মালয়েশিয়া ও বাংলাদেশ সরকারের মধ্যে শ্রমিক নিয়োগের চুক্তি অনুযায়ী বিমানভাড়াসহ সাকল্যে জনপ্রতি ব্যয় ঠিক হয়েছে ৭৮ হাজার ৯৯০ টাকা। কিন্তু রিক্রুটিং এজেন্সির একটি চক্র নিয়ম ভঙ্গ করে শ্রমিকদের কাছ থেকে এর পাঁচ গুণ বেশি অর্থ আদায় করেছে। এভাবে তারা হাতিয়ে নিয়েছে প্রায় সাড়ে চার হাজার কোটি টাকা। অনুসন্ধানে এর পক্ষে প্রমাণ পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
আজ বুধবার দুর্নীতিবিরোধী সংস্থাটির মহাপরিচালক আক্তার হোসেন সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়েছেন।
দুদক মহাপরিচালক বলেন, ৬০টি রিক্রুটিং এজেন্সির ২ লাখ ৬৭ হাজার ২৭৬ জন শ্রমিকের কাছ থেকে অতিরিক্ত ৪ হাজার ৫৪৫ কোটি ২০ লাখ ৮২ হাজার ৫০০ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার প্রমাণ পেয়েছে দুদক। এই অভিযোগে মালিকসহ এসব এজেন্সির ১২৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুদক।
সিন্ডিকেট তৈরিসহ বিভিন্ন অনিয়মের কারণে ২০১৮ সালে বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক নেওয়া বন্ধ করেছিল মালয়েশিয়া। ২০২১ সালের ১৯ ডিসেম্বর দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশটি আবার বাংলাদেশ থেকে কর্মী নেওয়ার চুক্তি করে। তখন কর্মী ভিসায় যেতে সর্বোচ্চ ৭৮ হাজার ৯৯০ টাকা ফি নির্ধারণ করে সরকার। তবে অতি গুরুত্বপূর্ণ শ্রমবাজারটিতে ব্যবসার সুযোগ ফিরে পেয়েও চুক্তি ভঙ্গ করে রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো।
দুদকের তথ্য অনুযায়ী, গত চার বছরে মালয়েশিয়াগামী শ্রমিকদের কাছ থেকে মোট ৯০টি রিক্রুটিং এজেন্সি হাতিয়ে নিয়েছে ৭ হাজার ৯৮৪ কোটি ১৫ লাখ ৭ হাজার ৫০০ টাকা। এজেন্সিগুলোর মালিক, সংশ্লিষ্টসহ মোট ২৩২ জন দায়িত্বশীল ব্যক্তির বিরুদ্ধে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের সুস্পষ্ট প্রমাণ পেয়েছে তদন্তকারী সংস্থা। এর আগে ৩০টি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এবার ৬০ কোম্পানির বিরুদ্ধে পৃথক মামলার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
অভিযুক্ত জনশক্তি ব্যবসায়ীদের মধ্যে রয়েছেন জনতা ট্রাভেলসের মালিক ও বিসিবির পরিচালক আমজাদ হোসেন, ত্রিবেণী ইন্টারন্যাশনালের সেলিনা আলী, নাবিলা আলী, মোহাম্মদ নুরুজ্জামান অ্যান্ড সন্সের কাজী মোহাম্মদ ফুহাদুর রহমান। তাঁরাসহ ১২৪ জনকে আসামি করা হয়েছে।
কয়েক গুণ বেশি অর্থ নেওয়ার দায়ে অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে সরকার ইন্টারন্যাশনাল, গাজীপুর এয়ার ইন্টারন্যাশনাল, পাথফাইন্ডার ইন্টারন্যাশনাল, ঐশী ইন্টারন্যাশনাল, ত্রিবেণী ইন্টারন্যাশনাল, মালয়েশিয়া বাংলাদেশ হোল্ডিংস প্রাইভেট লিমিটেড, আল বোখারী ইন্টারন্যাশনাল, মেসার্স আল রাবেতা ইন্টারন্যাশনাল, দ্য সুপার ইস্টার্ন লিমিটেড, ট্রান্স এশিয়া ইন্টারগ্রেট সার্ভিসেস লিমিটেড, স্ট্যান্ডফোর্ড এমপ্লয়মেন্ট, পিএন এন্টারপ্রাইজ কোম্পানি, দরবার গ্লোবাল ওভারসিজ, মেসার্স নিউ এজ, এএনজেড মাল্টিন্যাশনাল, নেক্সট ওভারসিজ, জনতা ট্রাভেলস, এমএস এশা ইন্টারন্যাশনাল, এমএস শান ওভারসিজ, মনছুর আলী ওভারসিজ অ্যান্ড ট্রাভেলস, থানেক্স ইন্টারন্যাশনাল, হায়দরী ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল, এজিএ ইন্টারন্যাশনাল, বেসিক পাওয়ার অ্যান্ড কেয়ার ওভারসিজ, ইস্ট ওয়েস্ট প্যারাডাইজ, কিসওয়া এন্টারপ্রাইজ লিমিটেড, ম্যাচ ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল, নাতাশা ওভারসিজ, নিউ হ্যাভেন ইন্টারন্যাশনাল, রমনা এয়ার ইন্টারন্যাশনাল, ইউনাইটেড এক্সপোর্ট, উইন ইন্টারন্যাশনাল, মদীনা ওভারসিজ, আমিন ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলস, মৃধা ইন্টারন্যাশনাল করপোরেশন, ম্যানেজ পাওয়ার করপোরেশন, প্রান্তিক ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুরিজম লিমিটেড, আইএসএমটি হিউম্যান রিসোর্স ডেভলপমেন্ট লিমিটেড, সুলতান ওভারসিজ, প্রভাতি ইন্টারন্যাশনাল।
বাকি প্রতিষ্ঠানগুলো হলো—বিডি গ্লোবাল বিজনেস, সাদিয়া ইন্টারন্যাশনাল, গ্যালাক্সি করপোরেশন, আল ফারাহ হিউম্যান রিসোর্সেস অ্যান্ড কনসালট্যান্সি, অপরাজিতা ওভারসিজ, আরআরসি হিউম্যান রিসোর্সেস সার্ভিসেস লিমিটেড, আল খামিস ইন্টারন্যাশনাল, ফোর সাইট ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড, এমএস কাশিপুর ওভারসিজ, মুবিন এয়ার ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড, জেজি আলফালাহ ম্যানেজমেন্ট, দেশারি ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড, এমএস আল হেরা ওভারসিজ, ফিউচার ইন্টারন্যাশনাল, মোহাম্মদ নুরুজ্জামান অ্যান্ড সন্স লিমিটেড, আহাদ ইন্টারন্যাশনাল, আমান এন্টারপ্রাইজ, আক্তার রিক্রুটিং এজেন্সি, রানওয়ে ইন্টারন্যাশনাল, এমএস এলিগ্যান্টস ওভারসিজ লিমিটেড, ঢাকা লিমিটেড, আল রাবেতা ইন্টারন্যাশনাল, আমিয়াল ইন্টারন্যাশনাল, ব্রাদার্স ইন্টারন্যাশনাল, ইম্পেরিয়াল রিসোর্সেস লিমিটেড।