হোম > জাতীয়

টেকসই নদী ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার সুপারিশ সংসদীয় কমিটির

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎

ফাইল ছবি

নদীভাঙন রোধে স্বল্পমেয়াদি ও পুনরাবৃত্তিমূলক ব্যয়ের পরিবর্তে দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই নদী ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা নেওয়ার সুপারিশ করেছে সরকারি প্রতিষ্ঠান কমিটি। নদীশাসনে আধুনিক প্রযুক্তি ও গবেষণালব্ধ অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর পাশাপাশি পলি ব্যবস্থাপনা, নিয়মিত ও ক্যাপিটাল ড্রেজিংয়ের কার্যকারিতা মূল্যায়ন এবং নাব্যতা রক্ষায় সমন্বিত কৌশল গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেছে কমিটি।

আজ বুধবার জাতীয় সংসদে অনুষ্ঠিত সরকারি প্রতিষ্ঠান কমিটির বৈঠকে এমন সুপারিশ করা হয়। সংসদ সচিবালয় থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বৈঠকে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় এবং এর আওতাধীন বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ও পানিসম্পদ পরিকল্পনা সংস্থার (ওয়ারপো) চলমান কার্যক্রম, সমস্যা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা পর্যালোচনা করা হয়।

বৈঠকে নদী-খাল-জলাধার খনন ও পুনঃখনন কর্মসূচি সমন্বিতভাবে বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। বিভিন্ন সংস্থার পৃথকভাবে খাল খননের পরিবর্তে একটি সমন্বিত নীতিমালার আওতায় কার্যক্রম পরিচালনার সুপারিশ করা হয়। একই সঙ্গে ডিএনডি এলাকার জলাবদ্ধতা, বর্জ্য ও পয়োনিষ্কাশন সমস্যা সমাধানে কার্যকর মাস্টারপ্ল্যান নেওয়ার তাগিদ দেওয়া হয়। পাউবোর দীর্ঘদিনের পাঁচ হাজারের বেশি অডিট আপত্তি দ্রুত নিষ্পত্তি, প্রকল্প বাস্তবায়নে বছরের শুরুতেই প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ এবং পাউবোর প্রাতিষ্ঠানিক ও কারিগরি সক্ষমতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়।

কমিটির আলোচনায় বর্তমান সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী পরিবেশ রক্ষা, জলবায়ু সহনশীলতা এবং দেশব্যাপী নদী-খাল খনন ও পুনঃখনন কর্মসূচিকে দীর্ঘমেয়াদি, সমন্বিত ও টেকসই পানি ব্যবস্থাপনার আওতায় বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি গুরুত্ব পায়।

সূত্র জানায়, বৈঠকে পাউবো তাদের বরাদ্দ স্বল্পতার কথা তুলে ধরে। কমিটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, যে বরাদ্দ আছে, তা দিয়েই কীভাবে টেকসই কাজ করা যায়, সেদিকে নজর দিতে হবে। একই কাজ যাতে প্রতিবছর করতে না হয়। চীন, নেদারল্যান্ডসে কীভাবে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করে, প্রয়োজনে সে অভিজ্ঞতা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।

পানিসম্পদ পরিকল্পনা সংস্থার (ওয়ারপো) সমীক্ষায় বলা হয়েছে, দেশের উত্তর-পশ্চিম হাইড্রোলজিক্যাল অঞ্চলের রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও নওগাঁ—এই তিন জেলার ৪১ শতাংশ এলাকা বর্তমানে অতি উচ্চ থেকে উচ্চমাত্রার পানিসংকটের মুখে রয়েছে।

সূত্র জানায়, প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও নওগাঁ জেলার মোট ১৫৩টি ইউনিয়নের ৩ হাজার ৫৯৩টি মৌজা পানি সংকটাপন্ন এলাকা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। এর মধ্যে ৪৭টি ইউনিয়নের ১ হাজার ৪৬৯টি মৌজা ‘অতি উচ্চ’ ও ৪০টি ইউনিয়নের ৮৮৪টি মৌজা ‘উচ্চ’ পানি সংকটাপন্ন অবস্থায় রয়েছে। এ ছাড়া ৬৬টি ইউনিয়নের ১ হাজার ২৪০টি মৌজায় ‘মধ্যম’ পানিসংকট বিদ্যমান।

এতে ঢাকার চারপাশের চারটি নদ-নদী—বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, বালু ও শীতলক্ষ্যার পানি দূষণ এবং ‘ওয়াটার কোয়ালিটি ইনডেক্স’ পরীক্ষার সমন্বিত ফলাফলও তুলে ধরা হয়। নদীর পানির গুণগত মান পরীক্ষা ও দূষণ তদারকিতে ওয়ারপো আধুনিক প্রযুক্তি ও ল্যাবরেটরি সরঞ্জাম ব্যবহার করে নিয়মিত সমীক্ষা চালাচ্ছে।

এদিকে সংসদীয় কমিটি ভূগর্ভস্থ পানির ওপর অতিরিক্ত চাপ কমাতে সংকটপূর্ণ এলাকায় গভীর নলকূপ স্থাপন কমানো, ভূ-উপরিস্থ পানির ব্যবহার বাড়ানো, ভূগর্ভস্থ পানির ব্যবহার কমানো এবং পানির পুনর্ব্যবহার নীতি অনুসরণের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে। ওয়ারপোর চলমান সমীক্ষা দ্রুত সম্পন্ন ও গবেষণা সক্ষমতা বাড়ানোরও সুপারিশ করে বলে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়।

কমিটির সভাপতি ও জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনির সভাপতিত্বে বৈঠকে আরও অংশ নেন কমিটির সদস্য ও হুইপ মিয়া নূরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু, হুইপ আখতারুজ্জামান মিয়া, তাহসিনা রুশদীর, খোন্দকার আবু আশফাক, মোহাম্মদ কয়ছর আহমেদ, বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম, মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া এবং মোহাম্মদ কামাল হোসেন।