পুলিশের শার্ট আগের মতোই হালকা জলপাই বা লাইট অলিভ রঙের থাকবে, তবে প্যান্ট খাকি রঙের করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
আজ সোমবার দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে ‘বল প্রয়োগে বাস্তুচ্যুত মিয়ানমার নাগরিকদের সমন্বয়, ব্যবস্থাপনা ও আইনশৃঙ্খলা-সম্পর্কিত জাতীয় কমিটি’র সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক এ জেড এম জাহিদ হোসেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার কঠোর এবং আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, জনমনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং সরকার সঠিক পথেই এগোচ্ছে। ইতিমধ্যে মাদক, অবৈধ অস্ত্র ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে শুরু হয়েছে বিশেষ অভিযান।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গণতান্ত্রিক ও স্বচ্ছ নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত এই সরকারের ওপর জনগণের পূর্ণ ম্যান্ডেট রয়েছে। উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া নাজুক ও বিশৃঙ্খল অবস্থা থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ বিভিন্ন সংস্থাকে পুনর্গঠন করে শৃঙ্খলায় ফিরিয়ে আনতে কিছুটা সময় লাগলেও অগ্রগতি হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে।
পুলিশের ইউনিফর্ম নিয়ে দীর্ঘদিনের অসন্তোষের বিষয়ে মন্ত্রী জানান, নীতিগতভাবে নতুন ইউনিফর্ম অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মহানগর ও জেলা পুলিশের শার্টের রং আগের মতো থাকলেও প্যান্ট খাকি রঙের করা হবে। প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি শেষে তা কার্যকর করা হবে। এই পোশাক পেলে মহানগর পুলিশকে দেখা যাবে আগের মতোই হালকা জলপাই বা লাইট অলিভ রঙের শার্টে, সঙ্গে থাকবে খাকি প্যান্ট। আর জেলা পুলিশসহ অন্য পুলিশ সদস্যরা গাঢ় নীল শার্টের সঙ্গে খাকি প্যান্ট পরবেন।
জাতীয় কমিটির বৈঠকে রোহিঙ্গা ক্যাম্প ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে আলোচনা হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফে অবস্থানরত ১২ থেকে ১৪ লাখ বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমার নাগরিকের নিরাপত্তা, শৃঙ্খলা বজায় রাখা, মাদক চোরাচালান রোধ এবং ক্যাম্পের ভেতরে-বাইরে নিরাপত্তা জোরদারে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। যৌথ ফোর্সের নেতৃত্ব ও কার্যক্রম নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে, কিন্তু চূড়ান্ত কিছু হয়নি। তাই এ বিষয়ে এখনো বলার মতো কোনো সিদ্ধান্ত নেই।
পুলিশ প্রশাসনে সাম্প্রতিক বদলি ও বাধ্যতামূলক অবসর নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, এটি কোনো রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং নিয়মিত প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার অংশ। নিয়োগ, বদলি, পদোন্নতি, শৃঙ্খলাজনিত ব্যবস্থা ও অবসর—সবই আইন অনুযায়ী হচ্ছে। বাধ্যতামূলক অবসরের ক্ষেত্রেও অভ্যন্তরীণ কমিটির মাধ্যমে যাচাই-বাছাই করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে জামিনে মুক্ত হওয়া অপরাধীদের প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জামিন একটি আইনি বিষয়। তবে এসব চিহ্নিত অপরাধী যাতে পুনরায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে, সে বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক রয়েছে। হত্যাকাণ্ডসহ যেকোনো অপরাধের ক্ষেত্রে আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা হবে।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণে গত শুক্রবার (১ মে) থেকে সারা দেশে বিশেষ যৌথ অভিযান শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পাশাপাশি পুলিশ, র্যাবসহ অন্যান্য সংস্থাও এই অভিযানে অংশ নিচ্ছে। শুধু মাদক নয়, অবৈধ অস্ত্র ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধেও বিশেষ অভিযান চলছে। তিনি আরও বলেন, মাদকের বিস্তার দীর্ঘদিনের সমস্যা। তাই এখন ব্যবহারকারীদের চেয়ে বড় চোরাচালানকারী ও সীমান্তপথে মাদক সরবরাহকারীদের ধরার ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে, জাতীয় সংসদের সাম্প্রতিক অধিবেশন প্রসঙ্গে করা এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর পর গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সংসদের প্রথম অধিবেশন ছিল প্রাণবন্ত ও কার্যকর। অত্যন্ত সফল অধিবেশন হয়েছে। সেখানে সরকারি ও বিরোধী দলের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছিল এবং সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে আলোচনা হয়েছে। তিনি বলেন, গণতন্ত্রে মতবিরোধ স্বাভাবিক এবং সংসদে উভয় পক্ষই তাদের অবস্থান তুলে ধরেছে। গুরুত্বপূর্ণ অনেক ইস্যুতে সরকার ও বিরোধী দল একসঙ্গে কাজ করেছে, যা ইতিবাচক দৃষ্টান্ত।
ব্রিফিংকালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।