পাইকারি বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর পাশাপাশি খুচরা বিদ্যুতের দাম বাড়াতে বিতরণ কোম্পানিগুলোর ‘আবদার’ প্রত্যাখ্যান করে দাম কমানোর উপায় বের করতে নতুন শুনানি আয়োজনের দাবি জানিয়েছেন ভোক্তা প্রতিনিধিরা। পাশাপাশি বিদ্যুৎ খাতে চুরি, সিস্টেম লস এবং উৎপাদন ইউনিটে ক্যাপাসিটি চার্জের নামে হাজার কোটি টাকার বাড়তি খরচ পর্যালোচনার দাবিও তুলেছেন তাঁরা।
শুনানির একপর্যায়ে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন বিইআরসির চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ বলেছেন, ‘ক্যাপাসিটি চার্জ ও দায়মুক্তি আইনের অধীনে হওয়া বিদ্যুৎ ক্রয়চুক্তিগুলোয় (পিপিএ) থাকা ক্যাপাসিটি চার্জের বিষয়গুলো পুনরায় পর্যালোচনা প্রয়োজন। আমরা বিষয়টি সিরিয়াসলি দেখছি। কোম্পানিগুলোর ফিন্যান্সিয়াল অডিট ও ক্রয়চুক্তি পর্যালোচনা প্রয়োজন।’
আজ বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় দিনের গণশুনানিতে পিডিবিসহ ছয়টি বিতরণ কোম্পানির খুচরা বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাবের ওপর আলোচনা হয়।
শুনানিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্টিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোশাহিদা সুলতানা বলেন, ‘কোন কোন উদ্যোগ নিলে বিদ্যুতের দাম কমে আসতে পারে, এমন একটি গণশুনানির আয়োজন কেন করা হচ্ছে না? প্রতিবছর ৪২ হাজার কোটি টাকার বেশি ক্যাপাসিটি চার্জের নামে দিতে হচ্ছে। বিদ্যুতের দাম বাড়িয়ে, সরকার থেকে ভর্তুকি দিয়ে সেই টাকা উত্তোলন করা হচ্ছে। এই ক্যাপাসিটি চার্জের আদৌ প্রয়োজন আছে কি না, তা দেখার জন্য একটা ফিন্যান্সিয়াল অডিট কেন করা হচ্ছে না? পাকিস্তান ক্যাপাসিটি চার্জ বাদ দিয়ে নতুন চুক্তি করতে গেলে সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলো প্রথমে রাজি হয়নি। পরে তাদের ফিন্যান্সিয়াল অডিট করা হবে বলে ঘোষণা করা হলে তারা নতুন চুক্তি করতে রাজি হয়। বাংলাদেশেও এমনটি করার বিকল্প নেই।’
বিদ্যুতের দাম কমানোর দাবি জানিয়ে এই শিক্ষক বলেন, ‘দাম কমানোর রূপরেখা দিয়ে একটি শুনানির আয়োজন করা প্রয়োজন। দাম কমানোর একটা মডেল হাজির করুন।’
সিনিয়র সাংবাদিক শুভ কিবরিয়া বলেন, ‘বিএনপি সরকার মানুষের কষ্ট লাঘবের জন্য বিভিন্ন কার্ড বিতরণ করছে। সেখানে আমরা সাধারণ মানুষের ওপর নতুন খরচের বোঝা চাপিয়ে দিতে দাম বাড়ানোর উদ্যোগ নিলাম। এটা তো সরকারের দর্শনবিরোধী। করপোরেট ট্যাক্সের নামে টাকা তুলে সেটা আবার সাধারণ ভোক্তার ওপর চাপানো হচ্ছে। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষার কোনো বিষয় আপনার শুনানিতে স্থান পায়নি। নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসঙ্গ আপনাদের শুনানিতে আসেনি।’
বিদ্যুৎ খাতকে লাভের হাতিয়ার না বানিয়ে এটাকে ‘কস্ট প্লাস মডেলে’ নিয়ে আসার দাবি জানিয়ে শুভ কিবরিয়া বলেন, ‘দায়মুক্তি আইনটি বাতিল করার পর সেটি আবার ফিরিয়ে আনা হচ্ছে।’
বিইআরসির চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ বলেন, ‘এখন ক্যাপাসিটি চার্জ নিয়ে যে প্রশ্ন উঠছে, এটা বিদ্যুৎ ক্রয়চুক্তির মধ্যে রয়েছে। উভয় পক্ষ সম্মত হলেই চুক্তি পরিবর্তন করা সম্ভব। ক্যাপাসিটি চার্জের জন্য ভর্তুকির পরিমাণ অনেক বেড়ে গেছে। এটা জাতির জন্য একটি ক্ষতির কারণ। পরে কোনো প্রকল্প হাতে নিলে সেটা বিইআরসির পূর্বানুমতি নিতে হবে। কমিশন ক্যাপাসিটি চার্জ ও ফিন্যান্সিয়াল অডিটের বিষয়গুলো সিরিয়াসলি দেখবে।’
