বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় নারায়ণগঞ্জে চালানো হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমানসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে।
আজ বুধবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এই আদেশ দেন। সেই সঙ্গে এই মামলায় প্রসিকিউশনের সূচনা বক্তব্য ও সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য আগামী ১০ জুন দিন ধার্য করা হয়েছে।
গত ২৩ এপ্রিল অভিযোগ গঠনের শুনানি শেষ হলে আদেশের জন্য ১৩ মে দিন ধার্য করা হয়। এর আগে গত ১৯ জানুয়ারি আসামিদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করার পর তা আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল। সেই সঙ্গে পলাতক থাকায় ১২ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।
ট্রাইব্যুনালে জমা দেওয়া অভিযোগে বলা হয়, ২০২৪ সালে গণ-অভ্যুত্থান চলাকালে শেখ হাসিনা মারণাস্ত্র ব্যবহার করে যেকোনো মূল্যে আন্দোলন দমনের নির্দেশ দেন। ওই নির্দেশনা বাস্তবায়নের জন্য এ কে এম শামীম ওসমান তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন। ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই শামীম ওসমান তৎকালীন সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরকে ফোন করে বলেন, ‘পুলিশ কিছু করতে পারছিল না, সাহায্য চাইছে, আমাকে হাতে অস্ত্র নিতে হইছে। আর অস্ত্র ছাড়া মুভ করা যাচ্ছে না।’
অভিযোগে আরও বলা হয়, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় শামীম ওসমানের নির্দেশনা ও উপস্থিতিতে তাঁর ছেলে অয়ন ওসমান, ভাতিজা আজমেরী ওসমান, অয়ন ওসমানের শ্যালক আহমদ মিনহাজুল আবেদীন ভিকি, শামীম ওসমানের শ্যালক তানভির আহম্মেদ টিটু উপস্থিত থেকে আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে নিরস্ত্র আন্দোলনকারীদের লক্ষ্য করে নির্বিচারে গুলি করেন। আন্দোলনরত শিক্ষার্থী পারভেজ, মাদ্রাসাছাত্র কিশোর আদিল, গার্মেন্টসকর্মী ইয়াসিন, বাসচালক আবুল হোসেন মিজি, গার্মেন্টসকর্মী রাসেল রানাসহ ছয় বছরের শিশু রিয়া গোপকে হত্যা করা হয়। একই সঙ্গে অসংখ্য আন্দোলনকারীকে মারাত্মক জখম করা হয়।