দেশের বিভিন্ন কারাগারে বন্দী মায়েদের সঙ্গে ৩ শতাধিক শিশু রয়েছে বলে হাইকোর্টে প্রতিবেদন দিয়েছে সমাজসেবা অধিদপ্তর। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী কামরুন নাহার মাহমুদ দীপার দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্টের আদেশ অনুযায়ী ওই প্রতিবেদন দেওয়া হয়।
আজ সোমবার রিটকারী আইনজীবী কামরুন নাহার দীপা প্রতিবেদনের বিষয়টি সাংবাদিকদের জানান।
দেশের বিভিন্ন কারাগারে মায়ের সঙ্গে কত শিশু রয়েছে, তা গত ১৫ জুন এক আদেশে জানতে চেয়েছিলেন হাইকোর্ট। দুই মাসের মধ্যে সার্বিক বিষয়ে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছিল। সেই সঙ্গে দেশের কারাগারগুলোতে মায়েদের সঙ্গে অবস্থানরত শিশুদের যথাযথ নিরাপত্তা, কল্যাণ ও বিকাশের পরিবেশ নিশ্চিতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুলও জারি করেছিলেন আদালত। হাইকোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী গত ৮ সেপ্টেম্বর এই প্রতিবেদন দেওয়া হয়।
সমাজসেবা অধিদপ্তরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম ‘প্রবেশন অ্যান্ড আফটার কেয়ার সার্ভিসেস’ বর্তমানে দেশের ৬৪টি জেলা এবং ৮টি সিএমএম আদালতসহ মোট ২৬টি ইউনিটে পরিচালিত হচ্ছে। এই কার্যক্রমের আওতায় নিবন্ধিত স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘অপরাধী সংশোধন ও পুনর্বাসন সমিতি’ কাজ করে থাকে। মাঠ পর্যায় থেকে প্রাপ্ত সর্বশেষ তথ্যমতে বর্তমানে দেশের বিভিন্ন কারাগারে বন্দী মায়েদের সঙ্গে ৩ শতাধিক শিশু অবস্থান করছে।
প্রবেশন কর্মকর্তার তত্ত্বাবধানে ‘অপরাধী সংশোধন ও পুনর্বাসন সমিতির’ মাধ্যমে কারাগারে আটক মায়েদের সঙ্গে অবস্থানরত এসব শিশুদের প্রাথমিক বিকাশ ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে নিয়মিত খেলনা, পোশাক এবং পুষ্টিকর শিশুখাদ্য সরবরাহ করা হচ্ছে। এই মানবিক কার্যক্রমটি মূলত জাতীয় সমাজকল্যাণ পরিষদের অনুদান এবং সমাজের হৃদয়বান ব্যক্তিদের স্বদস্ফুত দানের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। সরাসরি শিশু সুরক্ষা ইউনিটের আওতায় কারাগারে পৃথক কোনো কার্যক্রম না থাকলেও প্রবেশন শাখার মাধ্যমে শিশুদের মৌলিক চাহিদা পূরণের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
প্রতিবেদনে দুটি সুপারিশ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—নির্দিষ্ট বয়স বা সময়সীমা শেষে কারাবন্দী মায়ের সঙ্গে থাকা শিশুকে তার সর্বোত্তম স্বার্থে সমাজের নিকটাত্মীয়দের কাছে ফস্টার কেয়ার বা বিকল্প পারিবারিক যত্নের আওতায় পুনর্বাসন করা। এ ছাড়া শিশুর নিকটাত্মীয়ের কাছে পুনর্বাসনের সুযোগ না থাকলে বা তা শিশুর জন্য নিরাপদ স্থান না হলে, সমাজসেবা অধিদপ্তরের আওতাধীন ‘সরকারি শিশু পরিবার’ বা উপযুক্ত নিরাপদ আবাসন কেন্দ্রে রেখে লালন-পালন ও শিক্ষার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।