সিপিবির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, ‘নিম্নবিত্ত-মধ্যবিত্ত মানুষের পকেট কাটার বুদ্ধি নিয়ে এবারের গণশুনানির আয়োজন করা হয়েছে। মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাবে কোম্পানিগুলো অনেক টেকনিক্যাল বিষয় নিয়ে এসেছে, যেগুলো আমাদের মতো সাধারণ মানুষের পক্ষে বোঝা কঠিন। ৭৫ ইউনিট পর্যন্ত গ্রাহকদের বিনা মূল্যে বিদ্যুৎ দিলে কী পরিমাণ দাম বাড়িয়ে তা সমন্বয় করতে হবে, এমন একটা বিশ্লেষণ দরকার। সে জন্য বিইআরসি আইনের পরিবর্তন দরকার। বিদ্যুৎ জনগণের অধিকার, তাই এটাকে বাণিজ্যিক খাত হিসেবে বিবেচনা না করে সেবা খাত হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।’
বিদ্যুৎ খাতের অব্যাহত লোকসান প্রসঙ্গে রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, ‘এখনো সেই আগের কর্তৃত্ববাদী স্বৈরাচারের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা হচ্ছে। এটা মেনে নেওয়া যায় না, লাইফলাইন প্রত্যাহার মানে নিম্নবিত্ত-মধ্যবিত্ত মানুষের পকেটে হাত দেওয়া। আমরা চাই, বিইআরসি জনস্বার্থের প্রতিষ্ঠান হোক।’
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের শিক্ষক জেবুন্নেসা বলেন, ‘বিতরণ কোম্পানিগুলোর সিস্টেম লস বন্ধ করা বিইআরসির কাজ নয়। অবৈধ সংযোগের কারণে যে লোকসান হয়, সেটা সংশ্লিষ্ট বিতরণ কোম্পানিকেই বন্ধ করতে হবে। দুর্নীতি বন্ধ না হলে দাম এভাবে বাড়াতে হবে।’
ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটির শিক্ষক সৈয়দ মিজানুর রহমান বলেন, ‘বিদ্যুতের মতো একটি ভর্তুকি-নির্ভর খাতে বিভিন্ন রকম ট্যাক্স রয়েছে। এই শুল্ক কমিয়েও খরচ অনেক কমানো যায়। দেশের মানুষের আর্থিক অবস্থা এত উন্নত হয়ে যায়নি যে লাইফলাইন স্লাব তুলে নিতে হবে। পল্লী বিদ্যুতের লাভজনক সমিতিগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে লোকসানি সমিতিগুলো চলে। সেখানে লাভজনক সমিতি আলাদা করা দুরভিসন্ধিমূলক। এসব বিবেচনায় এই প্রস্তাব বাদ দিয়ে নতুন প্রস্তাব নিয়ে আসার আহ্বান জানাচ্ছি।’
বর্তমানে দেশে বিদ্যুৎ বিতরণকারী ছয়টি সরকারি সংস্থা ও কোম্পানির গ্রাহকসংখ্যা প্রায় ৫ কোটি। এই সংস্থাগুলো তাদের লোকসান ও পরিচালন ব্যয় সমন্বয়ের কারণ দেখিয়ে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) কাছে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে।
সম্প্রতি অনুষ্ঠিত গণশুনানিতে শুধু দাম বাড়ানোর প্রস্তাবই আসেনি, বরং গ্রাহক শ্রেণি পুনর্নির্ধারণ, প্রিপেইড মিটারে নতুন ধরনের চার্জ আরোপ, বেসরকারি হাসপাতাল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে বাণিজ্যিক ট্যারিফের আওতায় আনা এবং শিল্প গ্রাহকদের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ সৃষ্টির মতো একাধিক প্রস্তাব সামনে এসেছে।
বর্তমানে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি), পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের আওতাধীন ৮০টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি, ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ডিপিডিসি), ঢাকা উত্তর বিদ্যুৎ সরবরাহ কোম্পানি (ডেসকো), ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ওজোপাডিকো) এবং নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি (নেসকো)—এই ছয় প্রতিষ্ঠান দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিদ্যুৎ বিতরণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত হিসাবে দেশে বিদ্যুৎ বিতরণকারী ছয়টি সংস্থার মোট গ্রাহকসংখ্যা ৫ কোটি, যার প্রায় ৪ কোটি আবাসিক। বিতরণ লাইনে গড় সিস্টেম লস ৭ দশমিক ৩৮ শতাংশ হলেও কিছু কিছু সংস্থায় এই ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১০ শতাংশের কাছাকাছি, যা গ্রাহকের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে।
