সরকার গঠনের পর প্রথমবারের মতো আজ সোমবার বরিশাল সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সফরের অংশ হিসেবে বরিশালের গৌরনদী উপজেলায় প্রথম কর্মসূচি হিসেবে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি এবং ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করবেন বলে জানা গেছে। এরই মধ্যে তিনি গৌরনদীতে পৌঁছে গেছেন প্রধানমন্ত্রীর আগমনে স্থানীয় নেতা–কর্মীদের মাঝে উৎসবের আমেজ বইছে। নেতা–কর্মীরা স্বাগত জানাতে বৃষ্টিস্নাত আবহাওয়ার মধ্যেও রাস্তার দুই পাশে দাঁড়িয়ে গেছেন।
প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে ঘিরে বরিশালসহ পুরো দক্ষিণাঞ্চলে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে দীর্ঘদিনের কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা আসতে পারে—এমন প্রত্যাশায় রয়েছেন এ অঞ্চলের মানুষ। বৃষ্টির কারণে সেখানে থাকছে না দলীয় কোনো জনসভা। তবে জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে সাংগঠনিক সভায় যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী।
সফরসূচি অনুযায়ী—আজ সোমবার সকালে গৌরনদী উপজেলার বাটাজোরে একটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী। পরে নগরের ত্রিশ গোডাউন সংলগ্ন বধ্যভূমির খালের পাড়ে আরেকটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেবেন তিনি। দুপুরে বরিশাল শিল্পকলা একাডেমিতে জেলা ও মহানগর বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় ও সাংগঠনিক সভায় যোগ দেওয়ার কথাও রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের প্রত্যাশায় রয়েছে ঢাকা-বরিশাল ছয় লেন মহাসড়ক নির্মাণ, বরিশালে রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা (ইপিজেড) স্থাপন, ভোলা-বরিশাল সেতু নির্মাণ এবং পাইপলাইনের মাধ্যমে গ্যাস সরবরাহসহ দীর্ঘদিনের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প। স্থানীয়দের মতে, এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান, বিনিয়োগ ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন গতি আসবে।
বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আকন কুদ্দুসর রহমান বলেন, আমাদের প্রাণের দাবি ভাঙা থেকে কুয়াকাটা ৬ লেন সড়ক। এটা হলে পায়রা বন্দর সচল হবে। চায়নার (চীনের) সঙ্গে আমাদের যুক্ত হতে সহজ হবে। পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। দেশের জিডিপির এক-তৃতীয়াংশ দক্ষিণাঞ্চল থেকে আসে। যদি পায়রা বন্দর সচল হয়, পটুয়াখালীর ইপিজেড চালু হয়—তাহলে পর্যটনকেন্দ্র কুয়াকাটা ঘিরে জিডিপি আরও বাড়বে।’ ৬ লেনের বাজেট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী চাইলে সম্ভব। তাতে এ অঞ্চলের অর্থনীতির অভূতপূর্ব উন্নয়ন ঘটবে।’