দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদের ভাই আনিস আহমেদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
ঢাকার মহানগর দায়রা জজ ও সিনিয়র বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. সাব্বির ফয়েজ আজ রোববার এই নির্দেশ দেন।
আদালতের বেঞ্চ সহকারী রিয়াজ হোসেন জানান, দুর্নীতির অভিযোগে আনিস আহমেদের বিরুদ্ধে তদন্ত চলমান থাকায় তাঁর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আজ আবেদন করেন দুদকের সহকারী পরিচালক সজল হোসেন।
আবেদনে বলা হয়, আজিজ আহমেদের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে নিজ নামে ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের নামে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনসহ বিভিন্ন ব্যাংক ও হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে অর্থ পাচার করে মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর ও দুবাইয়ে ব্যবসা পরিচালনা এবং বাড়ি কেনার অভিযোগের অনুসন্ধান চলছে। অনুসন্ধানের একপর্যায়ে দুদক জানতে পেরেছে, আজিজ আহমেদের দুর্নীতির সহযোগী তাঁর ভাই আনিস আহমেদ দেশত্যাগ করে অন্য দেশে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। সুষ্ঠু অনুসন্ধানের স্বার্থে তাঁর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা প্রয়োজন।
জুলাই অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ২০২৪ সালের ১৭ অক্টোবর দুর্নীতির অভিযোগ চলমান থাকায় আজিজ আহমেদ ও তাঁর স্ত্রী দিলশাদ নাহার কাকলির দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করেন একই আদালত।
এর আগে একই বছরের ২৫ আগস্ট পিলখানায় বিদ্রোহের ঘটনায় গ্রেপ্তার তৎকালীন বাংলাদেশ রাইফেলসের (বিডিআর) উপসহকারী পরিচালক (ডিএডি) আবদুর রহিমকে কারাগারে হত্যার অভিযোগে আজিজ আহমেদসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন অ্যাডভোকেট আব্দুল আজিজ। তিনি নিহত আবদুর রহিমের ছেলে।
ওই বছরের ১৯ সেপ্টেম্বর আজিজ আহমেদ, তাঁর অপর দুই ভাই তোফায়েল আহমেদ জোসেফ ও হারিস আহমেদ এবং সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ ও র্যাব-৩-এর সাবেক অধিনায়ক শফিউল্লাহ বুলবুলের বিরুদ্ধে ১০০ কোটি টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে মামলা করেছিলেন জাপান বাংলাদেশ সিকিউরিটি প্রিন্টিং অ্যান্ড পেপারস লিমিটেডের চেয়ারম্যান সেলিম প্রধান।