প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ১ অক্টোবরের ফেনী সফর ঘিরে পরশুরাম ও ফুলগাজীতে তিন স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। সভাস্থলগুলোকে রেড, ইয়েলো ও হোয়াইট জোনে ভাগ করা হবে। রেড ও ইয়েলো জোনে প্রবেশে আলাদা নিরাপত্তা কার্ড লাগবে। সফরের দিন দুই উপজেলায় পুলিশের দুই হাজারের বেশি সদস্য মোতায়েন থাকবে।
গতকাল রোববার সকাল ১০টা থেকে দুপুর ৩টা পর্যন্ত ফেনী জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে সফর উপলক্ষে চূড়ান্ত নিরাপত্তা সমন্বয় সভা হয়। সভায় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনীর (এসএসএফ) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ফেনী-১ আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল আলম মজনু, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাহবুবউল করিম, পুলিশ সুপার প্রত্যুষ কুমার মজুমদারসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা অংশ নেন।
প্রশাসনের একটি সূত্র জানায়, পরশুরাম ও ফুলগাজীর সভাস্থলে প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তায় সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিট ও এসএসএফের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে।
পুলিশ সুপার প্রত্যুষ কুমার মজুমদার বলেন, প্রধানমন্ত্রীর আগমনের দিন পরশুরাম ও ফুলগাজী উপজেলায় পুলিশের দুই হাজারের বেশি সদস্য মোতায়েন থাকবেন। প্রয়োজন অনুযায়ী সব স্থানে পুলিশ সদস্যরা নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করবেন।
ফেনীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ আল আমিন সরকার বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তাবলয় থাকবে। নিরাপত্তায় এসএসএফ ছাড়াও পুলিশ, এসআরবি, বিজিবি, কোস্টগার্ডসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা কাজ করবেন। তবে মোট কতজন সদস্য মোতায়েন থাকবেন, তা তিনি সুনির্দিষ্ট করে জানাতে পারেননি তিনি।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ১ অক্টোবর সকালে পরশুরামের ঘাটঘর এলাকায় মুহুরী নদীর তীরে একনেকে অনুমোদিত ১ হাজার ৫৪২ কোটি টাকা ব্যয়ের মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও পানি নিষ্কাশন প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী। পরে সেখানে জনসভায় বক্তব্য দেবেন তিনি।
ফুলগাজীতে একাধিক কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। খালেদা জিয়া মহিলা কলেজে বৃক্ষরোপণ এবং পরশুরাম, ফুলগাজী ও ছাগলনাইয়া উপজেলার সরকারি দপ্তরে স্থাপিত ৯৬২ দশমিক ৫ কিলোওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন সৌর প্যানেলের উদ্বোধন করবেন তিনি। পরে ফুলগাজীর জেলা পরিষদ ডাকবাংলোয় বিশ্রাম ও নামাজ আদায় করবেন।
দুপুর ৩টা থেকে ৩টা ২০ মিনিটের মধ্যে ফুলগাজী সরকারি পাইলট উচ্চবিদ্যালয় মাঠে উপস্থিত হওয়ার কথা প্রধানমন্ত্রীর। সেখানে তিনটি মন্ত্রণালয়ের যৌথ উদ্যোগে পরিবার কার্ড, ইমাম ও পুরোহিতদের ভাতা, কৃষক কার্ড এবং দরিদ্র শিক্ষার্থী ও অসহায় মানুষের সহযোগিতা কার্যক্রমে অংশ নেবেন তিনি। দলীয় নেতাকর্মী ও সুধী সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও তাঁর সাক্ষাতের কথা রয়েছে।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাহবুবউল করিম বলেন, সভাস্থলের রেড জোনে প্রবেশের সুযোগ পাওয়া ব্যক্তিদের বিশেষ নিরাপত্তা কার্ড দেওয়া হবে। ইয়েলো জোনের জন্য থাকবে আলাদা কার্ড। রেড ও ইয়েলো জোনের বাইরের এলাকা হোয়াইট জোন হিসেবে বিবেচিত হবে, যেখানে সাধারণ মানুষ প্রবেশ করতে পারবেন।
জেলা প্রশাসক বলেন, সম্ভাব্য সূচি অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী সড়কপথে পরশুরাম যাবেন। ফেরার বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
ফেনী সফর ঘিরে আনুষঙ্গিক প্রস্তুতির কাজও শেষ পর্যায়ে রয়েছে। পরশুরামের ঘাটঘর এলাকায় মুহুরী নদীর তীরে জনসভাস্থল প্রস্তুত করা হচ্ছে। পরশুরাম পাইলট উচ্চবিদ্যালয় মাঠে অস্থায়ী হেলিপ্যাড তৈরির প্রস্তুতিও চলছে।
জনসভাস্থলে মঞ্চ, উদ্বোধনী ফলকের স্থানসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো তৈরির কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। অংশগ্রহণকারীদের জন্য বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা করা হচ্ছে। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর পানির ট্যাংক, বহনযোগ্য শৌচাগার ও স্যানিটেশনব্যবস্থা স্থাপন করছে। অনুষ্ঠানস্থল ও আশপাশের এলাকায় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতাসহ অন্যান্য প্রস্তুতিমূলক কাজ চলছে।
সড়ক যোগাযোগ স্বাভাবিক ও নিরাপদ রাখতে ফেনী-পরশুরাম প্রধান সড়কের গুরুত্বপূর্ণ অংশে মেরামত ও সংস্কারকাজ করছে সড়ক ও জনপথ বিভাগ। পরশুরাম-সুবার বাজার সড়কের জনসভাস্থলের আশপাশেও সংস্কার ও প্রস্তুতিমূলক কাজ চলছে। ফুলগাজী সরকারি পাইলট উচ্চবিদ্যালয় মাঠসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, গত ১৭ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ফেনী সফরে আসার কথা ছিল। পরে সফর স্থগিত করে ১ অক্টোবর নতুন তারিখ নির্ধারণ করা হয়।