আগামীকাল বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে সারা দেশে যানবাহন চলাচলে বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। আজ বুধবার মধ্যরাত পর্যন্ত গণপরিবহন চলাচল করবে। তবে তার আগেই, আজ দিনের বেলায় দেখা গেছে—রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে সীমিত আকারে গণপরিবহন চলাচল করছে।
পরিবহন মালিকেরা বলছেন, নির্বাচনী কাজে বিপুলসংখ্যক বাস রিকুইজিশন করায় সড়কে যানবাহনের সংকট দেখা দিয়েছে।
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কাজী মো. জোবায়ের মাসুম আজকের পত্রিকাকে বলেন, গণপরিবহন চলাচল বন্ধের কোনো সরাসরি নির্দেশনা নেই। কিন্তু বাস রিকুইজিশনের কারণে স্বাভাবিকভাবে সেবা দেওয়া যাচ্ছে না। এতে পরিবহন খাতে প্রায় ৭০ থেকে ১০০ কোটি টাকার লোকসান হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
জানা গেছে, বুধবার মধ্যরাত পর্যন্ত গণপরিবহন চলাচলের নির্দেশনা থাকলেও মোটরসাইকেল চলাচল বন্ধ রয়েছে। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী, মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১২টা থেকে মোটরসাইকেল চলাচলে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়েছে, যা ১৩ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাত ১২টা পর্যন্ত বহাল থাকবে। ইসির স্টিকারযুক্ত মোটরসাইকেল এই নিষেধাজ্ঞার বাইরে থাকবে।
এ ছাড়া আজ মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১২টা (বুধবার) থেকে ট্যাক্সিক্যাব, পিকআপ, মাইক্রোবাস ও ট্রাক চলাচল সারা দেশে বন্ধ রয়েছে। ভোট গ্রহণের দিন বৃহস্পতিবার মধ্যরাত পর্যন্ত এ নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকবে।
তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সশস্ত্র বাহিনী, প্রশাসন, অনুমতিপ্রাপ্ত পর্যবেক্ষক ও জরুরি সেবায় নিয়োজিত যানবাহন এ নিষেধাজ্ঞার আওতার বাইরে থাকবে। ওষুধ, চিকিৎসাসামগ্রী ও সংবাদপত্র পরিবহনকারী যানবাহন চলাচল করতে পারবে।
বিমানবন্দরে যাওয়া বা সেখান থেকে যাত্রী আনা-নেওয়ার ক্ষেত্রে টিকিট বা প্রমাণপত্র প্রদর্শনসাপেক্ষে যানবাহন চলাচল করতে পারবে। দূরপাল্লার যাত্রী পরিবহন ও স্থানীয়ভাবে দূরপাল্লার যাত্রী বহনের ক্ষেত্রেও নিষেধাজ্ঞা শিথিল থাকবে।
প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর জন্য একটি এবং প্রার্থী ও নির্বাচনী এজেন্টের জন্য একটি করে ছোট যানবাহন রিটার্নিং কর্মকর্তার অনুমোদন ও নির্ধারিত স্টিকারসাপেক্ষে চলাচল করতে পারবে।
টেলিযোগাযোগ সেবাকে জরুরি সেবা হিসেবে বিবেচনায় নিয়ে বিটিআরসি ও লাইসেন্সপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর যানবাহন চলাচলেও ছাড় দেওয়া হয়েছে।
জাতীয় মহাসড়ক, বন্দর এলাকা এবং আন্তজেলা বা মহানগরে প্রবেশ ও বের হওয়ার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও সংযোগ সড়কে নিষেধাজ্ঞা শিথিল থাকবে বলে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে।