ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজের মধ্যে মোবাইল ফোন বহনের ওপর নির্বাচন কমিশনের (ইসি) নিষেধাজ্ঞার ঘোষণাকে অবাধ তথ্যপ্রবাহ নিশ্চিতের পরিপন্থী, অযৌক্তিক ও অপরিণামদর্শী সিদ্ধান্ত হিসেবে আখ্যায়িত করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।
সংস্থাটি বলেছে, এ ধরনের সিদ্ধান্ত নির্বাচন ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার পরিবর্তে নতুন করে সন্দেহ ও প্রশ্নের জন্ম দেবে এবং ভোটারদের আস্থা ও অংশগ্রহণ নিরুৎসাহিত করতে পারে। আজ সোমবার এক বিবৃতিতে টিআইবি এসব কথা জানায়।
টিআইবি জানায়, ভোটকেন্দ্রে মোবাইল ফোন নিষিদ্ধ করা ‘মাথাব্যথার জন্য মাথা কেটে ফেলার’ মতো সিদ্ধান্ত। নির্বাচনপ্রক্রিয়ায় অনিয়ম প্রতিরোধের যুক্তিতে এমন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হলেও বাস্তবে তা ভোটার, পর্যবেক্ষক ও গণমাধ্যমের জন্য তথ্যপ্রবাহ সীমিত করবে এবং নির্বাচনপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
টিআইবি আরও বলেছে, নির্বাচনকালে ভোটারদের নিরাপত্তা, হয়রানি বা অনিয়মের আশঙ্কা দেখা দিলে তাৎক্ষণিকভাবে তথ্য আদান-প্রদান ও প্রমাণ সংরক্ষণে মোবাইল ফোন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সে সুযোগ বন্ধ করে দিলে ভোটকেন্দ্র ঘিরে অনিয়মের অভিযোগ যাচাই কঠিন হয়ে পড়বে এবং নির্বাচন ব্যবস্থাপনার ওপর জনআস্থা ক্ষুণ্ন হওয়ার ঝুঁকি বাড়বে। এ অবস্থায় অবিলম্বে সিদ্ধান্তটি প্রত্যাহারের জন্য নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।
এর আগে গতকাল ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে ভোটকেন্দ্রে মোবাইল ফোন নিয়ে প্রবেশে বিধিনিষেধ আরোপ করে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে নির্বাচন কমিশন। নির্বাচন ব্যবস্থাপনা ও সমন্বয়-১ শাখার জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব মো. শহিদুল ইসলাম স্বাক্ষরিত প্রকাশিত ওই প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, নির্বাচন ও গণভোটের দিন ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজের মধ্যে সাধারণ ভোটারসহ কেউই মোবাইল ফোন নিয়ে প্রবেশ করতে পারবেন না।
তবে প্রজ্ঞাপনে তিন শ্রেণির ব্যক্তিকে এ নিষেধাজ্ঞার বাইরে রাখা হয়েছে। তাঁরা হলেন ভোটকেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রিসাইডিং কর্মকর্তা, সংশ্লিষ্ট ভোটকেন্দ্রের পুলিশ ইনচার্জ এবং ‘নির্বাচন সুরক্ষা ২০২৬’ অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহারকারী সর্বোচ্চ দুজন দায়িত্বপ্রাপ্ত আনসার সদস্য।