সিটি করপোরেশন, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা, ইউনিয়ন পরিষদ ও জেলা পরিষদে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল স্থাপনের জন্য ৩৭০ কোটি টাকা ছাড় করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। অতিরিক্ত বিদ্যুৎ সরকারের কাছে বিক্রি করে ৩ থেকে ৪ বছরের মধ্যে এ ব্যয় উঠে আসবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।
আজ সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে স্থানীয় সরকার বিভাগের আওতাধীন দপ্তর, সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানগুলোতে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল স্থাপনবিষয়ক সংবাদ সম্মেলনে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
মীর শাহে আলম বলেন, রাস্তাঘাট, ড্রেন ও কালভার্টের মতো সৌরবিদ্যুৎও সরকারের উন্নয়নমূলক কাজ। এ খাতে ব্যয় করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, তিন হাজার ইউনিয়ন পরিষদে ১২০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদে ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়েছে, যা দিয়ে ৫ দশমিক ৫ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যবস্থা করা হবে।
ইউনিয়ন পরিষদের নিজস্ব আয়ের কথাও তুলে ধরেন মীর শাহে আলম। তিনি বলেন, হাট-বাজার থেকে ইউনিয়ন পরিষদ ৫ শতাংশ আয় করে এবং ভূমি রেজিস্ট্রেশন থেকে ১ শতাংশ পায়। সরকারি বরাদ্দের সঙ্গে নিজস্ব রাজস্ব যুক্ত করে দ্বিগুণ বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যাবে। উৎপাদিত বিদ্যুৎ নিজেদের ব্যবহারের পাশাপাশি জাতীয় গ্রিডেও দেওয়া যাবে।
বরাদ্দের হিসাব তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ইউনিয়ন পরিষদে ১২০ কোটি টাকা, সিটি করপোরেশনে ৭৫ কোটি টাকা, উপজেলা পরিষদে ৯৯ কোটি টাকা, পৌরসভায় ৬৪ কোটি টাকা এবং জেলা পরিষদে ১২ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে পাঁচ প্রতিষ্ঠানে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতের জন্য ৩৭০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
ব্যয় পুনরুদ্ধার প্রসঙ্গে মীর শাহে আলম বলেন, নিজেদের ব্যবহারের পর অতিরিক্ত বিদ্যুৎ প্রতি ইউনিট ১০ টাকা ৫০ পয়সা দরে সরকারের কাছে বিক্রি করলে ৩ থেকে ৪ বছরের মধ্যে ব্যয় করা অর্থ উঠে আসবে। পরবর্তী ২০ বছর গ্যারান্টি ও ওয়ারেন্টির সময় অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিক্রির আয় স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো রাজস্ব হিসেবে পাবে।
স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর খেয়াঘাট, হাট-বাজার, পৌর এলাকায় পরিবহন চলাচলের কর, ট্রেড লাইসেন্স ও হোল্ডিং করসহ বিভিন্ন উৎস থেকে রাজস্ব আয়ের ব্যবস্থা রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, রাজস্ব আহরণের সঙ্গে নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে আয়ের পথও তৈরি করা হচ্ছে।