নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীকে গ্রেপ্তার দেখানো (শ্যোন অ্যারেস্ট) নিয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। সর্বশেষ সিদ্ধিরগঞ্জ থানার পৃথক দুটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে রুলে।
এ-সংক্রান্ত রিটের পরিপ্রেক্ষিতে আজ রোববার বিচারপতি রাজিক-আল-জলিল ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর বেঞ্চ এই রুল জারি করেন।
রিটের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সারা হোসেন। সঙ্গে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোতাহার হোসেন সাজু। ওই দুটি মামলায় গত ২ মার্চ ও ১২ এপ্রিল আইভীকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এভাবে গ্রেপ্তার দেখানোর প্রক্রিয়ার বৈধতা নিয়ে রিটটি করেন তিনি।
গত বছরের ৯ মে ভোরে নারায়ণগঞ্জ শহরের নিজ বাসা থেকে আইভীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তাঁকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের ঘটনায় হওয়া তিনটি হত্যা মামলা ও দুটি হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। পাঁচ মামলায় হাইকোর্ট থেকে গত বছরের ৯ নভেম্বর জামিন পান তিনি। তবে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগে গেলে চেম্বার আদালত গত বছরের ১২ নভেম্বর হাইকোর্টের দেওয়া জামিন স্থগিত করে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনগুলো শুনানির জন্য আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে পাঠান। আবেদনগুলো আপিল বিভাগে এখন শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে।
আইভীর আইনজীবী মোতাহার হোসেন সাজু আজকের পত্রিকাকে বলেন, পাঁচ মামলায় যেদিন হাইকোর্ট থেকে আইভী জামিন পান, সেদিনই আরও পাঁচ মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। ওই পাঁচ মামলায়ও আইভী হাইকোর্ট থেকে জামিন পান। এসব জামিন আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ।
এই আইনজীবী আরও বলেন, তবে ওই ১০ মামলা ছাড়াও তাঁকে নতুন করে আরও দুই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছিল। যার কারণে রিট করা হয়। সবশেষ দুই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো নিয়ে হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন।