সরকারি অর্থ আত্মসাৎ ও বিভিন্ন অনিয়মের মাধ্যমে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে কারা বিভাগের তিন কর্মীর সম্পদের হিসাব চাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তাঁদের বিরুদ্ধে পৃথক তিনটি সম্পদ বিবরণী দাখিলের আদেশ জারির অনুমোদন দিয়েছে কমিশন।
দুদকের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বিষয়টি আজকের পত্রিকাকে জানিয়েছেন।
অভিযুক্ত ব্যক্তিরা হলেন নড়াইল জেলা কারাগারের ডেপুটি জেলার সাইফুল ইসলাম, রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারের ল্যাব টেকনিশিয়ান মো. রাফিকুল ইসলাম এবং একই কারাগারের ফ্যাক্টরি ওভারসিয়ার মো. জহুরুল ইসলাম।
দুদকের অনুসন্ধানে সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে ১১ লাখ ৪৯ হাজার ৫০০ টাকা, রাফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে ১৪ লাখ ৯৯ হাজার ২২১ টাকা এবং জহুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে ৪১ লাখ ৫১ হাজার ৩৬৯ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের তথ্য পাওয়া গেছে। তিনজনের বিরুদ্ধে মোট ৬৮ লাখ ৯৯ হাজার ৯০ টাকা অবৈধ সম্পদ অর্জনের তথ্য পেয়েছে কমিশন।
দুদক সূত্র জানায়, বিভিন্ন অনিয়ম ও সরকারি অর্থ আত্মসাতের মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ অনুসন্ধান করতে গিয়ে তাঁদের সম্পদের অসংগতি চিহ্নিত হয়। এরপর প্রত্যেকের সম্পদের উৎস ও হিসাব যাচাইয়ের জন্য সম্পদ বিবরণী দাখিলের আদেশ জারির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এ বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৬(১) ধারায় পৃথক তিনটি আদেশ জারির অনুমোদন দিয়েছে কমিশন। আদেশ অনুযায়ী, অভিযুক্ত ব্যক্তিদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তাঁদের নিজ নামে ও তাঁদের ওপর নির্ভরশীল ব্যক্তিদের নামে থাকা স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের বিবরণী দাখিল করতে হবে।
সম্পদ বিবরণী পাওয়ার পর তাঁদের ঘোষিত সম্পদের সঙ্গে বৈধ আয় ও আয়ের উৎসের সামঞ্জস্য যাচাই করবে দুদক। অনুসন্ধানে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।