২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে রাজধানীর মিরপুরে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক শিল্প প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদার, সাবেক সংসদ সদস্য মো. ইলিয়াস উদ্দিন মোল্লাহ, যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিলসহ ১৯ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে।
আজ সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ আনুষ্ঠানিক এই অভিযোগ দাখিল করে প্রসিকিউশন।
পরে ব্রিফিংয়ে প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামীম বলেন, মিরপুর এলাকায় সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ১৯ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৮ ও ১৯ জুলাই এবং ৪ ও ৫ আগস্ট মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বর এলাকা, পল্লবীর কিছু এলাকায় ৫০ জনের বেশি নিরীহ-নিরস্ত্র ছাত্র-জনতাকে গুলি করে হত্যা করা হয়। ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ছাড়াও সেখানকার আওয়ামী লীগের (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সশস্ত্র ক্যাডাররা ছিল।
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার আসামি সাবেক মন্ত্রী কামরুল ইসলামের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করার অভিযোগ তুলেছেন প্রসিকিউটর মো. মিজানুল ইসলাম। আজ সোমবার তিনি বলেন, দুপুরের খাওয়ার বিরতিতে ট্রাইব্যুনালের এজলাসের কাঠগড়া থেকে নামিয়ে হাজতখানায় নেওয়ার সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে কামরুল ইসলাম দুর্ব্যবহার করেছেন বলে শুনেছেন। এটা তাঁরা মাঝেমধ্যেই দেখতে পান।
মিজানুল ইসলাম বলেন, সাক্ষ্য গ্রহণের সময় সাক্ষী বলেন, আওয়ামী লীগের নেতারা কারফিউ জারির সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তখন প্রসিকিউটর বি এম সুলতান মাহমুদ সাক্ষীকে প্রশ্ন করেন, সেই নেতারা কারা? এ প্রশ্নের পরপরই কামরুল ইসলাম প্রশ্নটি নিয়ে আপত্তি করেন এবং বাগ্বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়ার চেষ্টা করেন। ট্রাইব্যুনাল শান্তভাবে বিষয়টি মোকাবিলা করেন। প্রসিকিউশনের উদ্দেশ্য হচ্ছে আসামির বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে, সেটা প্রমাণ করা। প্রমাণের জন্য যে প্রশ্ন করা দরকার, সেটাই প্রসিকিউটর সুলতান মাহমুদ করেছেন।