রাষ্ট্র পরিচালনায় অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সম-অধিকারভিত্তিক নীতির অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দলমত, ধর্ম, দর্শন যার যার—রাষ্ট্র সবার।
আজ বুধবার সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তারেক রহমান বলেন, সরকার গঠনের সুযোগ দিতে যাঁরা বিএনপিকে ভোট দিয়েছেন, যাঁরা দেননি কিংবা কেউই ভোট দেননি—এই সরকারের প্রতি সবার অধিকার সমান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সরকারপ্রধান হিসেবে আমি দেশবাসীর উদ্দেশে বলতে চাই, বিএনপি সরকার বিশ্বাস করে—দলমত, ধর্ম, দর্শন যার যার, রাষ্ট্র সবার। এই দেশে একজন বাংলাদেশি হিসেবে প্রতিটি নাগরিকের অধিকার সমান।’
ভাষণের শুরুতে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘হাজারো শহীদের প্রাণের বিনিময়ে আমরা দেশ ও জনগণের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে পেরেছি। জনগণের ভোটে জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক একটি নতুন সরকার যাত্রা শুরু করেছে। দেশে গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার এই যাত্রালগ্নে আমি দেশবাসীকে আন্তরিক অভিনন্দন জানাই।’
তারেক রহমান আরও বলেন, স্বাধীনতাপ্রিয় ও গণতন্ত্রকামী জনগণের কারণেই দেশে মানুষের অধিকার, সম্মান ও মর্যাদা পুনঃপ্রতিষ্ঠার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টানসহ দলমত-ধর্ম-বর্ণনির্বিশেষে পাহাড় বা সমতলে বসবাসকারী—সবার জন্য বাংলাদেশ সমানভাবে নিরাপদ আবাসভূমি হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি স্বনির্ভর, নিরাপদ, মানবিক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠাই বিএনপি সরকারের লক্ষ্য।
উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটি ছিল তাঁর প্রথম জাতির উদ্দেশে ভাষণ। গতকাল মঙ্গলবার তিনি দেশের একাদশ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন।
এর আগে আজ দিনের শুরুতে মন্ত্রিসভার সদস্যদের নিয়ে সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে একাত্তরের মহান শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সেখান থেকে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। সেখানে তিনি ও তাঁর মন্ত্রিসভার সদস্যরা বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন। শ্রদ্ধা নিবেদন পর্ব শেষ করে প্রধানমন্ত্রী সচিবালয়ে তাঁর দাপ্তরিক কার্যক্রম শুরু করেন। সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রথম কর্মদিবসে মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠক করেন তারেক রহমান।