চিমা বিশ্ব, ইসলামিক দেশগুলোসহ পুরো আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সমন্বিতভাবে এগিয়ে আসতে হবে।

এ সময় শামা ওবায়েদ এআইয়ের ফলে বিভিন্ন ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘সাইবার ও ডিজিটাল জগতে এআইয়ের কারণে আমরা নানা ধরনের ভুল তথ্য ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াতে দেখছি। পাশাপাশি নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধে ডিজিটাল হয়রানিও দেখতে পাচ্ছি, যা এই প্রযুক্তির ব্যবহারের ফলে তৈরি হচ্ছে। তাই অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে আমরা যখন প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনকে গ্রহণ করছি, একই সঙ্গে সাইবার নিরাপত্তায় ডিজিটাল হয়রানির মতো সমস্যাগুলো কীভাবে মোকাবিলা করা যায়, সে বিষয়ে বিশ্বকে ঐক্যবদ্ধ করার উদ্যোগও আমাদের নিতে হবে। কারণ এটি কোনো নির্দিষ্ট দেশের সমস্যা নয়; এখন এটি একটি বৈশ্বিক ইস্যুতে পরিণত হয়েছে।’

অধিবেশনে আরও অংশ নেন বাংলাদেশে নরওয়ের দূতাবাসের ডেপুটি হেড অব মিশন আলেকজান্ডার ফাল্ক-বিলডেন, যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় স্টেট ইউনিভার্সিটির ডিস্টিংগুইশড প্রফেসর আলী রীয়াজ, সার্বিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট বরিস তাদিচ এবং মন্টেনেগ্রোর সংসদ সদস্য গর্ডান স্তয়োভিচ। আলোচনা সঞ্চালনা করেন সিঙ্গাপুরের টাইম ম্যাগাজিনের এডিটর-অ্যাট-লার্জ চার্লস থমাস ক্যাম্পবেল।

আলোচনায় আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার পরিবর্তন, প্রচলিত জোট ও অংশীদারত্বের রূপান্তর, প্রযুক্তির প্রভাব এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতি মানুষের আস্থার সংকট নিয়েও আলোচনা হয়।