রাজধানীর দয়াগঞ্জ রেলক্রসিং-সংলগ্ন ঘুন্টিঘরের মাদক স্পটে অভিযান চালিয়ে তিনজনকে আটক করেছে গেন্ডারিয়া থানা-পুলিশ। আজ মঙ্গলবার সকালে চালানো এ অভিযানে তাঁদের কাছ থেকে গাঁজাসহ মাদক সেবনের বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। পূজার পর ওই এলাকায় মাদক নির্মূলে বিশেষ অভিযান চালানোর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে পুলিশ।
গেন্ডারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান খান আজকের পত্রিকাকে বলেন, পুলিশ অভিযান চালিয়ে তিনজনকে আটক করেছে। তাঁদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পূজার পর ওই এলাকার মাদকের স্পটগুলোতে অভিযান চালিয়ে বড় ধরনের পরিবর্তন আনার চেষ্টা করা হবে।
গেন্ডারিয়া থানা-পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সোমবারের যৌথ অভিযানের পরও ঘুন্টিঘরে প্রকাশ্যে মাদক বিক্রি ও সেবন চলছিল। খবর পেয়ে মঙ্গলবার সকালে সেখানে অভিযান চালায় পুলিশ। আটক তিনজনই মাদকসেবী বলে জানিয়েছে পুলিশ। তাঁদের কাছ থেকে গাঁজাসহ মাদক সেবনের বিভিন্ন সরঞ্জাম পাওয়া গেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, পুলিশ অভিযান শুরু করলে সেখানে থাকা ব্যক্তিরা দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন। অনেকে দেয়াল টপকে পালিয়ে যান। পরে ওই এলাকা থেকে তিনজনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। এরপর বেলা ১টা পর্যন্ত সেখানে মাদক বিক্রেতা ও সেবীদের আর দেখা যায়নি।
ওসি মনিরুজ্জামান খান বলেন, ঘুন্টিঘরে নিয়মিত অভিযান চালানো হয়। সেখানে ভাসমান মাদক বিক্রেতা ও সেবীদের আনাগোনা বেশি থাকায় মাদক পুরোপুরি নির্মূল করা কঠিন হচ্ছে। স্থায়ী সমাধানের চেষ্টা করছে পুলিশ। পূজা শেষে বিশেষ অভিযান চালানো হবে। প্রয়োজনে ওই এলাকায় সার্বক্ষণিক পুলিশি নজরদারিও রাখা হবে।
এর আগে গত শনিবার একই এলাকায় অস্ত্র উঁচিয়ে মাদকবিরোধী অভিযানে অংশ নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েন সদ্য সাবেক মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। ওই অভিযানের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে একজন প্রতিমন্ত্রীর এভাবে অস্ত্র প্রদর্শন করে অভিযানে অংশ নেওয়া নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। ঘটনাটি নিয়ে সরকার ও তাঁর দল বিএনপির ভেতরেও অস্বস্তি ও অসন্তোষ তৈরি হয়।
সোমবার প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিতে জাতীয় প্রেসক্লাব এসে ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন পুলিশ ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মাদকবিরোধী কার্যক্রম নিয়ে সমালোচনা করেন। ওই দিন দুপুরে তাঁর বক্তব্যের পর বেলা ৩টা থেকে ৫টা পর্যন্ত ঘুন্টিঘরে অভিযান চালায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি) ও স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়নের (এসআরবি) সদস্যরা। সে সময় ১৫ জনকে আটক করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাঁদের প্রত্যেককে তিন মাসের কারাদণ্ড ও ১০০ টাকা করে জরিমানা করা হয়।
এরপর মঙ্গলবার সকালে একই এলাকায় অভিযান চালায় গেন্ডারিয়া থানা-পুলিশ।