দীর্ঘদিন অনুমতি ছাড়া কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগে ছয় পুলিশ কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করেছে সরকার। এর মধ্যে অতিরিক্ত ডিআইজি, পুলিশ সুপার ও অতিরিক্ত পুলিশের পদমর্যাদা কর্মকর্তারা রয়েছেন। আজ সোমবার সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের শৃঙ্খলা-১ শাখার সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী স্বাক্ষরিত পৃথক প্রজ্ঞাপনে বিষয়টি জানানো হয়।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আনা পলায়ন ও অসদাচরণের অভিযোগ তদন্তে সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) পরামর্শক্রমে রাষ্ট্রপতি তাঁদের বরখাস্তের অনুমোদন দিয়েছেন। বরখাস্ত হওয়া ছয় কর্মকর্তা হলেন মোহাম্মদ জায়েদুল আলম, মো. আসাদুজ্জামান, আরিফুর রহমান মণ্ডল, রাজীব দাস, মোহাম্মদ ছানোয়ার হোসেন ও পলাশ রঞ্জন দে।
প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, কর্মস্থলে বিনা অনুমতিতে দীর্ঘদিন অনুপস্থিত থাকা, ছুটি শেষে কর্মস্থলে যোগ না দেওয়া ও কর্তৃপক্ষের বারবার যোগাযোগের চেষ্টার পরেও সাড়া না দেওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা অনুযায়ী তাঁদের বিরুদ্ধে ‘অসদাচরণ’ ও ‘পলায়ন’-এর অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় এ প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
বরখাস্ত হওয়া কর্মকর্তাদের মধ্যে একজন অতিরিক্ত ডিআইজি ছাড়া চারজন পুলিশ সুপার (এসপি) ও দুজন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সুপারনিউমারারি পুলিশ সুপার পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত) রয়েছেন।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, খাগড়াছড়ির এপিবিএন ও বিশেষায়িত ট্রেনিং সেন্টারের সাবেক অতিরিক্ত ডিআইজি এবং পরবর্তী সময়ে রংপুর রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে সংযুক্ত মোহাম্মদ জায়েদুল আলম ২০২৪ সালের ৪ নভেম্বর থেকে কোনো ধরনের অনুমতি ছাড়া কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন। তাঁর সঙ্গে ই-মেইল ও হোয়াটসঅ্যাপে বারবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি কর্মস্থলে যোগ দেননি।
এ ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়। তদন্ত শেষে তাঁর বিরুদ্ধে পলায়নের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ২০২৪ সালের ৪ নভেম্বর থেকে তাঁর বরখাস্তের আদেশ কার্যকর করা হয়েছে।
ঢাকা জেলার সাবেক পুলিশ সুপার ও পরবর্তী সময়ে সারদা পুলিশ একাডেমিতে সংযুক্ত মো. আসাদুজ্জামান ২০২৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর সারদায় যোগ দেন। এরপর ১৭ থেকে ২১ সেপ্টেম্বর ছুটির উদ্দেশ্যে কর্মস্থল ত্যাগ করেন। ছুটি শেষে তিনি কর্মস্থলে ফিরে আসেননি। কোনো অনুমতি ছাড়াই অনুপস্থিত থাকেন। তাঁর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
এ ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়। তদন্তে তাঁর বিরুদ্ধে পলায়নের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ২০২৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে তাঁকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। এত দিন তিনি সাময়িক বরখাস্ত ছিলেন।
সিরাজগঞ্জ জেলার সাবেক পুলিশ সুপার ও পরবর্তী সময়ে বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে সংযুক্ত আরিফুর রহমান মণ্ডল গত বছরের ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন। তাঁর ব্যক্তিগত হোয়াটসঅ্যাপ ও ঠিকানায় যোগাযোগ করা হলেও তিনি কোনো জবাব দেননি।
এ ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়। তদন্তে অসদাচরণ ও পলায়নের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় গত বছরের ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে তাঁকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়। এর আগে তিনি সাময়িক বরখাস্ত ছিলেন।
ঢাকা অ্যান্টি টেররিজম ইউনিটের (এটিইউ) সাবেক পুলিশ সুপার ও পরবর্তী সময়ে বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে সংযুক্ত মোহাম্মদ ছানোয়ার হোসেন ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে অনুমতি ছাড়া ৬০ দিনের বেশি সময় কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন।
এ ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়। বিভাগীয় মামলা শেষে অসদাচরণ ও পলায়নের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় গত বছরের ১ জানুয়ারি থেকে তাঁকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার ও সুপারনিউমারারি পুলিশ সুপার পদে পদোন্নতি পাওয়া রাজীব দাস ২০২৪ সালের ১২ অক্টোবর চিকিৎসার উদ্দেশ্যে ২০ দিনের ছুটিতে থাইল্যান্ড যান। ছুটি শেষে একই বছরের ২ নভেম্বর তাঁর কর্মস্থলে যোগ দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তিনি আর কর্মস্থলে ফেরেননি।
এ ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়। বিভাগীয় মামলা শেষে অসদাচরণ ও পলায়নের দায়ে ২০২৪ সালের ২ নভেম্বর থেকে তাঁকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। এত দিন তিনি সাময়িক বরখাস্ত ছিলেন।
এপিবিএনের সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও সুপারনিউমারারি পুলিশ সুপার পদে পদোন্নতি পাওয়া পলাশ রঞ্জন দে গত বছরের ১২ আগস্ট থেকে বিনা অনুমতিতে কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন। তিনি তাঁর ব্যক্তিগত ও সরকারি মোবাইল ফোন বন্ধ রাখেন।
প্রাথমিক তদন্ত ও বিভাগীয় মামলা শেষে তাঁর বিরুদ্ধে অসদাচরণ এবং পলায়নের অভিযোগ প্রমাণিত হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত বছরের ১২ আগস্ট থেকে তাঁকে চাকরি থেকে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত অনুমোদন করা হয়েছে।