মিয়ানমারে রোহিঙ্গা নাগরিকদের নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিশ্বজুড়ে বেসামরিক মানুষের সুরক্ষা এবং আন্তর্জাতিক মানবিক আইন সমুন্নত রাখতে বিশ্ব সম্প্রদায়কে আরও জোরালো ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদরদপ্তরে অনুষ্ঠিত ২০২৬ সালের ‘ইকোসক হিউম্যানিটারিয়ান অ্যাফেয়ার্স সেগমেন্ট’-এর একটি উচ্চপর্যায়ের প্যানেল আলোচনায় বক্তব্য প্রদানকালে প্রতিমন্ত্রী এই আহ্বান জানান।
একই সঙ্গে তিনি বিশ্বব্যাপী আন্তর্জাতিক মানবিক আইন লঙ্ঘনের জন্য দায়ীদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
জাতিসংঘে দেওয়া বক্তব্যে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী রোহিঙ্গা নারী ও কিশোরীদের ওপর চলমান বৈশ্বিক সাহায্য বা অর্থায়ন সংকটের নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের টেকসই ও দ্রুত প্রত্যাবর্তনের মধ্যেই এই সংকটের স্থায়ী সমাধান নিহিত। আর এই সমাধান নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নিরবচ্ছিন্ন এবং সক্রিয় সহযোগিতা অত্যন্ত জরুরি।
বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি শামা ওবায়েদ ইসলাম সংঘাত প্রতিরোধে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ বাড়ানোর দাবি জানান। তিনি মানবিক সহায়তা, শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন কার্যক্রমের মধ্যে কাজের সমন্বয় জোরদার করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।
নারী ও কিশোরীদের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সময়ে নারী ও কিশোরীরা ক্রমবর্ধমান প্রযুক্তিনির্ভর হয়রানি এবং অনলাইনের মাধ্যমে নানা ধরনের অপব্যবহারের শিকার হচ্ছে। এই ধরনের আধুনিক বৈশ্বিক হুমকিগুলো সম্মিলিতভাবে মোকাবিলা করতে একটি কার্যকর ‘বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্ম’ প্রতিষ্ঠার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
জাতিসংঘের এই অনুষ্ঠানের ফাঁকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম ভিয়েতনামের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. নগুয়েন মিন ভুর সঙ্গে একটি সৌজন্য সাক্ষাৎ ও বৈঠকে মিলিত হন।
বৈঠকে দুই দেশের প্রতিনিধিরা পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দ্বিপক্ষীয় বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। এ ছাড়া বহুপক্ষীয় কূটনৈতিক অঙ্গনে বাংলাদেশ ও ভিয়েতনামের পারস্পরিক সহযোগিতা আরও কীভাবে জোরদার করা যায়, সে বিষয়েও দুই নেতার মধ্যে ফলপ্রসূ মতবিনিময় হয়।