সড়ক প্রশস্তকরণ এবং সড়কের অবকাঠামো উন্নয়নে ভূমি অধিগ্রহণকে বড় সমস্যা হিসেবে দেখছেন সড়ক পরিবহন, রেল ও নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। এ জন্য বড় প্রকল্প বাস্তবায়নে জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) সহায়তা চেয়েছেন তিনি।
জেলা প্রশাসক সম্মেলনের দ্বিতীয় দিন আজ সোমবার ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়, রেলপথ মন্ত্রণালয় এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের কার্য-অধিবেশন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন রবিউল আলম।
সড়ক পরিবহনমন্ত্রী বলেন, ‘সরকারের উন্নয়ন প্রকল্পে কাজ করতে আমরা তাদের (ডিসি) সহযোগিতা চেয়েছি। বড় প্রকল্প করতে গিয়ে ভূমি অধিগ্রহণ একটি বড় সমস্যা। ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক করতে গিয়ে চার বছরেও ভূমি অধিগ্রহণ শেষ হয়নি। আমি দায়িত্বে নেওয়ার সময় ২০ শতাংশ (ভূমি অধিগ্রহণ) হয়েছিল, দুই মাসের মধ্যে সেটি ৪৬ শতাংশ হয়েছে, আগামী দুই মাসের মধ্যে শেষ করতে বলা হয়েছে।’
মন্ত্রী বলেন, অনেক প্রকল্প আছে রাস্তার দুপাশ দখল, রাস্তার ওপরে বাজার, অনেক সময় গরুর হাট চলে আসে, অবৈধ বিজ্ঞাপনের বিলবোর্ড আছে, সেগুলো অপসারণ করা দরকার। কোনো কোনো সময় যানবাহনে, বিশেষ করে, ট্রাক-কাভার্ড ভ্যান যে ভার বহন করার কথা, তার থেকে দুই-তিন গুণ বেশি বহন করে, সে বিষয়ে ডিসিদের মনোযোগ দিতে বলা হয়েছে।
রবিউল আলম বলেন, ‘রাস্তা প্রশস্ত করার চাহিদা বাংলাদেশে আছে, প্রয়োজনও আছে। এই দুই মাসে সংসদ সদস্যরা যে ডিও দিয়েছেন, তাতে রাস্তা প্রশস্ত করতে ৩ লাখ কোটি টাকা লাগবে। বাজেটে পাবেন আপনি সর্বোচ্চ ৪০ হাজার কোটি টাকা, এর আগের বাজেটের অভিজ্ঞতা থেকে বলছি। প্রাধিকার বা অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে আমাদের কাজ করতে হবে। সেই জায়গায় স্বচ্ছতার সঙ্গে, নিরপেক্ষভাবে, অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সরকার প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে চাইছে।’
হাইওয়েতে থ্রি-হুইলার চলাচল ঠেকানোর প্রচেষ্টা আছে জানিয়ে সড়ক পরিবহনমন্ত্রী বলেন, ‘কিন্তু আমাদের হাইওয়েতে এসব বাহন উঠে আসার সুযোগ যেহেতু রয়েছে, যার ফলে এটা নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না; তবে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে এটা একটু বেশি নিয়ন্ত্রণ করা গেছে। এটাকে কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায়, সেই ব্যবস্থাগুলো নিয়ে কথা হয়েছে। আশা করি, থ্রি-হুইলার পর্যায়ক্রমে নিয়ন্ত্রণ হবে।’
মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা চাচ্ছি, অগ্রাধিকার ভিত্তিতে জাতীয় মহাসড়কগুলোকে সিসি ক্যামেরায় আওতায় নিয়ে আসতে। এরপর আঞ্চলিক মহাসড়ক, তারপর জেলা মহাসড়কগুলোকে সিসি ক্যামেরার আওতায় আনতে পদক্ষেপ নিয়েছি।’
ট্রেনের লেভেল ক্রসিংয়ে দুর্ঘটনা এবং ট্রেনে পাথর ছুড়ে মারা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে সড়কমন্ত্রী বলেন, ‘সড়ক নিরাপত্তার জন্য এটি খুবই ভয়ংকর এবং এই প্র্যাকটিসটা আছে, এটা বন্ধ করার জন্য রেলওয়ে পুলিশ এবং সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা বাহিনীকে আরও তৎপর করছি। সচেতনতা বাড়ানো দরকার।’
মন্ত্রী আরও বলেন, ‘গত ঈদে দেড় কোটি মানুষ ঢাকা থেকে ঢাকার বাইরে গিয়েছিল, এবার এই সংখ্যা আড়াই কোটি হয়ে যাবে। ফলে চ্যালেঞ্জ আরও বেশি। কারণ, যানবাহনের চাপ আরও বেশি হবে। প্রতিবন্ধকতা আছে, চ্যালেঞ্জ আছে, আমরা কাজ করছি।’
গরুর হাটে চাঁদাবাজি নিয়ে এক প্রশ্নে রবিউল আলম বলেন, এটি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অবশ্যই দেখবে। সড়কে চাঁদাবাজির কোনো সুযোগ নেই। চাঁদাবাজি একটি অপরাধ। যারা চাঁদাবাজি করছে, তাদের নিয়ন্ত্রণ করা হবে, আইনের আওতায় আনা হবে এবং আইনের আওতায় আনা হয়েছে।