মেয়েদের বিয়ের ন্যূনতম বয়স রাষ্ট্রীয় আইনের ১৮ থেকে কমিয়ে ১৬ বছর করার দাবি বাল্যবিবাহকে উৎসাহিত করবে বলে মত দিয়েছে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে গঠিত প্ল্যাটফর্ম ‘গার্লস নট ব্রাইডস বাংলাদেশ’। পঞ্চগড় জেলা মুসলিম নিকাহ ও তালাক রেজিস্ট্রার সমিতির এ দাবির প্রতিবাদ জানিয়েছে প্ল্যাটফর্মটি।
আজ বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে গার্লস নট ব্রাইডস বলেছে, পঞ্চগড় জেলা মুসলিম নিকাহ ও তালাক রেজিস্ট্রার সমিতি সম্প্রতি মেয়েদের বিয়ের ন্যূনতম বয়স ১৬ বছর এবং ছেলেদের ১৮ বছর নির্ধারণের দাবিতে মানববন্ধন করেছে। এ ঘটনায় তারা গভীর উদ্বেগ ও তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, দেশে যখন বাল্যবিবাহের প্রবণতা ঊর্ধ্বমুখী এবং বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করছে, তখন এ ধরনের দাবি বাল্যবিবাহকে উৎসাহিত করার একটি অপকৌশল। মেয়েদের বিয়ের ন্যূনতম বয়স কমানোর এ ধরনের অযৌক্তিক দাবি বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গীকার এবং শিশু অধিকারের পরিপন্থী। সরকারি নিবন্ধনপ্রাপ্ত নিকাহ রেজিস্ট্রাররা আইন অনুযায়ী বিবাহ নিবন্ধনের দায়িত্ব পালন করেন। বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে প্রচলিত আইন মেনে চলা এবং আইন বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখাই তাঁদের কাছ থেকে প্রত্যাশিত। বিয়ের বয়স কমানোর দাবি তাঁদের দায়িত্বশীল ভূমিকার পরিপন্থী।
সরকারি নিবন্ধনপ্রাপ্ত নিকাহ রেজিস্ট্রারদের জনস্বার্থ, দেশের প্রচলিত আইন ও মানবাধিকারের প্রতি বিশেষ দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে গার্লস নট ব্রাইডস। এ ছাড়া এ ধরনের তৎপরতা প্রতিরোধে সরকারের বলিষ্ঠ অবস্থান ও কার্যকর পদক্ষেপ দাবি করেছে তারা।
গার্লস নট ব্রাইডস বাংলাদেশ কোয়ালিশনে রয়েছে—প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ, সেভ দ্য চিলড্রেন, দলিত, আইসিডিডিআরবি, বাংলাদেশ পরিবার পরিকল্পনা সমিতি, কেয়ার বাংলাদেশ, পিএসটিসি, ব্র্যাক, জাতীয় কন্যাশিশু অ্যাডভোকেসি ফোরাম, এমজেএফ, অ্যাকশনএইড বাংলাদেশ, বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট), এসডিএস, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ, বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতি (বিএনডব্লিউএলএ), ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ, ব্র্যাক জেমস পি গ্র্যান্ট স্কুল অব পাবলিক হেলথ, টেরে দেজ হোমস নেদারল্যান্ডসসহ বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান ও সংগঠন।