গণশুনানিতে পিডিবি জানিয়েছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বিদ্যমান বিদ্যুৎ ট্যারিফ বজায় থাকলে তাদের প্রতি ইউনিটে সম্ভাব্য ঘাটতি দাঁড়াবে ২৯ পয়সা। এই বিশাল আর্থিক ঘাটতি সমন্বয় করার অজুহাতে তারা খুচরা পর্যায়ে বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাব করেছে। একই সঙ্গে সংস্থাটি একটি নতুন নিয়ম চালুর প্রস্তাব দিয়েছে। বর্তমানে ৮০ কিলোওয়াট পর্যন্ত নিম্নচাপ (এলটি) গ্রাহকসীমা রয়েছে, যা কমিয়ে ৫০ কিলোওয়াট করার প্রস্তাব করা হয়েছে। অর্থাৎ ৫০ কিলোওয়াটের বেশি লোড ব্যবহারকারী গ্রাহকদের স্বয়ংক্রিয়ভাবে মধ্যচাপ (এমটি) গ্রাহক শ্রেণিতে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এতে তাদের আয় বাড়বে।
পিডিবির দাবি, বর্তমানে ৫০ কিলোওয়াটের বেশি লোডের গ্রাহকসংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। যার ফলে একই ট্রান্সফরমার থেকে সীমিতসংখ্যক গ্রাহককে বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে। এ ছাড়া মুনাফার উদ্দেশ্যে পরিচালিত বেসরকারি হাসপাতাল, মেডিকেল কলেজ এবং বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে সাধারণ ট্যারিফ থেকে সরিয়ে বাণিজ্যিক ট্যারিফের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে সংস্থাটি।
পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের আওতাধীন ৮০টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি গড়ে ৫ দশমিক ৯৩ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাব করেছে। বর্তমানে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের গড় বিক্রয়মূল্য ৮ টাকা ৫০ পয়সা হলেও লোকসান এড়াতে তাদের প্রতি ইউনিট কমপক্ষে ৯ টাকা করা প্রয়োজন।
পাশাপাশি তারা দরিদ্র ও সীমিত আয়ের মানুষের জন্য বরাদ্দ ‘লাইফলাইন’ সুবিধা আরও সংকুচিত করার প্রস্তাব দিয়েছে। নতুন প্রস্তাবে বলা হয়েছে, যেসব গ্রাহকের অনুমোদিত লোড ১ কিলোওয়াট বা তার কম এবং মাসিক বিদ্যুৎ ব্যবহার সর্বোচ্চ ৫০ ইউনিটের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে, কেবল তাঁরাই লাইফলাইন সুবিধা পাবেন। এর বাইরে ব্যাটারিচালিত চার্জিং স্টেশনগুলোর জন্য আলাদা গ্রাহক শ্রেণি তৈরি করা, ইটভাটা ও চিলিং সেন্টারগুলোকে বাণিজ্যিক থেকে শিল্প শ্রেণিতে রূপান্তর করা এবং বহুতল ভবনে একাধিক শিল্প সংযোগ দেওয়ার ব্যাপারেও তারা সুপারিশ করেছে।
রাজধানীর একাংশে বিদ্যুৎ বিতরণকারী সংস্থা ডিপিডিসি গড়ে ৬ দশমিক ৯৬ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধির আবেদন করেছে। তাদের দাবি, পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম অপরিবর্তিত থাকলেও বর্তমান পরিচালন ব্যয়ের কারণে তাদের বিপুল রাজস্ব ঘাটতি থেকে যাবে। ঘাটতি পূরণে ডিপিডিসি কিছু নতুন নিয়ম চালুর প্রস্তাব করেছে, যার মধ্যে রয়েছে প্রিপেইড মিটার ব্যবহারকারী গ্রাহকদের কাছ থেকে নতুন করে সিকিউরিটি চার্জ আদায় করা এবং যেসব গ্রাহকের পাওয়ার ফ্যাক্টর কম, তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া। এ ছাড়া যেকোনো ধরনের নির্মাণকাজে ব্যবহৃত বিদ্যুতের ট্যারিফ বর্তমানের তুলনায় দ্বিগুণ করার এবং বস্তি এলাকায় কক্ষভিত্তিক ফ্ল্যাট ট্যারিফ চালুর সুপারিশ করেছে তারা।
