দেশের বিভিন্ন এলাকায় দখল, চাঁদাবাজি, মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাত বেড়ে যাওয়ায় চলমান বিশেষ অভিযান আরও জোরদার করার নির্দেশ দিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির। আজ মঙ্গলবার সকালে পুলিশ সদর দপ্তরে আগস্ট মাসের মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় তিনি এ নির্দেশ দেন।
সভা-সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, সারা দেশে দখল, চাঁদাবাজি, মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে চলমান বিশেষ অভিযান আরও জোরদারের নির্দেশ দিয়েছেন আইজিপি। একই সঙ্গে অপরাধীদের পরিচয়ের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের দলীয় পরিচয় বিবেচনা না করার বিষয়েও কঠোর অবস্থানের কথা জানান তিনি।
সম্প্রতি রাজধানীর মিরপুর-১-এর রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি স্বাস্থ্যকেন্দ্র, ইসিবি চত্বরের নিউগ্রিনি প্রপার্টিজ, মোহাম্মদপুরের সাত মসজিদ হাউজিংয়ের একটি অফিস এবং আদাবরের শ্যামলী হাউজিংয়ের একটি বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন আইজিপি। এসব ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে সভায় আলোচনা হয়।
আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির মাঠপর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তাদের মাদক ব্যবসায়ী, সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের কঠোরভাবে আইনের আওতায় আনার নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, অপরাধীর ক্ষেত্রে কোনো ধরনের দলীয় পরিচয় বিবেচনার সুযোগ নেই। অপরাধীর একমাত্র পরিচয় সে অপরাধী।
কিশোর অপরাধীদের বিরুদ্ধেও যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন আইজিপি। পাশাপাশি মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি পুনর্ব্যক্ত করে মাদক ব্যবসা ও সরবরাহ বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান। এ ক্ষেত্রে কমিউনিটি পুলিশিংয়ের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
আসন্ন দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও নির্বিঘ্নে উদ্যাপনে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়। পূজাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ও অপপ্রচার রোধেও সতর্ক থাকতে বলা হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন অতিরিক্ত আইজি (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মো. সায়েদুর রহমান। তিনি কিশোর গ্যাংয়ের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করে তাদের পেছনে কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তি রয়েছে কি না, তা খুঁজে বের করে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।
সায়েদুর রহমান বলেন, দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে প্রতিটি ইউনিটকে নিজ নিজ নিরাপত্তা পরিকল্পনা প্রণয়ন করতে হবে। দায়িত্ব পালনের সময় পুলিশ সদস্যদের যথাযথভাবে বডি ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহারের নির্দেশ দেন তিনি। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রমকে কার্যকরভাবে কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্ব দেন। পুলিশ সদস্যদের দায়িত্ব পালনে পেশাদারত্ব বজায় রাখার আহ্বানও জানান তিনি।
সভায় আগস্ট মাসের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাসহ দেশের সার্বিক অপরাধ পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হয়। ডাকাতি, দস্যুতা, খুন, ধর্ষণ, পুলিশ আক্রান্ত ও অপহরণ মামলার পাশাপাশি মুলতবি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা, তদন্ত ও বিচার কার্যক্রম এবং সাজার হার নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়।
সভায় মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার, রেঞ্জ ডিআইজি ও জেলার পুলিশ সুপাররা ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন। পুলিশ সদর দপ্তর প্রান্তে ডিআইজি (ক্রাইম ম্যানেজমেন্ট) মোহাম্মদ আবু সুফিয়ানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।