নেত্রকোনার দুর্গাপুরে সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকিরকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বেসরকারি সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)। ২০২৫ সালের নভেম্বরে হামলার শিকার হওয়ার পরও আলিফের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে না পারা এবং পরবর্তী সময়ে তাঁকে হত্যার ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে জানিয়েছে মানবাধিকার সংস্থাটি।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ উদ্বেগ জানায় আসক।
বিবৃতিতে গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের তথ্য তুলে ধরে বলা হয়, গত ১৫ অক্টোবর রাতে নেত্রকোনার দুর্গাপুরের তেলনজিয়া এলাকায় সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকিরকে গুলি করা হয়। তিনি বেসরকারি আইপিটিভি চ্যানেল রূপসী বাংলার নেত্রকোনা প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এর আগে ২০২৫ সালের নভেম্বরে তিনি হামলার শিকার হয়েছিলেন। আগের হামলার পরও তাঁর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে না পারা এবং পরবর্তী সময়ে তাঁকে হত্যার ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
আসক মনে করে, একজন সাংবাদিককে এভাবে গুলি করে হত্যা করা কেবল একজন ব্যক্তির জীবনের ওপর আঘাত নয়, এটি স্বাধীন সাংবাদিকতা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও জনগণের জানার অধিকারের জন্যও বিপজ্জনক বার্তা। অনিয়ম, দুর্নীতি, অপরাধ ও ক্ষমতার অপব্যবহার নিয়ে অনুসন্ধান করতে গিয়ে সাংবাদিকেরা যেন সহিংসতার শিকার না হন, তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সাংবাদিকদের ওপর সহিংসতা ও হত্যাকাণ্ডের বিচারহীনতা অব্যাহত থাকলে সমাজে ভয়ের পরিবেশ তৈরি হবে। এতে জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে স্বাধীনভাবে সংবাদ সংগ্রহ ও প্রকাশের পথ সংকুচিত হবে। পাশাপাশি গণতান্ত্রিক জবাবদিহি ও আইনের শাসন ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
বাংলাদেশের সংবিধানের ৩২ ও ৩৯ অনুচ্ছেদে যথাক্রমে জীবনের অধিকার এবং মতপ্রকাশ ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা সুরক্ষিত রয়েছে। একইভাবে নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকারবিষয়ক আন্তর্জাতিক চুক্তির (আইসিসিপিআর) ৬ ও ১৯ অনুচ্ছেদে জীবনের অধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। এসব অধিকার সুরক্ষায় সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং তাঁদের ওপর সংঘটিত সহিংসতার কার্যকর তদন্ত ও বিচার করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব বলে উল্লেখ করেছে আসক।
সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক তাহমিনা রহমান বলেন, এ ধরনের হত্যাকাণ্ডের তদন্তে কোনো ধরনের অবহেলা, প্রভাব বা পক্ষপাতের সুযোগ থাকা উচিত নয়। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত প্রত্যেককে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। নিরপেক্ষ ও কার্যকর তদন্তের মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে।
বিবৃতিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি সাংবাদিকদের ওপর হামলা, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও হত্যার ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি সাংবাদিকেরা যাতে কোনো ধরনের হুমকি বা আশঙ্কা ছাড়াই পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে পারেন, সেই পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানায় আসক।
সংস্থাটি বলেছে, স্বাধীন সাংবাদিকতা রক্ষা করা কোনো বিশেষ পেশাজীবী গোষ্ঠীর স্বার্থের বিষয় নয়। বরং গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার অন্যতম পূর্বশর্ত।