ঢাকা শহরের উত্তরাঞ্চল ও মিরপুর এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহকারী সংস্থা ডেসকো জানিয়েছে, ২০২২-২৩ অর্থবছর থেকে শুরু করে ২০২৪-২৫ অর্থবছর পর্যন্ত বিগত তিন বছরে তাদের মোট ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৬১১ কোটি টাকা। এই বিশাল আর্থিক ক্ষতি ও ঘাটতি মোকাবিলা করতে সংস্থাটি গড়ে ৯ দশমিক ৬৭ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাব পেশ করেছে। ডেসকো তাদের আবেদনে আরও উল্লেখ করেছে, প্রিপেইড গ্রাহকদের জন্য বর্তমানে যে রিবেট বা ছাড় সুবিধা চালু আছে, তা পুরোপুরি প্রত্যাহার করা প্রয়োজন এবং একই সঙ্গে ডিমান্ড চার্জের পরিমাণও বাড়ানো দরকার।
দেশের পশ্চিমাঞ্চলে বিদ্যুৎ বিতরণের দায়িত্বে থাকা ওজোপাডিকো জানিয়েছে, বিগত দিনগুলোতে পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম যেভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, সেই তুলনায় খুচরা পর্যায়ের ট্যারিফ সমন্বয় করা হয়নি। এর ফলে বর্তমানে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ বিতরণে তাদের ৮৫ পয়সার বেশি ঘাটতি তৈরি হচ্ছে।
এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য সংস্থাটি আবাসিক লাইফলাইন গ্রাহকদের জন্য ৮ শতাংশ এবং অন্যান্য সাধারণ আবাসিক গ্রাহকদের জন্য ১২ দশমিক ২৫ শতাংশ পর্যন্ত ট্যারিফ বৃদ্ধির প্রস্তাব করেছে। একই সঙ্গে ইজিবাইক চার্জিং স্টেশনগুলোকে বাণিজ্যিক ট্যারিফের আওতায় এনে রাজস্ব বাড়ানোর দাবি জানিয়েছে তারা।
উত্তরাঞ্চলের বিদ্যুৎ বিতরণকারী কোম্পানি নেসকো জানিয়েছে, বিদ্যুৎ ক্রয় এবং তা গ্রাহক পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়ার বিতরণ ব্যয় ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। হিসাব অনুযায়ী, আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে তাদের নিজস্ব বিতরণ ব্যয় প্রতি ইউনিটে ১ টাকা ৬৬ পয়সায় গিয়ে পৌঁছাবে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বিতরণ ব্যয় ছিল ১ টাকা ২৮ পয়সা। এ ছাড়া অন্যান্য কারণে সংস্থাটি প্রতি ইউনিটে ৩৮ পয়সা হারে লোকসান দিচ্ছে। এই ক্রমবর্ধমান ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এবং নতুন পাইকারি মূল্যের ওপর ভিত্তি করে খুচরা ট্যারিফ পুনর্নির্ধারণ বা বাড়ানোর জন্য বিটিআরসির কাছে আবেদন জানিয়েছে সংস্থাটি।
বিতরণ সংস্থাগুলোর এসব ঢালাও প্রস্তাবের বিপরীতে কারিগরি মূল্যায়ন কমিটি (জিইসি) বেশ কিছু বিষয়ে কড়া আপত্তি ও সতর্কতা জানিয়েছে। কমিটি স্পষ্ট করে বলেছে, নিম্নচাপ বা এলিট গ্রাহকের লোড সীমা ৮০ কিলোওয়াট থেকে কমিয়ে হুট করে ৫০ কিলোওয়াটে নামানো ঠিক হবে না। এটি করার আগে একটি স্বাধীন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ‘রেগুলেটরি ইমপ্যাক্ট অ্যাসেসমেন্ট’ বা এর প্রভাব মূল্যায়ন করা জরুরি।
একইভাবে কোনো বেসরকারি হাসপাতাল, মেডিকেল কলেজ বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে ঢালাওভাবে বাণিজ্যিক গ্রাহক হয়েছে বিবেচনা করা সামাজিক দৃষ্টিকোণ থেকে যথাযথ নয় বলে মত দিয়েছে জিইসি। কমিটি আরও যোগ করেছে, যেসব গ্রাহকের নন-ডিমান্ড মিটার রয়েছে, তাদের বিদ্যুৎ ব্যবহার দেখে অনুমানের ওপর ভিত্তি করে অতিরিক্ত লোড নির্ধারণ করা অন্যায়। এর পরিবর্তে পর্যায়ক্রমে সব জায়গায় ডিমান্ড মিটার স্থাপন করা উচিত।